নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রশ্নে আ. লীগের অবস্থান জানতে চান মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২২ মার্চ ২০২৩, ২৩:৪২আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ০০:১১

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আমন্ত্রণে তার বাসায় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার (২২ মার্চ) দুপুরের এ বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, বিরোধীদের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির প্রশ্নে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী, সরকারের নির্বাচন প্রস্তুতি কেমন—ইত্যাদিসহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি সাংবাদিকদের। তবে জানতে বুধবার রাতে প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকরা প্রায়ই বসে থাকেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও তারা বসছেন। সামনে যেহেতু জাতীয় নির্বাচন, সেহেতু আলাোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এটি। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

জানা গেছে, এদিন দুপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এতে আরও ছিলেন— দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয় মার্কিন কূটনীতিকদের। এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি, কোন পদ্ধতিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে— এসব বিষয়ে সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অবস্থানসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চায় মার্কিন কূটনীতিকরা।

বৈঠকের এক পর্যায়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জানান, নানান সময়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে, তারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অবস্থান কী? জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, তারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আনলেও ২০০১ ও ২০০৬ সালে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় যে, দেশে ১/১১ এর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং অনির্বাচিত একটা সরকার দুই বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিরাজনীতিকীকরণের চেষ্টা চালায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের আরও কোনও সরকার দেশে আসুক, তা আওয়ামী লীগ চায় না।

এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতারা উল্লেখ করেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচন হবে। আইনের মাধ্যমে এখন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে সরকার। সাংবিধানিক এই সংস্থাটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে, তাতে সরকার কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। সুতরাং নির্বাচন প্রশ্নে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনও সুযোগ নাই। বিএনপি নির্বাচনে আসলে অতীতের চেয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। স্বাধীনভাবে নির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন, সরকার কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বরং সব রকমের সহযোগিতা করবে। এ নির্বাচনে যারা জিতবে, তারা সরকার গঠন করবে— বলছে বৈঠক সূত্র।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়মের নানা অভিযোগ মার্কিন কূটনীতিকদের জানিয়েছে বিএনপি নেতারা। বিষয়টি আলোচনার টেবিলে উঠলে আওয়ামী লীগের নেতারা বিরোধীদের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। এর বিপরীতে তারা বিএনপি সরকারের সময়ে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এদিকে, বুধবার (২২ মার্চ) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগের এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়কের ভূত ভুলে যেতে হবে। ঐ ভূত আর বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। আজকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলে এসেছি- এদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসবে না।

এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাতটি দেশের কূটনীতিকরা। ওই বৈঠকেও নেতৃত্ব দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল দলের অংশগ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগও চায় একটি ভালো, ত্রুটিমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ কারও নির্দেশনা শোনে না, সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে।

ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, বিএনপি বেশ কিছু দিন ধরে পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ও গোপন বৈঠকে কিছু বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সঙ্গে কূটনীতিকদের বৈঠকেও সেই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তবে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তাদের (কূটনীতিক) মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, নির্বাচনি রাজনীতি বা প্রচারে বাধা না দেওয়া, নেতাকর্মীদের নামে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করা, নতুন করে মামলা দায়ের বা গ্রেফতার না করা, সংলাপে বসে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে আসা। এসব বিষয়ে সরকারের ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন-

আ. লীগ সংবিধান ছাড়া কারো নির্দেশনা শোনে না

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধি দলের বৈঠক

পশ্চিমাদের দিয়েই বিএনপিকে চাপে ফেলার কৌশলে আ.লীগ 

কূটনৈতিক-রাজনৈতিক চ্যানেলে বিএনপিকে বার্তা আ.লীগের

/আরআইজে/
সম্পর্কিত
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
সর্বশেষ খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী