X
বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ২৩ বৈশাখ ১৪২৮

সেকশনস

বুনো হাতির আতঙ্কে কাপ্তাই, চালু হবে সোলার ফেন্সিং

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২১, ১০:০০

রাঙামাটির কাপ্তাইতে বেড়েছে বন্য হাতির আক্রমণ। প্রায়ই সড়ক ও সরকারি স্থাপনায় ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে ডাঙ্গার সবচেয়ে বড় প্রাণীটি। বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। মার্চে হাতির আক্রমণে কাপ্তাইয়ে দুই জন এবং গত দুই বছরে মারা গেছে আট জন। এ ছাড়া ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতিও হচ্ছে ঢের। সমস্যা সমাধানে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোলার ফেন্সিং সিস্টেম বসানোর কথা ভাবছে বনবিভাগ।

কাপ্তাইয়ের প্রশান্তি পার্ক, শিলছড়ি গেইট প্রবেশমুখ, লগগেইট, নৌবাহিনী সড়ক, কামিলাছড়ি-আসামবস্তি সড়ক, রাইখালি, ব্যাঙছড়িসহ কয়েকটি এলাকার পাহাড়ে রয়েছে বুনো হাতির পাল। পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত খাবারের ওপর নির্ভরশীল এসব হাতি খাবারের সন্ধানে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়। বন বিভাগের তথ্যমতে, কাপ্তাই রিজার্ভ ফরেস্টে এখন ৪০টি বুনো হাতি আছে।

প্রাকৃতিক খাবার কমে যাওয়া, বনে-জঙ্গলে মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাওয়া, সড়ক নির্মাণ, ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাওয়ায় বন্য হাতির খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাতির পাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছে। আর যাত্রাপথেই মানুষেরও মুখোমুখি হচ্ছে ওরা।

বনবিভাগের সূত্রমতে, এশীয় ও আফ্রিকান- এই দুই প্রজাতির হাতি পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচরণ করছে। এদের গড় আয়ু ৬০ থেকে ৭০ বছর। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়া শুরু করে মাদি হাতি।

গত আট বছরে জেলায় বুনোহাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে ২০ জন। অন্যদিকে গত পাঁচ বছরে মারা গেছে ছয়টি হাতি।

মার্চে রাঙামাটির আসামবস্তি সড়কের কামিলাছড়ি এলাকায় ৫ দিনের ব্যবধানে পর্যটকসহ মারা যায় দুই জন। শুধু কাপ্তাই নয়, জেলার লংগদু, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলাতেও রয়েছে বুনো হাতির পদচারণা। রাস্তার ওপর মানুষ দেখলেই ক্ষিপ্ত হয়ে তেড়ে আসছে ওরা।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মনছুর আলী বলেন, আমার বাড়ি কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে। অফিস নতুনবাজারে। কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়। সন্ধ্যায় ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় প্রায়ই হাতির দেখা মেলে। ভয়ে ভয়ে অপেক্ষা করি। বড় ট্রাকের হর্ন শুনে ওরা সরে যায়। তারপর চলতে শুরু করি।

রাঙামাটি কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা রব বলেন, আমার অফিসের আশেপাশে লোকালয় কম। সন্ধ্যার পর ভয়ে কেউ বেরই হয় না। পায়ে হেঁটে যাওয়ার কথা তো চিন্তাও করা যায় না। গাড়িতে চলাচল করলেও ভয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় হাতিরা দল বেঁধে চলে। দলের সামনে পড়লে ভীতিকর অবস্থা দেখা দেয়। এখন তো প্রায়ই অফিসের করিডোরে হাতি চলে আসছে।

কাপ্তাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির জাহান বলেন, আমার দায়িত্ব থাকাকালীন আট মাসে হাতির আক্রমণে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাতিকে তার নিজস্ব করিডোরে রাখতে সোলার ফেন্সিং সিস্টেম চালুর প্রকল্প-প্রস্তাব জমা দিয়েছিলাম। তা পাস হয়েছে। কোভিডের কারণে অর্থ ছাড় না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি। আশা করছি সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু করা যাবে।

এদিকে হাতি যেন লোকালয়ে আসতে না পারে সেই জন্য হাতির চলাচলের রাস্তা ঠিক রাখতে কাপ্তাইয়ের ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সোলার ফেন্সিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। এর আগে বাংলাদেশের শেরপুর এবং বান্দরবানে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

সোলার ফেন্সিং হলো মূলত বিদ্যুতায়িত ধাতব তারের বেড়া। সোলার প্যানেলে তৈরি বিদ্যুৎ জমা হয় ব্যাটারিতে। ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত থাকে তার। তারের ভেতর নির্দিষ্ট ভোল্টেজের বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকে। ওই তারে শরীর লাগলেই শক লাগবে হাতি। সাধারণত সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত হাতির বিচরণের সময় এ তারে বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের এ সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় সতর্কবার্তার সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

রাঙামাটি কাপ্তাই রেঞ্জ রেঞ্জার মহসিন তালুকদার বলেন, কাপ্তাই নেভি ক্যাম্প এলাকা থেকে ন্যাশনাল পার্ক পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার জুড়ে সোলার ফেন্স বসানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন হলে লোকালয়ে হাতির আক্রমণ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, সোলার ফেন্সিং করা হলে হাতি লোকালয়ে আসার চেষ্টা করলে বেড়ার তারে শক খেয়ে ফিরে যাবে।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের ডিন ড. সুপ্রিয় চাকমা বলেন, করিডোরগুলোতে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও খাদ্য সংকটের কারণে হাতি ও মানুষ মুখোমুখি হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে সোলার ফেন্সিং করতে হয়। মানুষের যানমালের নিরাপত্তা তো দেখতেই হবে। সেইসঙ্গে হাতির আবাস যেন সংকুচিত না হয় সেটাও দেখতে হবে। তবে সোলার ফেন্সিং সিস্টেম পুরোপুরি চালু আগে এ নিয়ে গবেষণা জরুরি।

/এফএ/

সর্বশেষ

পরিদর্শককে পিটিয়ে সার্জেন্ট ও টিএসআই ক্লোজড

পরিদর্শককে পিটিয়ে সার্জেন্ট ও টিএসআই ক্লোজড

২০ দিন পর রাজপথে নেমেছে গণপরিবহন

২০ দিন পর রাজপথে নেমেছে গণপরিবহন

ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট নিয়ে জালিয়াতি

ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট নিয়ে জালিয়াতি

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে

করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ছাড়িয়েছে

ট্রাকের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

ট্রাকের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

রাজধানীতে ভিক্ষুক বেড়েছে কয়েক গুণ

রাজধানীতে ভিক্ষুক বেড়েছে কয়েক গুণ

কোন কোন আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যায় না?

কোন কোন আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যায় না?

ট্রাকচাপায় শাবি ছাত্র নিহত

ট্রাকচাপায় শাবি ছাত্র নিহত

স্বস্তির বৃষ্টিতে ফল-ফসলের উপকার

স্বস্তির বৃষ্টিতে ফল-ফসলের উপকার

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ

অকস্মাৎ হানায় হাজারো বাঙালি গ্রেফতার

অকস্মাৎ হানায় হাজারো বাঙালি গ্রেফতার

বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নিতে চায় গ্রিস

বাংলাদেশ থেকে কৃষি শ্রমিক নিতে চায় গ্রিস

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune