X
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২
১৯ আষাঢ় ১৪২৯

বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২২, ১৭:১১

রমজান মাসেও সয়াবিনসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বাজারে নতুন করে বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে গত মাসে কর ছাড় দেওয়ার এক মাস না যেতেই খোলা সয়াবিন তেলের প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৭ টাকা পর্যন্ত। আর খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে লিটারে ১২ টাকা পর্যন্ত।

বাজারের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিনের দাম ছিল প্রতি লিটার ১৪৫ টাকা। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সেই সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৫২ টাকা লিটার। সরকারের বিপণন সংস্থার তথ্য বলছে, প্রতি লিটারে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে প্রায় এক শতাংশের মতো। এই সপ্তাহে এক লিটার ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দামও বেড়ে গেছে। নতুন করে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৩ টাকা। গত সপ্তাহে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৫ টাকায় পাওয়া গেলেও এই সপ্তাহে কিনতে হচ্ছে ১৬৮ টাকা দিয়ে। টিসিবির হিসাবে সপ্তাহে এই সয়াবিনের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৭৪০ টাকায় ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও শুক্রবার ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে ৭৪৫ টাকা দিয়ে। টিসিবির হিসাবে এই তেলের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।

ভোজ্য তেলের মধ্যে এই সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পাম অয়েলের দাম। গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ১৩১ টাকা লিটার খোলা পামঅয়েল এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৪৩ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১২ টাকা। পাম অয়েলের (সুপার) দাম বেড়েছে লিটারে ৫ টাকা পর্যন্ত। গত সপ্তাহে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় এক লিটার সুপার পাম অয়েল পাওয়া গেলেও এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৪৪ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে।

এছাড়া গত সপ্তাহের ৪০ টাকা কেজি প্যাকেট আটা এই সপ্তাহে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

যদিও গত মাসে সয়াবিন তেলের উৎপাদন, খুচরা ও এমনকি আমদানি পর্যায়ে সরকার মোট ৩০ শতাংশ কর ছাড় দিয়েছে ব্যবসায়ীদের। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সয়াবিনের দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এক মাস না যেতেই আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

এদিকে দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে সরকারের কাছে দাবি করেছেন আমদানিকারক ও উৎপাদনকারীরা।

বুধবার (৬ এপ্রিল) ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানিকারক ও মিল মালিকদের সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরের বৈঠকে মিল মালিকরা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

বৈঠকে সিটি, মেঘনা, এস আলম, বসুন্ধরা ও টি কে গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মিল মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম বেড়েছে। সরকার যে সময়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়, তখন প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিনের দাম ছিল এক হাজার ৪০৭ মার্কিন ডলার। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে এক হাজার ৮৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরকার ভ্যাট প্রত্যাহার করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করায় তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহে আরও কমেছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের মতো কমেছে সজনের ডাটা ও সোনালি মুরগির দাম। তবে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেগুন ও শসা। বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। আর শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এর সঙ্গে দাম বেড়েছে ইলিশ ও রুই মাছের।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ খুচরা ব্যবসায়ী দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ২৫ টাকা। কেউ কেউ ৩০ টাকা কেজিতেও পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও বেগুনের কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেগুনের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শসা। এক কেজি শসা কিনতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সজনে ডাটা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কাঁচা আমের আমের কেজি ১০০ টাকা। বার্মিজ আমের কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

সবজি ব্যবসায়ীরা সবজির সঙ্গে বাঙ্গি ও তরমুজ বিক্রি করছেন। তবে দাম একটু বেশি। মাঝারি সাইজের তরমুজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করছেন তারা। বড়গুলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে। এছাড়া বিভিন্ন সাইজের বাঙ্গি ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন। বাজারে লাল শাকের আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকা, পালং শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  আগের সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে রুই ও ইলিশ মাছের দাম বেড়েছে। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে রুই মাছের কেজি ছিল ২৬০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে। কিছু দিন আগে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৬০০ টাকায়।

/এমএস/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজের
যুদ্ধের প্রভাবে আবারও লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
যুদ্ধের প্রভাবে আবারও লোডশেডিংয়ের কবলে দেশ
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে?
বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কে?
মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
মাদ্রাসাছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
এ বিভাগের সর্বশেষ
দাম বেড়েছে গুঁড়ো দুধের, বেশিরভাগ অপরিবর্তিত
দাম বেড়েছে গুঁড়ো দুধের, বেশিরভাগ অপরিবর্তিত
সয়াবিন তেলের দাম কমলো
সয়াবিন তেলের দাম কমলো
সয়াবিন তেলের দাম কমবে: বাণিজ্য সচিব
সয়াবিন তেলের দাম কমবে: বাণিজ্য সচিব
বেড়েছে চালসহ কয়েকটি পণ্যের দাম
বেড়েছে চালসহ কয়েকটি পণ্যের দাম
ভোজ্যতেলের দাম কমানোর দাবি ক্যাবের
ভোজ্যতেলের দাম কমানোর দাবি ক্যাবের