‘কোনও বাড়ি রেহাই পায়নি’, মিয়ানমারের গ্রামে সেনাদের তাণ্ডব

বিদেশ ডেস্ক
১৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০০ আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৪:১৯

অং সান সু চি'র সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, লুটপাট, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনী। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও সেনাদের তাণ্ডবের খবর আসছে। তেমনই গত মাসের শেষ দিকে দেশটির সাগাংই অঞ্চলের অনেক বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয় সেনারা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উনবে ইন গ্রামে প্রায় দেড়শ সশস্ত্র সেনা প্রবেশ করে। আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান শত শত বাসিন্দা। সেনারা চলে যাওয়ার দু’দিন পর ফিরে আসে গ্রামবাসী। এসে ধ্বংসযজ্ঞ দৃশ্য দেখতে পায় তারা। দোকানপাট, ঘর-বাড়ি সব কিছু তছনছ করে দিয়ে গেছে জান্তা।

ওই গ্রামেরই এক বাসিন্দা বলেন, ‘একটি ঘরও সেনাদের হামলা থেকে বাদ যায়নি। তারা প্রতিটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর করেছে। এমনকি টেলিভিশনও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অন্যান্য জিনিসের মধ্যে ৩০টি সেলাই মেশিন নষ্ট করে দিয়েছে’।

দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানোর পরের চিত্র

উয়ানবে ইন-এ ৩২০টি বাড়ি আছে। গ্রামবাসীরা গত (৩ অক্টোবর) ফিরে এসে হতবাক হয়ে যায়। সেনাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে তিনভাগের দুইভাগই ফিরে এসেছেন।

খবরে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উয়ানবে-ইন'তে সাধারণ মানুষের বাড়ি-ঘর টার্গেট করে নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। অন্যান্য অঞ্চলেও একইদিন বোমা হামলা পরিচালনা করে। স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিমান থেকে ১০টি বোমা ভূমিতে ফেলা হয়। কিন্তু এর আগেই গ্রামবাসীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

সম্প্রতি জান্তা সরকার কাচিন, সাগাংই এবং চীন রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এক বাসিন্দা বলেন, ‘এলাকায় কি ঘটছে এখানকার গ্রামবাসীরা কিছুই জানতে পারছে না। আমরা সেনাদের মিথ্যা তথ্য পেয়ে উদ্বিগ্ন’।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি অং সান সু চিকে গৃহবন্দি করার পর আন্দোলন শুরু হয়েছে। সু চির মুক্তি এবং সামরিক সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার দাবিতে দিন দিন আন্দোলন জোড়ালো হচ্ছে দেশটিতে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় জান্তা সরকারকে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ যুক্তরাষ্ট্রও।

/এলকে/
সম্পর্কিত
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়: শোরুমে হামলার প্রতিবাদ ইউপিএলের
‘চরদখলের’ চিত্র এবার রাজধানীতে, জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
রাখাইনে মিয়ানমার বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত ৩৩
সর্বশেষ খবর
ইরান শেষ পর্যন্ত ‘নতি স্বীকার করবেই’: ট্রাম্প
ইরান শেষ পর্যন্ত ‘নতি স্বীকার করবেই’: ট্রাম্প
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিদেশি রিভলভার উদ্ধার
পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিদেশি রিভলভার উদ্ধার
কীভাবে বুঝবেন আইফোনের ব্যাটারি বদলানোর সময় হয়েছে
কীভাবে বুঝবেন আইফোনের ব্যাটারি বদলানোর সময় হয়েছে
সফরের ধরন বুঝে লাগেজ বাছাইয়ের সহজ টিপস
সফরের ধরন বুঝে লাগেজ বাছাইয়ের সহজ টিপস
সর্বাধিক পঠিত
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম আনতে আকাশসীমার অনুমতি কেন দিচ্ছে না, জানালো পাকিস্তান
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রয়ে বাধা নিয়ে মধ্যরাতে আসিফ নজরুলের পোস্ট
‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রয়ে বাধা নিয়ে মধ্যরাতে আসিফ নজরুলের পোস্ট
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
শহীদ আবু সাঈদের ঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা
ঘরে টাকার স্তূপ-স্বর্ণ-গাড়ি, গ্রেফতার মাদক সম্রাজ্ঞী
ঘরে টাকার স্তূপ-স্বর্ণ-গাড়ি, গ্রেফতার মাদক সম্রাজ্ঞী
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ
প্রায় দেড় কোটি রুপি জরিমানা দিয়ে দায়মুক্তি পেলো আদানি গ্রুপ