X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

কেমন চলছে ৭ জেলার লকডাউন

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ১১:৩১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সাত জেলায় শুরু হয়েছে কঠোর লকডাউন। মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল ৬টা থেকে লকডাউন শুরু হয়। এরই মধ্যে লকডাউন ঘোষিত জেলাগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ায় মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও বিভিন্ন সড়কে টহল দিচ্ছেন। সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নেমেছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা লকডাউন পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি দেখভাল করছেন এসব জেলার প্রশাসকরা।

সাত জেলার লকডাউনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধিরা।

নারায়ণগঞ্জ  

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নারায়ণগঞ্জসহ যাতে ঢাকায় সংক্রমণ ছড়াতে না পারে সে জন্য লকডাউন শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পুলিশ কাজ শরু করেছে। ঢাকা চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট মহাসড়ক দিয়ে যাতে কোনও গণপরিবহন নারায়ণগঞ্জ অংশ দিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে দায়িত্বপালনে কিছুটা ব্যঘাত সৃষ্টি হয়। শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে নগরীতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। খোলেনি দোকানপাট। পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করতে দেখা গেছে।

এদিকে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কারখানাগুলো খোলা রয়েছে। শ্রমিকরা বৃষ্টিতে ভিজেই কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে গার্মেন্টেস কর্মরত অফিসের কর্মকর্তারা নগরীতে প্রবেশ করার সময় পুলিশের চেকপোস্টে এসে আটকে যাচ্ছেন। অবশ্য পুলিশের কর্মকর্তারা গার্মেন্টস কর্মী বা কর্মকর্তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে। এই সংক্রমণ যাতে ছড়াতে না পারে- এ কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলায় আগামী সাত দিন কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ নগরীতে লকডাউন ও বৃষ্টির কারণে সড়কে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন স্বাভাবিক দিনের চেয়ে কম ছিল

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, লকডাউন কঠোরভাবে পালন করতে দুটি মহাসড়কসহ ৩০টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে কাজ চলছে। এই চেকপোস্ট দিয়ে কেউ জেলা থেকে বের হতে পারবে না, বাইরের জেলা থেকে ভেতরে আসতে পারবে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হতে বলা হয়েছে। তবে পোশাক কারখানা ও জরুরি সেবা চালু রয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মরতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মস্থলে যেতে সহায়তা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, এক সময় করোনার হটস্পট ছিল নারায়ণগঞ্জ। এখন সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে। এই কম সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলায় কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করা হবে। জেলার ৭০ লাখ মানুষকে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করছেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে লোকজন যাতায়াত করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

গাজীপুর
গাজীপুরে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে। সড়কে সাধারণ পরিবহন চলাচল ছিল কম। এছাড়া সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় সাধারণ মানুষেরও চলাচল কম ছিল। তবে বিভিন্ন তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। শ্রমিকরাও কারখানায় নিয়মিত দিনের মতোই কাজ গিয়েছেন। অনেক কারখানা শ্রমিকদের আসা-যাওয়া নিশ্চিতে নিজস্ব যানবাহনেরও ব্যবস্থা করেছে।

লকডাউন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গাজীপুরে থেকে পণ্যবাহী যান, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হাইওয়ে পুলিশ জেলার মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন গাজীপুর জেলার বাইরে থেকে আসা যাত্রীরা। পরিবহনের চালকসহ যাত্রীদের অনেকেই লকডাউনের তথ্য জানেন না বলে দাবি করেছেন।

ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা জয়-হীরা পরিবহনের বাসচালক আব্দুল মান্নান বলেন, ময়মনসিংহ শহর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ভোরে রওয়ানা হয়েছি। গাজীপুরের সীমান্তে জৈনা বাজার এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। পরে লকডাউনের কথা বলে গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে।

সকাল থেকে গাজীপুরে গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি

ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা সৌখিন পরিবহনের বাসের চালক নূরে আলম বলেন, মহাখালীর উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে গাজীপুরের সীমান্তে আটকা পড়েছি। পুলিশ গাড়ি থামিয়ে গাজীপুরের সীমানায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

গফরগাঁওয়ের পাঁচুয়া থেকে আসা নাজমুল হক বলেন, শ্বশুরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলাম। ভোর ৪টার দিকে রওয়ানা হয়ে সকাল ৬টায় ময়মনসিংহের জামিরদিয়া পর্যন্ত এসেছি। ওখানেই গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। একঘণ্টা অপেক্ষা করেও ঢাকার কোনও যানবাহন পাইনি।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বগারবাজার এলাকা থেকে আসা পোশাক কারখানার কর্মকর্তা রকিবুল হক বলেন, লকডাউনের কথা শুনেছি। কিন্তু, গাড়ি বন্ধ থাকবে তা শুনিনি। ৮টায় গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকার কারখানা অফিসে থাকার কথা। এখন ৩০ কিলোমিটার পথ কীভাবে যাবো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।

হাইওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা জৈনাবাজারে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশে পণ্যবাহী এবং অনুমোদিত গাড়ি ছাড়া কোনও গাড়ি গাজীপুরে প্রবেশ এবং বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশ কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

গাজীপুরে প্রবেশ করতে পারেনি কোনও গণপরিবহন, বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়

মানিকগঞ্জ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে সকাল থেকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আজ অন্যদিনের মতো সড়কে লোকজনের চলাচল ছিল না। স্বাভাবিক সময়ের মতো হ্যালোবাইক, রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা সড়কে দেখা যায়নি। কিছু কিছু হ্যালোবাইক ও রিকশা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলতে দেখা গেছে। শহরের সকল মার্কেট ও বিপণি বিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। এদিকে জেলার বিভিন্নস্থানে গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রয়েছে। তারা নিজস্ব পরিহন দিয়ে কর্মীদের যাতায়াত নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জেলার অভ্যন্তরের কোনও গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। শুধুমাত্র দক্ষিণাঞ্চলের দূরপাল্লার নৈশকোচগুলো পাটুরিয়া থেকে ঢাকার গাবতলী অভিমুখে চলাচল করতে দেখা গেছে।

লকডাউনে মানিকগঞ্জ শহরে দোকানপাট বন্ধ ছিল

ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) প্রশাসন আবুল হোসেন গাজী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সরকারে নির্দেশনার আওতামুক্ত যানবাহন ব্যতিরেকে কোনও গণপরিবহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না তারা। পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ও আরিচা–কাজিরহাট রুটে পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া ফেরিযোগে কোনও যানবাহন পারাপার হচ্ছে না। পাশাপাশি সকাল থেকে উল্লেখিত দুটি রুটে কোনও লঞ্চ ও স্পিডবোটও চলাচল করছে না।

ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ দায়িত্ব পালন করে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে।

মুন্সীগঞ্জ
করোনার সংক্রমণরোধে ভোর ৬ টা থেকে মুন্সীগঞ্জসহ সাত জেলায় লকডাউন চলছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জেলাগুলোতে সার্বিক কার্যাবলি ও জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। লকডাউনে বিপণি বিতানগুলো বন্ধ করা হয়েছে। তবে, জরুরি পরিষেবা চালু আছে।

সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থল সুপার মার্কেট চত্ত্বর ও শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুরে দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। তবে, ভোর থেকেই শুরু হওয়া প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও কিছু মিশুক ও অন্যান্য অল্পকিছু যানবাহন চলতে দেখা গেছে। সুপার মার্কেট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঢাকার সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল বন্ধে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের মুক্তারপুর সেতুর কাছে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ শহরে সকাল থেকে যানবাহন ও লোকজনের চলাচল নেই বললেই চলে
এদিকে, লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌরুটে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে লঞ্চ, স্পিডবোট ও যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিল। তবে, সরকারি নির্দেশনা মেনে জরুরি সেবার আওতায় ফেরি চলছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী পরিচালক সাহাদাত হোসেন জানান, স্পিডবোট আগে থেকেই বন্ধ আছে। তবে, সরকারি নির্দেশনায় সকাল ৬ টা থেকে লঞ্চ ও যাত্রীবাহী ট্রলার বন্ধ আছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য ছয় জেলার মতো মুন্সীগঞ্জেও সবকিছু বন্ধ থাকবে। শুধু জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত দোকানপাট, যানবাহন চালু থাকবে।

গোপালগঞ্জ
প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ রোধে গোপালগঞ্জে ৯ দিনের ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চলছে। মঙ্গলবার (২২ জুন) ভোর থেকে এ লকডাউন কার্যকর হয়। লকডাউনের মধ্যে সকালে থেকে সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল কম দেখা গেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলা লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

ডিসি শাহিদা সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, গোপালগঞ্জে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে, যে কারণে জেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে সরকার। বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানাতে সদরসহ পাঁচ উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কঠোরভাবে লকডাউন পালন করা হচ্ছে। লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

এর আগে স্থানীয় প্রশাসন করোনা রোধে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকা, সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়ন, কাশিয়ানী উপজেলা সদর ও মুকসুদপুর উপজেলা সদরে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিল। তা চলমান থাকতেই এ আদেশ জারি করা হয়।

মাদারীপুর

করোনা সংক্রমণরোধে মাদারীপুর জেলাকে রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে রাজধানীর সঙ্গে জেলা শহরের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ ও সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে আইনশৃঙ্লখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকেই সড়কে যানবাহন চলাচল কম ছিল। এছাড়া নিত্যপণ্য ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে কাজ করছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। বিগত লকডাউনের মতো এবারও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দোকানপাট খোলা থাকবে, হাট-বাজারে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া সব ধরনের অবাঞ্চিত চলাফেরা ও নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সড়কে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাদারীপুরের পার্শ্ববর্তী এলাকা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে করোনার সংক্রমণের প্রভাব অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই বিবেচনায় মাদারীপুরকেও লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে সোমবারও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হঠাৎ করেই নির্বাচন চলাকালে লকডাউনের ঘোষণা আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন- মাদারীপুর সদরে বিগত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক স্থানে রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এছাড়া শিবচর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নির্বাচনের পর মানুষের উপস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করার বিষয়টি অনেকটাই অসম্ভব হবে।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা, মাদারীপুরে করোনা শনাক্তের সংখ্যা সর্বশেষ তিন দিনে যথাক্রমে ২৪ ও ২৭ ও ১৮ জন।

রাজবাড়ী

করোনা সংক্রমণরোধে রাজবাড়ীতে কঠোর লকডাউনের কথা বলা হলেও তা অনেকটাই ঢিলেঢালাভাবে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে তা সংখ্যায় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম ছিল। অন্যদিকে লকডাউনের মধ্যে জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্থানে খাবার হোটেল ও মুদি দোকানসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও সাধারণ মানুষকে অন্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে বের হতে দেখা গেছে।

প্রসঙ্গত, করোনার ভয়াবহ প্রকোপ থেকে রাজধানী ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে সাত জেলায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। সোমবার (২১ জুন) বিকালে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম লকডাউনের কথা জানান।

/টিটি/

সম্পর্কিত

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩:১১

উদ্বাস্তুদের আশ্রিত দেশের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাব মেনে না নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্ব ব্যাংকের ওই প্রস্তাব মেনে নিয়ে ওই সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বদলে তাদেরকে বাংলাদেশেই চিরতরে রেখে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মন্ত্রণালয়। এজন্য ওই প্রস্তাবের পরিবর্তন না হলে উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কোনও অর্থ বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে না নেওয়ার লিখিত মতামত পাঠানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত 'রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক'টি মতামতের জন্য পাঠায় এবং চিঠিতে উল্লেখ করে- ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কোনও মতামত না পেলে ওই প্রস্তাব সরকার মেনে নিয়েছে বলে তারা ধরে নেবে। বিশ্ব ব্যাংকের এই রিফিউজি পলিসি রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য দেশে অবস্থিত সব উদ্বাস্তুর জন্য প্রযোজ্য।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে মন্ত্রণালয়।

ওই বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্কের তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে‑ ১. উদ্বাস্তু  ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা ২. উদ্বাস্তুরা যেদেশে অবস্থান করছে সেই সমাজে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া অথবা তাদের ফেরত পাঠানো এবং ৩. দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাতে করে নতুন উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংক ও পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশ এই তিনটি উদ্দেশ্য আকারে-ইঙ্গিতে বা মুখে বলতো কিন্তু এই প্রথমবারের মতো তারা বিষয়টি লিখিত আকারে উপস্থাপন করলো।’

বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাব মেনে নিলে রোহিঙ্গারা যেকোনো স্থানে চলাচল করতে পারবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে পারবে বা ব্যবসা করতে পারবে। শুধু তাইনা তাদেরকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সামাজিক পরিচয়পত্রও দিতে হবে বলে তিনি জানান।

সামাজিক পরিচয়পত্র

রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্পদ ব্যয় করছে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অনেক দেশ তাদের দেখ-ভালের জন্য জাতিসংঘকে অর্থ প্রদান করে। এই অর্থ প্রদানের পরিমাণ দিন-দিন কমে আসছে এবং এর ফলে বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা আছে বিদেশিদের।

এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদেশি অর্থদাতারা চাইছে রোহিঙ্গাদের উপার্জনের ব্যবস্থা‑ যাতে করে নিজেদের ব্যয় তারা নিজেরাই মেটাতে পারে। এছাড়া তাদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, অবাধ চলাচলের বিষয়েও তারা জোর দিচ্ছে।’

এজন্য রোহিঙ্গাদের সিভিল নিবন্ধন অর্থাৎ পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো চালু করার প্রস্তাব করছে তারা বলে তিনি জানান।

প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য যদি আমরা এইসব মেনে নেই তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি যে লক্ষ্যগুলো আছে সেগুলো সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এজন্য আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

উদ্বাস্তু সমস্যা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি তিনভাবে সমাধান করা যায়। একটি আছে অন্তর্ভুক্তিকরণ, আরেকটি হচ্ছে তৃতীয় দেশে সেটেলমেন্ট এবং অপরটি হচ্ছে প্রত্যাবাসন ।

তিনি বলেন, আমাদের জন্য তৃতীয় দেশে সেটেলমেন্ট ফিজিবল না কারণ সংখ্যাটি অনেক বড়। যদি সংখ্যা ৩০ বা ৪০ হাজার হতো তাহলে বিভিন্ন দেশে ভাগ করে দেওয়া যেত কিন্তু সংখ্যাটি ১০ লাখের উপরে। এখন পৃথিবীর কোন দেশ এই পরিমাণ মানুষ নেবে না এটাই বাস্তবতা।

আরেকটি সমাধান হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিকরণ, কিন্তু বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ এবং এখানে প্রচুর পরিমাণ শ্রমিক আছে। ফলে বাড়তি শ্রমিকের কোন প্রয়োজন নেই এবং সে সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সুতরাং আমাদের জন্য একমাত্র অপশন হচ্ছে তাদের নিজ ভূমিতে টেকসই ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসন।’

অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে জাতিসংঘ বা বিশ্ব ব্যাংক চিন্তা করতে পারে কিন্তু আমরা এটি করতে পারবো না এবং এটি তাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘গতবারই তারা আমাদেরকে যখন এ ধরনের ভাষা বা পয়েন্ট বলেছিল তখন তাদেরকে আমরা বলেছি যে এটি আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমাদের নজরে যেটি আসছে সেটি আমরা পয়েন্ট আউট করছি এবং সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছে তাদেরকে বলছি যে, এ ধরনের শর্ত মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব না ।’

রোহিঙ্গাদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি দিতে হয় তাহলে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুযায়ী দিতে হবে। কারণ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই লোকগুলোর মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া। কিন্তু এমন কোন ধরনের শিক্ষা যেখানে আমাদের এখানে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে, এ ধরনের শিক্ষা আমরা দিতে চাই না।’

/এমএস/

সম্পর্কিত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:০০

দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২০ হাজার ১৬ জন। এদিকে জুলাই শেষ হয়নি এখনও। তার আগেই এ মাসে মৃত্যু ছাড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। যা কিনা এ যাবৎকালের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৫ ভাগ।

এর আগে এক মাসে এতো মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে করোনায় মারা গেছে ৭ হাজার ৫৫৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় (২৭-২৮ জুলাই) মারা গেছেন ২৩৭ জন। এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মারা গেছেন ২৫৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সেই সময় মার্চে পাঁচ জন মারা গিয়েছিলেন। এরপর এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে’তে ৪৮২ জন, জুনে এক হাজার ১৯৭ জন, জুলাইতে এক হাজার ২৬৪ জন, আগস্টে এক হাজার ১৭০ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৭০ জন, অক্টোবরে ৬৭২ জন, নভেম্বরে ৭২১ জন এবং ডিসেম্বরে ৯১৫ জন মারা যান।

এই বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৫৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১ জন, মার্চে ৬৩৮ জন, এপ্রিলে দুই হাজার ২০৪ জন, মে’তে এক হাজার ১৬৯ জন, জুনে এক হাজার ৮৮৪ জন মারা যান। শুধু জুলাইতেই মারা গেছেন ৫ হাজার ৫১৩ জন।

গতবছরের মে থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুনের একদিনে ৬৪ জন মারা যান। এটি ছিল গতবছরের একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যেই থাকতো। অক্টোবরে মৃত্যুর হার কিছুটা কমে আসলেও নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩০-৪০ এর মধ্যেই ছিল।

এরপর এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বনিম্ন একদিনে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মার্চের মাঝামাঝিতে মৃত্যু আবার বাড়তে থাকে। ১৭ এপ্রিল প্রথম একদিনে মৃত্যু শতকের ঘরে প্রবেশ করে। পুরো এপ্রিলজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মে’তে আবার কমে আসে।

এরপর ফের বাড়তে থাকে জুনের মাঝামাঝিতে। ৭ জুলাই ২০০’র ঘরে প্রবেশ করে একদিনের মৃত্যু। এরপর থেকে একের পর এক মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙে এ মাসেই।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে শীর্ষে আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা। ঢাকায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ হাজার ২৭৩ জন। চট্টগ্রামে তিন হাজার ৬৯৬ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৫৪৮ জন, খুলনায় দুই হাজার ৬৪৫ জন, বরিশালে ৬২১ জন, সিলেটে ৭২২ জন, রংপুরে ৯৮৯ জন, এবং ময়মনসিংহে ৫২২ জন।

এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মারা গেছেন ১৭ হাজার ৫৮৩ জন। বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ৮৮৮ জন। বাসায় ৫২২ জন এবং ২৩ জনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

করোনায় এই মৃত্যুর মিছিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রোগীর সংখ্যা যেন না বাড়ে। রোগীর সংখ্যা কমাতে হলে সংক্রমণ কমাতে হবে। লকডাউনে বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন তা মানতে হবে।’

বহু জায়গায় সংক্রমণ বেড়ে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে চাপ বাড়ছে। সংক্রমণ এভাবে চলতে থাকলে হাসপাতালে জায়গা থাকবে না।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মনে করেন ‘সংক্রমণ বেশি হলে মৃত্যুও বেশি হবে।ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো করোনার মৃত্যু ঠেকাতে প্রস্তুত নয়। আমরা গত দেড় বছরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারিনি। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এখনও আইসিইউ নেই। জটিল রোগীদের আইসিইউ দরকার হলে তাদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না। যারা পাচ্ছেন, সেটা একেবারে শেষ মুহূর্তে। তখন রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের  ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগোস্লাভিয়ায় প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটোর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক সমাপ্ত করেছেন। এদিন (২৯ জুলাই) বঙ্গবন্ধু ব্রিওলি ত্যাগ করেন। সেসময় প্রেসিডেন্ট টিটো বঙ্গবন্ধুকে আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা জানান। দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট  টিটোর সঙ্গে রাতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন এবং দুই বিশ্বনেতার মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা  হয়। প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেন। বঙ্গবন্ধুর সম্মানে প্রদত্ত অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি যেসব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, সেই সব দেশকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং  অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট টিটো সাম্প্রতিক জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগদান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত আসন লাভের বিষয়-সহ সব আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশকে তার সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের জাতীয় পুনর্গঠনে যুগোস্লাভিয়া সহযোগিতা প্রদানের কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে আশা প্রকাশ করেন, যুগোস্লাভিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় পাকিস্তানে জোর করে আটকে রাখা বাঙালিরা ঘরে ফিরতে পারবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায়  সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি যখন পাকিস্তানের বন্দিশালায় ছিলেন, তখন তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য যুগোস্লাভিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনে প্রেসিডেন্ট টিটো এবং যুগোস্লাভিয়ার জনগণ সমর্থন দিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তা ভুলবে না।’ বাংলাদেশ আর যুগোস্লাভিয়া —এ দুটি দেশের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, তার উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর বলেন, বাংলাদেশ ও যুগোস্লাভিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’

দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০ জুলাই ১৯৭৩ মার্শাল টিটো প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক বীরত্ব-সংগ্রামের তিনি প্রশংসা করেন।স তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে তার দেশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সাহায্য দানের কথাও জানান তিনি।

ভারত-পাকিস্তান আলোচনার মেয়াদ বাড়লো

ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল সরকারি পর্যায়ে এ দিন  দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে আভাস পাওয়া যায় যে, আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আড়াই ঘণ্টা বৈঠক শেষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা পি এন হাকসার বলেন, ‘আমি এখনও আশাবাদী, যত দিন আমাদের প্রয়োজন হবে, তত দিন আমরা এখানে অবস্থান করবো।’ পাকিস্তানি বেতার জানায়, আরও আলোচনার সম্ভাবনা আছে। তবে তার জন্য কোনও সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এদিন বৈঠকের পর এমন একটা জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে, একটা ফর্মুলার ব্যাপারে দুই প্রতিনিধিদলেরই তাদের সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।

ডেইলি অবজারভার, ৩০ জুলাই ১৯৭৩ এর আগে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইউএনআই-এর খবরে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল ১১ দফা আলোচনা বৈঠকে মিলিত হয়। কতিপয় প্রশ্নে পাকিস্তানের অনমনীয় মনোভাবের দরুন আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। কয়েকদফা বৈঠকের পর জানা গেছে যে, আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেটা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা নির্দিষ্ট হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতারা বৈঠক থেকে হোটেলে ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে আভাস দেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পিএন হাসকার বলেন, তিনি সব সময় আশা নিয়েই বেঁচে আছেন। আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কিনা, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আশা কি অচল অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ!

গত দুদিন থেকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা হচ্ছে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সমাধান থেকে কতদূর রয়েছে সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়নি। রাওয়ালপিন্ডি থেকে এপি’র খবরে বলা হয় যে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দল তাদের নয়াদিল্লিতে যাত্রা পিছিয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি এবং যুগোস্লাভিয়ায় সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধার কারণে আলোচনার পদ্ধতি এমন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবন্দিদের প্রস্তাবিত বিচার স্থগিত রাখা এবং ভারত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না, পাকিস্তান সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মনে হয়।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:৩৫

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে মাদকপাচার বন্ধে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় বৈঠকটি আটকে আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈঠকটি এ বছরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও অন্য দু’দেশের অনাগ্রহের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় আসাও বৈঠক না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদকপাচার বন্ধে ত্রিদেশীয় একটি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত জানুয়ারিতে, যা হওয়ার কথা ছিল জুনের মধ্যেই। কিন্তু এরইমধ্যে করোনার ভয়াবহতায় ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও করোনার মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। তারপরও জুম প্লাটফর্মে হলেও বৈঠকটি করার চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরইমধ্যে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলে নেওয়ায় বৈঠকের বিষয়টি আরও  পিছিয়ে যায়।

বিভিন্ন ইস্যুতে ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও এ বিভাগের বিভিন্ন অধিদফতরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকেও ত্রিদেশীয় বৈঠকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে এই  বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পক্ষগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জুম প্লাটফর্মে বৈঠকও করেছেন তারা। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সভা হয়েছে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর জুম প্লাটফর্মে। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে ইয়াবার সরবরাহ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলে, তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

এছাড়া উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠানেরও সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। আর  ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নিতে গত জানুয়ারিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইসরাত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বৈঠকটির এখনও পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি নেই। কোভিডের কারণে পার্টনার দেশগুলোর কোনও উদ্যোগ নেই। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ বৈঠক কবে হবে বলা যাচ্ছে না।একতরফা তো আমরা কিছু করতে পারি না।

তিনি বলেন,  ‘আমাদের বর্ডারটা আমরা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছি। যাতে পাচারকারীরা কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অনেকগুলো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ত্রিদেশীয় উদ্যোগ থাকলে ভালো হয়। এ বিষয়ে দেশের ভেতরেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোভিডের অগ্রাধিকারের কারণে অন্য কাজগুলো কিছু ব্যাহত হচ্ছে।’

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

ভারত থেকে ২০০ টন অক্সিজেন আসছে

ভারত থেকে ২০০ টন অক্সিজেন আসছে

ভারত-চীন-রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মোমেন

ভারত-চীন-রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মোমেন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে সরকার। কয়েকদফা আলোচনার পর বুধবার বিকালে মিয়ানমার ও জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালকদের সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোর আলোচনায় এ মতৈক্য হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। সব ঠিক থাকলে আগস্টে সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের চুক্তি সই হবে এবং সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব নিতে পারে বৈশ্বিক সংস্থাটি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বুধবার (২৮ ‍জুলাই) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। জাতিসংঘের কিছু চাহিদা ছিল। দুটোকে এক ছাদের তলায় আনতে সমস্যা হচ্ছিল। বেশ কয়েক রাউন্ড বৈঠক হয়েছে। অবশেষে আজ মতের মিলে পৌঁছানো গেছে।’

কী বিষয়ে মিল হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে পলিসির অধীনে জাতিসংঘ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে তাতেই একমত হয়েছে সবাই। জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিস তাদের সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেবে।’

জাতিসংঘের সঙ্গে মূল আলোচনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। তাদেরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতির বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

আগস্টে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম শুরুর জন্য জাতিসংঘের কিছু প্রস্তুতির দরকার হতে পারে। সেজন্য আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা ভাসানচরে কাজ শুরু করবে।’

কক্সবাজারের মতো করে জাতিসংঘ ভাসানচরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা আলাদা হবে। কারণ দুই জায়গার বাস্তবতা আলাদা। কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকতে পারে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি বিপর্যস্থ পরিস্থিতির মধ্যে জাতিসংঘকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। কিন্তু এখানে (ভাসানচর) সব ইতিবাচক অবস্থায় আছে। আমি নিশ্চিত এখানে কাজের গুণগতমান অনেক ভালো হবে।’

মিয়ানমার কারিকুলামে শিক্ষা, সীমিত চলাচল, জীবনযাপনের সীমিত সুযোগ, জীবন দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় এই চুক্তিতে থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

/এফএ/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

সর্বশেষ

পর পর দুই মাস বাড়লো এলপিজি-অটোগ্যাসের দাম

পর পর দুই মাস বাড়লো এলপিজি-অটোগ্যাসের দাম

লকডাউনে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কী করে?

লকডাউনে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন কী করে?

সব পণ্যে ফেস আইডি আনতে পারে অ্যাপল

সব পণ্যে ফেস আইডি আনতে পারে অ্যাপল

বন্ধু দিবসে যথাশিল্পে ফ্রি ডেলিভারি

বন্ধু দিবসে যথাশিল্পে ফ্রি ডেলিভারি

২৮ পদে চাকরি দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর

২৮ পদে চাকরি দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর

কুষ্টিয়ায় আরও ১১ মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় আরও ১১ মৃত্যু

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কা

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের শঙ্কা

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

অনলাইনে ভ্যাট দিতে চায় ফেসবুক

রাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ শার্লিনের

রাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ শার্লিনের

কুপিয়ে ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিলেন অপর নেতা  

কুপিয়ে ছাত্রলীগ নেতার কবজি কেটে নিলেন অপর নেতা  

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

‘সবাইকে নিয়ে সেই বিপদেই পড়তে হলো’

‘সবাইকে নিয়ে সেই বিপদেই পড়তে হলো’

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ড. সৈয়দ আব্দুস সামাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

শিগগিরই অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ: স্বাস্থ্য অধিদফতর

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

একনেকে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা

করোনায় নারী মৃত্যু বেড়েছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

করোনায় নারী মৃত্যু বেড়েছে: স্বাস্থ্য অধিদফতর

© 2021 Bangla Tribune