ভোলা থেকে গ্যাস আনতে সিএনজি বিধিমালা সংশোধন

সঞ্চিতা সীতু
২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৩, ১০:০০

ভোলা থেকে দেশের অন্যান্য প্রান্তে গ্যাস আনতে সিএনজি বিধিমালা-২০০৫ সংশোধন করলো সরকার। নতুন সংশোধনীতে সিএনজিকে পরিবহনের জ্বালানির পাশাপাশি শিল্পে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন সংশোধনীটি প্রকাশ করেছে।

এর আগে সিএনজিকে শিল্পের গ্যাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আপত্তি ছিল। গাজীপুর ও সাভার এলাকার শিল্পগুলো নিজস্ব ব্যবহারের জন্য সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতো। কিন্তু একাধিকবার পেট্রোবাংলা এই কাজে বাধা দেয়।

তবে সম্প্রতি সময়ে দেশের একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ভোলার গ্যাস আনতে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদনের পর নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন পড়ে। আগের নীতিমালায় কেবল সিএনজিকে পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া ছিল।

জ্বালানি বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে সিএনজি পরিবহনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকোর দেখানো পথেরও বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, গ্যাজকেট (ট্রাকের মধ্যে বিশেষ প্রক্রিয়াকে সাজানো সিলিন্ডার) ব্যবহার করে এই গ্যাস আনা যাবে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ২০১৩ সালের দিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে সিএনজি পরিবহনের প্রচলন করা হয়। তবে সেখানেও কেবল পরিবহনে ব্যবহারের অনুমোদন ছিল। তবে জটিলতা হলো, এখন দেশের যেসব শিল্পকারখানা এভাবে সিএনজি নিয়ে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করে তারাও এই সংশোধনীর ফলে বৈধতা পাবে কি না সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।

দেশে ২০০৫ সালে প্রথম সিএনজি বিধিমালা করা হয়। ওই সময় দেশে পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে সিএনজি জনপ্রিয়তা পায়। কিন্ত্র ক্রমান্বয়ে দেশে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হলে সিএনজির চাহিদা বেড়ে যায় হয়। সম্প্রতি ভোলার অব্যবহৃত গ্যাস সিএনজি করে আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনা হবে। পর্যায়ক্রমে এটি বাড়ানো হবে।

এজন্য দেশের সিএনজি পাম্প পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকোর সঙ্গে পেট্রোবাংলার আলাপে সব ঠিকঠাক করা হচ্ছে। ইন্ট্রাকো নিজ দায়িত্বে গ্যাস এনে তা শিল্প মালিকদের কাছে বিক্রি করবে। পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার সম্প্রতি বলেন, আগামী জুনে এই গ্যাস আসতে পারে। তবে এই গ্যাস পরিবহন ও বিক্রির কোনও দায় পেট্রোবাংলার নয়। পেট্রোবাংলা কেবল গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেবে।

বিধিমালায় গ্যাস পরিবহন, মজুদ, বিতরণ প্রক্রিয়াগুলো অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

দেশের কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ট্রাকে করে গ্যাস নিয়ে শিল্প পরিচালনা করছে। সরকার সেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোলা থেকে গ্যাস আনছে। প্রথমে গ্যাস ট্রাকের মধ্যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংযোজিত সিলিন্ডারে ভর্তি করা হবে। এরপর ফেরিতে তুলে ট্রাকগুলো দিয়ে নৌপথে আনা হবে। এরপর রাস্তা দিয়ে ঢাকায় আনা হবে। গাজীপুরের শিল্প কারখানায় এই গ্যাস বিক্রি করা হবে।

/এফএস/
সম্পর্কিত
গ্যাস নেই, থেমে যাচ্ছে কারখানা, ঝুঁকিতে লাখো শ্রমিকের চাকরি 
পোশাক কারখানার ছাদেই সম্ভব ২৮১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন
সংকটে বাড়ছে খরচ, আঁচ লেগেছে টিফিন বক্সেও
সর্বশেষ খবর
রাষ্ট্রপতির শপথ: যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ 
রাষ্ট্রপতির শপথ: যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ 
হোয়াটসঅ্যাপ আরও নিরাপদ রাখতে যে ৫টি সেটিংস চালু করবেন
হোয়াটসঅ্যাপ আরও নিরাপদ রাখতে যে ৫টি সেটিংস চালু করবেন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের বন্যা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে আনন্দের বন্যা
ভাইভার আগের ১ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ, কী করবেন এ সময়?
ভাইভার আগের ১ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ, কী করবেন এ সময়?
সর্বাধিক পঠিত
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
বিএনপির বাইরেও  ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
বিএনপির বাইরেও ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা
পাল্টা পদক্ষেপে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো ভারত
পাল্টা পদক্ষেপে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিলো ভারত
‘আপনিই আমার সব’: ট্রাম্পকে লেখা ব্যক্তিগত সহকারীর আবেগী চিঠিতে প্রেমের বিতর্ক
‘আপনিই আমার সব’: ট্রাম্পকে লেখা ব্যক্তিগত সহকারীর আবেগী চিঠিতে প্রেমের বিতর্ক