জামায়াতের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের জবাব

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৯, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৯, নভেম্বর ২১, ২০১৯

প্রচ্ছদ
বাংলা ট্রিবিউনে বুধবার (২০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে প্রকাশিত ‘‘সেক্রেটারি জেনারেলের পদ নিয়ে জামায়াতে ‘সিচুয়েশন ক্রিটিক্যাল’’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম। তিনি দাবি করেছেন, ‘প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর ও কাল্পনিক।’ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে দলটির প্রচার বিভাগ থেকে এম আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।

প্রতিবাদলিপিতে প্রতিবেদন সম্পর্কে তাসনীম আলম অভিযোগ করেন, ‘প্রতিবেদক গঠনতান্ত্রিক বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ সম্পর্কে কাল্পনিক প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। জামায়াতের মধ্যে ডান, উদারপন্থী কিংবা উগ্রপন্থী বলে কোনও কিছুর অস্তিত্ব নেই।’

তাসনীম আলম আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, সংগঠনের কোনও পদের জন্য কারও আগ্রহ প্রকাশ করা কিংবা প্রচার করার কোনও সুযোগ নেই। জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই ধরনের কোনও অপতৎপরতা চালানো গর্হিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। কাজেই জামায়াতের কারও ওই ধরনের অপতৎপরতা চালানোর প্রশ্নই আসে না।’

প্রচার বিভাগের এই সেক্রেটারি বলেন, ‘এ প্রতিবেদনটি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, বাংলাদেশ জামায়াতের নতুন নির্বাচিত আমির ডা. শফিকুর রহমান শপথ নেওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনের নির্দিষ্ট ফোরামে আলোচনা করেই দলের নতুন সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ করবেন। সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ নিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের জল্পনা-কল্পনা শুরু হওয়া এবং সংগঠনের মধ্যে ঐকমত্য নেই বলে যে কথা লেখা হয়েছে, তা মোটেই সত্য নয়। এ নিয়ে আগে থেকে জল্পনা-কল্পনার কোনও সুযোগ নেই। বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।’

তাসনীম আলম দাবি করেন, ‘জামায়াতের নতুন আমির কাকে পছন্দ করেন, তা তিনি প্রকাশ করেননি বিধায় বাংলা ট্রিবিউনের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক বা অন্য কারও তা জানার এবং প্রকাশ করার কোনও সুযোগ নেই।’

জামায়াতের-বিবৃতি

প্রতিবাদলিপিতে আরও তাসনীম আলম অভিযোগ করেছেন, ‘জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকে উগ্রপন্থী হিসেবে অভিহিত করে বাংলা ট্রিবিউনের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তাকে ব্ল্যাক মেইল করেছেন, যা তার জন্য মানহানিকরও বটে।’

প্রতিবেদকের জবাব

‘‘সেক্রেটারি জেনারেলের পদ নিয়ে জামায়াতে ‘সিচুয়েশন ক্রিটিক্যাল’’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সব তথ্য সংশ্লিষ্ট দলের দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তৈরি করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ, দায়িত্বশীল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উইংয়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা থাকায় সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা মেনেই তাদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। উপরন্তু, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জামায়াতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও দলীয় বুদ্ধিজীবী সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নানেরও বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে তাসনীম আলম ‘প্রতিবেদক গঠনতান্ত্রিক বিধান সম্পর্কে না জানার কারণে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ সম্পর্কে কাল্পনিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন’ বলে যে অভিযোগ করেছেন, তা ঠিক নয়। প্রতিবেদনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অনুচ্ছেদে দলের গঠনতন্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়েই নেতারা সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ-সংক্রান্ত যে তথ্য দিয়েছেন, তাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকী শাহ আবদুল হান্নানের বক্তব্যেও তা পরিষ্কার।

জামায়াতের সেক্রেটারি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে নতুন আমির কাকে পছন্দ করেন—এ বিষয়ে প্রতিবেদনে নেতাদের উদ্ধৃত করেই বিষয়টি ‘দলে প্রচার আছে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানকে ‘উগ্রপন্থী’ উল্লেখ করার বিষয়টি মোটেও মানহানি কিংবা ব্ল্যাক মেইলিংয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়নি, বরং এতে দলের কয়েকজন নেতার ‘দৃষ্টিভঙ্গিই’ তুলে ধরা হয়েছে। লক্ষণীয়, বিষয়টি সম্পর্কে রফিকুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার দিক থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র ও তথ্যের যাচাই-বাছাই করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

/এসটিএস/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ