X
রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

পরিবার রেখেই রোহিঙ্গাদের অনেকে ভাসানচর থেকে পালিয়েছেন

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২২:৩২

কক্সবাজার থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ওই দ্বীপ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার শরণার্থী নেতারা। পরিবারের অন্য সদস্যদের রেখেই ভাসানচর থেকে তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের তথ্যমতে, সংখ্যাটি আরও কম এবং পালাতে গিয়ে ধরাও পড়েছেন কয়েকজন। গত ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হওয়ার পর এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছান। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, সব রোহিঙ্গাই সেখানে স্বেচ্ছায় গেছেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সেখান থেকে ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামের একাধিক রোহিঙ্গা নেতা।

সর্বশেষ সোমবার (১৭ মে) নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে পালিয়ে নূরুল আমিন (২০) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘রোহিঙ্গা নুরুল আমিন দালালের মাধ্যমে গোপনে ভাসানচর থেকে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা শিবিরে পরিবারের অপর সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে।’

তবে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ভাসানচরে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধি ও ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, ‘১২-১৩ জন পলাতক রোহিঙ্গার একটি তালিকা আমরা পেয়েছি।’ একমত পোষণ করে ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহে আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই চর থেকে ২০-২২ জনের মতো রোহিঙ্গা পালানোর খবর রয়েছে আমাদের কাছে।’

ভাসানচরে রোহিঙ্গারা (ছবি: ফোকাস বাংলা) যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাসানচরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি গুচ্ছগ্রামের ‘ফোকাল’ (সমন্বয়ক) রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘এখান থেকে ৫০-৬০ জন রোহিঙ্গা পালিয়েছেন। সর্বশেষ গত বুধবার বিকালে বেড়িবাঁধ থেকে পালানোর চেষ্টা করা চার রোহিঙ্গাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ আরেক গুচ্ছগ্রামের নেতা বলেন, ‘গত চার-পাঁচ মাসে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা ভাসানচর থেকে পালিয়ে গেছেন। আরও অনেকে পালানোর চেষ্টাকালে ধরা পড়েছেন। তাদের অনেককে কারাগারেও যেতে হয়েছে। তবু পালানোর চেষ্টা থামেনি।’

এ বিষয়ে ওসি মাহে আলম বলেন, ‘ভাসানচরে থেকে রোহিঙ্গারা প্রায়ই পালানোর চেষ্টা করে। তবে এমন অনেক চেষ্টাই ব্যর্থ করে দিয়েছি আমরা।’ পালিয়ে যাওয়া বা পালানোর চেষ্টা করা অনেকে ফিরেও এসেছে জানিয়ে সিআইসি রঞ্জন বলেন, ‘মাঝে মাঝে যায়, আবার ফেরত আসে, এমন ঘটনাই বেশি ঘটছে।’ তবে রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, মাত্র একজন পলাতক রোহিঙ্গা ফিরে আসার ঘটনা ঘটেছে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচর ছেড়ে পালানোর বিষয়টি অবগত থাকার কথা জানিয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, ‘পলাতকরা ভাসানচর থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে আটক হওয়া রোহিঙ্গা। সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এটা ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

‘গত ডিসেম্বর থেকে ভাসারচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরুর যে সরকারি সিদ্ধান্ত, তাতে দূরদর্শিতার অভাব ছিল বলেই এমনটা ঘটছে’ উল্লেখ করেন অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ক বিশ্লেষক আসিফ মুনীর। তিনি বলেন, ‘সরকার নিজে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করেছে। এখন সেখান থেকে কেউ পালিয়ে গেলে তার দায়টাও সরকারের ওপরই বর্তাবে।’

‘এক্ষেত্রে সরকার হয়তো বলবে, যে পরিমাণ নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই তুলনায় পালিয়ে যাওয়ার হার খুবই কম, বেশিরভাগই ভাসানচরে ভালো আছে। কিন্তু একজন মানুষও যদি পালিয়ে থাকে সেটার কারণ খতিয়ে দেখা উচিত,’ বলেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাবেক এই কর্মকর্তা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এমন একটি জনগোষ্ঠী, তাদের যেখানেই রাখা হোক না কেন তারা পালানোর বা নানা অপরাধে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করবে। পৃথিবীতে যারাই তাদের মতো জোরপূর্বক উদ্বাস্তু হয়েছে তারা অন্য কোথাও স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হতে পারেনি। তাছাড়া ভাসানচরের চারদিকে সমুদ্রের যে বিশাল জলরাশি, এটা রোহিঙ্গাদের জন্য সমস্যা না। রাখাইন থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর দিয়ে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা তারা যুগ যুগ ধরেই করে আসছে। নাফ নদী সাঁতরে টেকনাফে চলে আসার নজিরও আমরা দেখেছি।’

এটা ঠেকাতে ভাসানচরে নজরদারি বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, ‘এক্ষেত্রে জনবলের কোনও সংকট থাকলে সেটা বাড়ানো দরকার।’

যেভাবে পালাচ্ছে রোহিঙ্গারা

সম্প্রতি (গত শনিবার) চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার থেকে আটক হয় ভাসানচরের তিন রোহিঙ্গা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, সাগরে তিনঘণ্টা সাঁতার কেটে সন্দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি জেলেরা তাদের নৌযানে তুলে সেখানে নিয়ে গেছে।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমেদ খান বলেন, ‘জেলেরা তাদের সাগরে সাঁতরাতে দেখে কাছে গিয়ে জানতে পারেন তারা রোহিঙ্গা, ভাসানচর থেকে পালিয়ে এসেছেন। এরপর তাদের ট্রলারে তুলে নিয়ে এসে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে সোপর্দ করেন জেলেরা।’ আটক তিন জনের নাম নাজিম উদ্দিন, মোহাম্মদ নাসিম ও আবদুল হামিদ। তারা ভাসানচরের ৪৯ ও ৬২ নম্বর ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসার কথা বলেছেন উল্লেখ করে ওসি বশির বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে তারা স্বেচ্ছায়ই ভাসানচরে গিয়েছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।’

তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক সম্পর্কিত আইনে মামলা দিয়ে গত রবিবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভাসানচরের ওসি আলমও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, তাদের জামিনে মুক্ত করে পুনরায় ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

উখিয়া কুতুপালংয়ের হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ হামিদ বলেন, ‘তিন মাস আগে আমার ক্যাম্পের বিশ পরিবার ভাসানচরে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে থেকে একটি পরিবারের এক পুরুষ সদস্য গত মাসের শেষের দিকে পালিয়ে এখানে ফিরে এসেছে।’ ওই রোহিঙ্গার নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও তিনি বলেন, ‘প্রথমে সাঁতরে, পরে জেলেদের নৌযানে করে পালিয়ে আসার কথা জানিয়েছে ফিরে আসা ওই ব্যক্তি।’

পরিবার রেখেই পালাচ্ছে

গত ডিসেম্বরে ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের একজন আসমিদা বেগম (১৯)। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মোহাম্মদ রফিক ১৭ দিন আগে এখান থেকে পালিয়েছে। সেদিন সাহরির সময় ভাত খেয়ে বেরিয়ে ফিরে আসেনি। দুই দিন আগে ফোন করে জানিয়েছে, এখন বান্দরবানের আলীকদমে রয়েছে। ভাসানচরে ফিরে আসার কথা কিছুই বলেনি।’

কিছু দিন আগে ভাসানচর থেকে পালিয়ে যাওয়া আবদুল সালামের স্ত্রী রশিদা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যায় মাছ শিকারে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। পরে ফোনে জানিয়েছে, সে ঢাকায় আছে।’

‘আমাদের পাশের ঘরের একজনও কিছু দিন আগে এভাবে হঠাৎ পালিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকেই পালানোর পাঁয়তারা করছিলেন তিনি’- যোগ করেন রশিদা। 

কুতুপালংয়ের হাকিমপাড়ায় ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে রোহিঙ্গা নেতা হামিদ বলেন, ‘যদি সম্ভব হতো পরিবারকেও সঙ্গে নিয়ে আসতো, এমনটাই আমাদের বলেছে সে। তার দাবি, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়িতে মানুষ স্বাধীনভাবে চলাফেরাও করতে পারছে না। সবাইকে একপ্রকার বন্দির মতোই থাকতে হচ্ছে।’

তবে ‘ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি উদ্বাস্তুদের জন্য স্বর্গতুল্য,’ দাবি করে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক ও নৌবাহিনীর কমোডর রাশেদ সাত্তার বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোথাও শরণার্থীদের এত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নজির নেই।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টে কোরবানি ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিপীড়নমূলক অভিযান শুরু করে। এর ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। আশ্রয়ণ-৩ নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে। এর অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছায়।

 

/এমএএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৪:০৩

মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোরে তিন মাদ্রাসা শিক্ষক ও একজন ছাত্রসহ ছয় রোহিঙ্গা নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

রাত একটায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ এবং ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।’

রোহিঙ্গারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ক্যাম্প পাহারা শেষে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবী ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া’ মাদ্রাসায় ঘুমাতেন। শুক্রবার ভোরে ওই মসজিদে অতর্কিত আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মুহিবউল্লাহ হত্যার ২৩ দিনের মাথায় সশস্ত্র ও মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে নতুন ও পুরনো মিলে কক্সবাজারের ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির এবং নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাস করছেন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ জনকে হত্যা, আটক ৮

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৪

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের রুখতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। ধর্মান্ধতা মানুষকে উগ্রবাদের দিকে নিয়ে যায়। এই নাগরিক শোকসভা থেকে আমাদের মৌলবাদী গোষ্ঠীকে চিরতরে নিপাত করার শপথ নিতে হবে। শেখ হাসিনার একজন কর্মীও থাকতে এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা গড়বই।’

শনিবার (২৩ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়িস্থ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘দেশে যারা অরাজকতা করতে চাই, সময় এসেছে তাদের রুখে দেওয়ার। তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যন্ত যতগুলো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে। যদি সাধারণ আইনে না হয়, তাহলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপকর্মকারীদের বিচার করা হবে। আমরা মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা ও ভীতি রয়েছে, তা দূর করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা ক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিল। সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা তারেক সোলেমান সেলিমের এ শোকসভায় আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে, আমরা এই বাংলাদেশ থেকে ধর্মান্ধ-জঙ্গি গোষ্ঠীর চিরতরে নিপাত করতে চাই। ধর্মের অপব্যাখ্যা করে অন্য সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে, যেটা কখনও বরদাস্ত করার মতো নয়। আমরা ধর্মপরায়ণ হতে চাই, ধর্মান্ধ হতে চাই না।’

হানিফ বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আছি। কিন্তু কঠিন সময় অতিক্রম করছি। শান্তি, সম্প্রীতি এবং অগ্রগতি রক্ষায় যে শুভযাত্রায় আমাদের নেত্রী নিবেদিত হয়েছেন, তাকে বানচাল করার জন্য একটি অপশক্তি জেগে উঠেছে। তাদের প্রতিহত করতে হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও নাগরিক শোকসভা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এম.পি, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু বলেন, ‘তারেক সোলেমানরা আওয়ামী লীগের জন্য সম্পদ। তাদের হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। সব সময় তারা দলের দুঃসময়ে এগিয়ে এসেছেন। দলকে সংগঠিত করেছেন। যখনই আমরা আওয়ামী লীগের ক্রান্তিকাল দেখেছি সেলিম ভাইকে দলের জন্য জীবনবাজি রাখতে দেখেছি। দলের নেতাকর্মীদের কল্যাণের জন্য নিজেকে সব সময় নিবেদিত করেছেন। এগিয়ে এসেছেন নেতাকর্মীদের খারাপ সময়ে।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০১:৪৪

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান যশোরের বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক-নৌকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দলের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রাজাকার পরিবারের সন্তানরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে—এটি জাতির জন্য কলঙ্কের।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়। এতে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে বিল্লাল হোসেন এবং মণিরামপুরের চালুয়াহাটি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পান আবুল ইসলাম।

মনোনয়ন বাতিলের আবেদন অভিযোগ উঠেছে, বিল্লাল স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারীর ছেলে নৌকার প্রার্থী হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শনিবার বিকালে (২৩ অক্টোবর) বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তারা ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন এবং শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। উনার বাবা কুখ্যাত রাজাকার মোহাম্মদ আলী। তার বড়ভাই শাহাদত হোসেনও রাজাকার ছিলেন।’

মনোনয়ন বাতিলের আবেদন তিনি বলেন, ‘রাজাকার পরিবারের কেউ জনপ্রতিনিধি হলে তা জাতির জন্যে কলঙ্কের। এ কারণে আমরা চাই, বিল্লালের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন কাউকে দেওয়া হোক।’

অপরদিকে, মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলার আটঘরা গ্রামের দিনু রাজাকারের ছেলে আবুল ইসলামকে। তার মনোনয়ন বাতিল দাবিতে ইতোমধ্যে ইউনিয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ মুক্তিযোদ্ধারা দলের হাই কমান্ডে দরখাস্ত পাঠিয়েছেন।

জানতে চাইলে চালুয়াহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য শহীদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘আবুল ইসলামের বাবা দিনু রাজাকার পাকিস্তান আর্মিদের খাবার রান্নাসহ তাদের অন্যান্য মালামাল সরবরাহ করতেন। আমরা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘দিনু রাজাকার ছিলেন—এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। আমাকে কেউ অভিযোগও করেনি।’

এদিকে, যশোরে দুই রাজাকারের ছেলে নৌকা প্রতীক পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সরগরম হয়েছে। তাদের মনোনয়ন বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে সেখানে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া মনোনয়ন সংক্রান্তে আমাদের কোনও হাতও নেই। এটি কেন্দ্রের ব্যাপার।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ইউপি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবক খুন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩২

সিলেট শহরতলীর জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে আলা উদ্দিন ওরফে আলা (৪৫) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ ইসহাকের সমর্থক ছিলেন।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার আশরাফ উল্যাখ তাহের। তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। আলালকে অতর্কিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখ হয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়েদ উল্লাহ ইসহাক বলেন, ‘আলাকে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি আমার সমর্থক। ইউপি সদস্যদের দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ছুরিকাঘাতে ছাত্র খুনের ঘটনায় কলেজ বন্ধ ঘোষণা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

কলেজের সামনে ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে পুলিশের তল্লাশি

জালিয়াতি করে আড়াই কোটি টাকা তুলে নিলেন হিসাব সহকারী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৭

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড থেকে চেক জালিয়াতি করে আরও দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি ধরা পড়লে গোপনে দুদকে আরও একটি অভিযোগ দেয় শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের হিসাব ও অডিট শাখার উপ-পরিচালক জানিয়েছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে বোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম ও ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে এর আগে ৭ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে দুদক বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিব, হিসাব সহকারী আব্দুস সালামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সবমিলে ২৬টি চেকে ১৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪২ টাকার বিপরীতে পাঁচ কোটি ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৯৮ টাকা লোপাটের প্রমাণ পেয়েছে অডিট শাখা।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করা হলেও চেক নয়টি দিয়ে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এবং শাহীলাল স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

গত ৭ অক্টোবর এই ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর বোর্ডের হিসাব ও অডিট বিভাগ তাদের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অব্যাহত রাখে। ফলে গত ১৮ অক্টোবর পাঁচটি চেকে চার লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৪ টাকার স্থলে ২১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

গত ২১ অক্টোবর ১১টি চেকের বিপরীতে ১০ লাখ ১৫ হাজার ২৬৬ টাকার স্থলে দুই কোটি ২১ লাখ ৮ হাজার ৯৪৯ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি হিসাব শাখা থেকে বোর্ডের সচিবকে পত্র দিয়ে অবহিত করা হয়। ওই দিনই বোর্ডের সচিব দুদক যশোরে নতুন করে দুই কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দেয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট বিজনেস আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আয়কর বাবদ ১২ হাজার ২৭৬ টাকা তুলে নেওয়া হয়। একই সালের ৪ অক্টোবর শহরের জামে মসজিদ লেনের নূর এন্টারপ্রাইজ নামে ৫৯ হাজার ৩৫ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা ও নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এভাবে নয়টি প্রতিষ্ঠানের নামে আরও দুই কোটি ৪৩ লাখ সাত হাজার ৮৭৮ টাকা তুলে নিয়েছেন হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। এর মধ্যে সেকশন অফিসার আবুল কালাম আজাদের নামে ৯৪ হাজার ৩১৬ টাকা ও আব্দুস সালামের নিজ নামে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব ও নীরিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক এমদাদুল হক জানান, তারা আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকার চেক জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছেন। যা ২১ অক্টোবর দুদকে অভিযোগ আকারে জমা দিয়েছেন। ওই সময় বর্তমানে চেয়ারম্যান মোল্লা আমির হোসেন বোর্ডের সচিব ছিলেন। হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম তখনও হিসাব শাখার দায়িত্বে ছিলেন। এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আব্দুস সালামের অন্যতম সহযোগী বোর্ডের ঠিকাদার শরিফুল ইসলাম বাবু। তিনি বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে দীর্ঘদিন বোর্ডে কাজ করছেন। সেসব প্রতিষ্ঠানের নামেই চেকগুলো দিয়ে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এখন দুদক বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

দুদকের যশোর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, আমাদের কাছে আরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়েছে। কারা করেছে তা খুঁজে বের করা হবে।

এর আগে ১৮ অক্টোবর আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

ওই মামলায় অভিযুক্তরা হলেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার শাহীলাল স্টোরের মালিক মৃত সিদ্দিক আলী বিশ্বাসের ছেলে আশরাফুল আলম। 

মামলা হওয়ার পর ওই দিন রাতেই চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের বাংলো থেকে বের হয়ে যান। এরপর তারা কেউ অফিসে আসেননি।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র আরও আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

/এএম/

সম্পর্কিত

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

নৌকা পেলেন ‘রাজাকার পরিবারের’ দুই সন্তান, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

ফেসবুকে একাধিক উসকানিমূলক পোস্ট, যুবক গ্রেফতার

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর, ২৫ মামলায় গ্রেফতার ১৭৪

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

এখন জামায়াতের অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই: গয়েশ্বর

‘মুসল্লিদের সংঘবদ্ধ করে’ পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টার স্বীকারোক্তি

‘মুসল্লিদের সংঘবদ্ধ করে’ পূজামণ্ডপে হামলাচেষ্টার স্বীকারোক্তি

পূজামণ্ডপে কোরআন যে রেখেছে সে ওসিকে খবর দিয়েছে: গয়েশ্বর

পূজামণ্ডপে কোরআন যে রেখেছে সে ওসিকে খবর দিয়েছে: গয়েশ্বর

মিতু হত্যা মামলায় এহতেশামুল হক ভোলার স্বীকারোক্তি

মিতু হত্যা মামলায় এহতেশামুল হক ভোলার স্বীকারোক্তি

মুহিবুল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতারা

মুহিবুল্লাহকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের শীর্ষ নেতারা

সর্বশেষ

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

ক্যাম্পে ৬ রোহিঙ্গা হত্যার ঘটনায় মামলা

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

উগ্রবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না: হানিফ

মালদ্বীপে আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা ইউএস-বাংলার

মালদ্বীপে আকর্ষণীয় হলিডে প্যাকেজ ঘোষণা ইউএস-বাংলার

‘ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে’

সালমান এফ রহমানের ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শন‘ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে’

এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে উম্মুক্ত ডেটা

এসডিজি অর্জনে ভূমিকা রাখবে উম্মুক্ত ডেটা

© 2021 Bangla Tribune