দুঃসময়ের সত্যকণ্ঠ: জহুর হোসেন চৌধুরী

স্বদেশ রায়
২৭ জুন ২০২২, ২৩:১২আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ২৩:৪১

“এক বন্ধু গত রাতে অভিযোগ করলেন, আমার লেখা তেমন জমছে না। তিনি পরিষ্কার বললেন, ‘ফাঁকি দিচ্ছ’। তাকে বললাম শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ব্লাডপ্রেসারটা গোলমাল করছে। তিনি জবাব দিলেন, ‘যা দিনকাল ব্লাডপ্রেসারের আর দোষ কী? সকলেরই ব্লাডপ্রেসারের চাপ এখন বেশি হওয়ারই কথা।’ ২৮ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে দরবার-ই- জহুর কলামে জহুর হোসেন চৌধুরীর লেখার কয়েকটি লাইন।

১৯৭৫ এর পনের আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশে আবার পাকিস্তানি কায়দায় সামরিক শাসনের শুরুর প্রথম অধ্যায়। ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের আধা ক্যু। জেল খানার মতো সব থেকে নিরাপদ স্থানে জাতীয় চারনেতা হত্যা। ৭ নভেম্বর সামরিক শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ। দেশের ওপর দিয়ে যখন এই দুঃসময় যাচ্ছে। সমস্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠ যে সময়ে সামরিক বিধি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে– এ সময়ে দেশের, সমাজের ও মানুষের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্যে এই ‘ব্লাডপ্রেসারের’ উপমা ব্যবহারের থেকে চরম প্রকাশ আর কী হতে পারে। বাস্তবে জহুর হোসেন চৌধুরী কত বড়মাপের বা কোন মাপের সাংবাদিক ছিলেন তা কোনোদিন বলার প্রয়োজন পড়বে না। জহুর হোসেন চৌধুরী নিজেই তাঁর অবস্থান তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে রেখে গেছেন। আমরা সেদিনও তরুণ বয়সে অবাক বিষ্ময়ে তাঁর সাংবাদিকতা দেখেছি, তাঁর লেখার মধ্যদিয়ে প্রকৃত সত্যকে ও প্রতিবাদকে খুঁজে পেয়েছি। আর আজ পরিণত বয়সে তাঁর শততম জন্মদিনে আবার নতুন করে দেখছি, সাংবাদিক যদি সত্যিই স্বাধীন মনের হয়, তাঁর কণ্ঠ আসলে কেউ রোধ করতে পারে না। তাই সে যত বড় ক্ষমতাশালী শাসক বা ব্যক্তি হোন না কেন।

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট সকাল থেকে এ দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ ছিল। অথচ ১৯৭৫ সালের ৫ অক্টোবর তিনি তাঁর দরবার-ই- জহুর কলামে লিখছেন, “শেখ মুজিব যেদিন পাকিস্তানের বন্দীশালা থেকে ঢাকায় ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে ফিরে এলেন সেদিন এদেশের জনজীবনে যে জোয়ার এসেছিল তা কি কাউকে মনে করিয়ে দিতে হবে?” আহমদুল কবিরের মতো সম্পাদক সম্পাদিত পত্রিকা ও জহুর হোসেন চৌধুরীর মতো সাংবাদিক বলেই কিন্তু ১৯৭৫ এর ৫ অক্টোবরেই বঙ্গবন্ধুর নাম সেদিন উল্লিখিত হয়েছিলো পত্রিকায়। সত্যকে প্রকাশ করেছিলেন।

বাস্তবে জহুর হোসেন চৌধুরী’র মতো সাংবাদিকের এই সাহস কোথা থেকে আসে? এর প্রথম কারণ তিনি হঠাৎ করে জহুর হোসেন চৌধুরী হননি। রাতারাতি কোনও একটা মিডিয়ার প্রাপ্তির যোগে তিনি বড় সাংবাদিক হননি। সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ছিল এক দীর্ঘ পথ চলা। কলকাতার প্রেসিডেন্সির ছাত্র, আজাদ ও স্টেটসম্যানের সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীর পথ চলা ছিল মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গেও। মানবেন্দ্রনাথ রায় শুধু যে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের লেনিন সহ ৯ জনের একজন ছিলেন তা নয়, তিনি কংগ্রেসেরও সভাপতি ছিলেন। তিনি যেমন লেনিনের সঙ্গে লেনিনের চিন্তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করতেন। তাঁর স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরতেন। তেমনি কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গেও। সর্বোপরি এই মানবেন্দ্রনাথ রায় বন্ধু ছিলেন আইনস্টাইনের। আর আইনস্টাইনের সঙ্গে মানবেন্দ্রনাথ রায় যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি তত্ত্ব নিয়ে আলাপ করতেন– সে আলোচনার সময় জহুর হোসেন চৌধুরীও পাশে থাকতেন। বাস্তবে জ্ঞান ও জ্ঞানীদের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠাই মানুষকে একটি স্বাধীন চিন্তার মানুষ হিসেবে তৈরি করে। তৈরি করে তাঁদের দূরদৃষ্টি। তাঁদেরও জীবনে যে কোনও ভুল থাকে না তা নয়, তারপরেও সবার ওপরে তাঁদের একটা জ্ঞান ভিত্তিক স্বাধীন মন থাকে। জহুর হোসেন চৌধুরী সেই মানুষই।

জহুর হোসেন চৌধুরীর এই  দূরদৃষ্টিই আরও বেশি গভীরতায় নিয়ে গিয়েছিলো সেদিন তাঁর পাঠকদের। যেমন ১৯৭০ সালের সাইক্লোন নিয়ে তিনি তাঁর কলামে লিখেছিলেন, ১৯৭০ এর সাইক্লোনের পরে তিনি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশের জন্ম অনিবার্য। মূলত সেদিন লাখ লাখ বাঙালির মৃত্যুর পরে পাকিস্তানিদের উদাসীনতার ছবি তাঁর কাছে বাংলাদেশ সৃষ্টির অনিবার্যতা নিশ্চিত করে দেয়। এর পাশাপাশি ওই সাইক্লোন পরবর্তী বাঙালি উচ্চ মধ্যবিত্তের চরিত্র ও রিলিফ নিয়ে রাজনীতিকদের একটি মহলের বাহবা কুড়াবার কুৎসিত প্রতিযোগিতাও তাঁর চোখ এড়িয়ে যাননি। রাজনীতিকদের একটি মহল যেমন রিলিফ দেওয়ার থেকে বাহবাই চেয়েছিলো বেশি তেমনি উচ্চ মধ্যবিত্তের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র রক্তক্ষরণ হয়নি ওই লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুতে। বাঙালি উচ্চ মধ্যবিত্তের এই চরিত্র শুধু ঢাকার উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্য নয় কলকাতার উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্যেও একই রকমের। যেমন সাংবাদিক পার্থ চট্টোপধ্যায় তার জীবনীতে লিখছেন– ১৯৪২ এর দুর্ভিক্ষে যখন কলকাতার রাজপথে মানুষের মৃতদেহ। চারদিকে নিরন্ন মানুষের মিছিল। সে সময়ে কলকাতার সিনেমা হলে রিলিজ হচ্ছে সুপার হিট সিনেমা। মধ্যবিত্ত- উচ্চ মধ্যবিত্ত উপচে পড়ছে সেখানে। থিয়েটারে যাচ্ছে বিকালে সুসজ্জিত উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা আনন্দ কোলাহলের মধ্য দিয়ে। তাদের গাড়ির পাশেই পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের মৃতদেহ।

জহুর হোসেন চৌধুরী শুধু ১৯৭০ এর সাইক্লোন নিয়ে নয়, নানান ঘটনার মাধ্যমে বাঙালি উচ্চ মধ্যবিত্তের এই চরিত্রের কথা বলে গিয়েছেন। বলে গিয়েছেন বাহবা কুড়ানো রাজনৈতিকদের অসততার কথা। আর পাকিস্তান সৃষ্টির পরেও যে বাঙালি মুসলিম মধ্যবিত্ত পাকিস্তান গড়ে তুলতে পারেনি, রক্ষা করতে পারেনি তারজন্যে পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি অবজ্ঞার পাশাপাশি তিনি বাঙালি উচ্চ মধ্যবিত্ত’র চরিত্র, বাঙালি রাজনীতিকদের চরিত্রকেও দায়ী করেছেন। তাঁর মতে প্রতিবারই জীবন দিয়েছেন সাধারণ মানুষ, সংগ্রাম করেছেন সাধারণ মানুষ আর সুবিধা নিয়েছে উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং দুর্নীতি পরায়ন ব্যবসায়ীরা। বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে না পারার ক্ষেত্রেও কিন্তু তিনি ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন দুর্নীতি পরায়ন ব্যবসায়ীদের সেদিন সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা।

অন্যদিকে ভাসানী’র রাজনীতি নিয়ে একটি নির্মোহ সমালোচনা তিনি মাত্র কয়েক লাইনে করেছেন। সেখানে তিনি বলছেন, বার বার নির্বাচিত সরকারের ব্যর্থতাই মৌলানী ভাসানীকে নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকার নিয়ে একটা অনিহা তৈরি করেছিলো। আসলে মৌলনা ভাসানী বৃটিশের অধীনের দু’বার ভারতে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নির্বাচিত সরকার দেখেছেন। বাংলায় শেরে বাংলার কৃষক প্রজাপার্টি’র শাসন, মুসলিম লীগের শাসন এবং শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ও শেরে বাংলার শাসন দেখেছেন। তারপরে ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের শাসন।  সবই ছিল ব্যর্থতায় ভরা। তাই এসব মিলে মৌলানাকে নিস্পৃহ করে তুলতেই পারে নির্বাচন নিয়ে। তারপরেও ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের সামরিক শাসনের পরে ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৫ জহুর হোসেন চৌধুরী সংবাদে যে কলাম লেখেন সেখানে তিনি মৌলান ভাসানীর কাছে আশা করছিলেন তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নেতৃত্ব দেবেন। কারণ, আন্দোলনের সূচনা করাতে তাঁর মতো পারদর্শী নেতা আসলে কমই জন্মেছেন।

যেমন আজ যে ভারতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ ধুঁকছে। বাংলাদেশে বাঙালি জাতীয়তাবাদ ধুঁকছে। তার বদলে ধর্ম জাতীয়তাবাদের ওপরে ওঠে যাচ্ছে। এখানে মূল ব্যর্থতা যে সংখ্যাগরিষ্ট’র জাতীয়তাবাদ গড়ে তোলার কাজে ব্যর্থতা। এই কাজের দায়িত্ব যে সংখ্যাগরিষ্টের- তা ২ নভেম্বর ১৯৭৫ এর দরবার-ই- জহুর কলামে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন জহুর হোসেন চৌধুরী। একটু সময়টা খেয়াল করলেই বোঝা যাবে কী কঠিন দায়িত্ব তিনি সেদিন পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বাঙালি জাতীয়তাবাদকেও হত্যা করা হয়। আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ যদি কার্যত মারা যায় তাহলে যে বাংলাদেশ মিনি পাকিস্তান হয়ে যায় এ সত্য স্পষ্ট। তাই ১৯৭৫ এর পনের আগস্টের পর থেকে সব থেকে বড় দ্বায়িত্ব হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদকে বাঁচিয়ে রাখা ও তাকে সুসংহত করা। এ কারণে তিনি তাঁর ওই ২ নভেম্বর ১৯৭৫ এর লেখা কলামের শেষ প্যারায় গিয়ে লিখছেন, “বাংলাদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এখানে বাঙ্গালী মুসলমান নেতৃত্বের ওপরই প্রধানতঃ বর্তিয়েছে একটি সুসংহত বাঙ্গালী জাতি গড়ে তুলবার দায়িত্ব। কোন পক্ষের সংকীর্ণতা ও বাড়াবাড়ি যাতে দেখা না যায় এ ব্যাপারে লক্ষ্য তাঁদেরই প্রধানতঃ রাখতে হবে। হিন্দু নেতৃত্বকে দেখতে হবে ভিতরের বাইরের কোনরূপ উস্কানির প্রভাবে যেন না পড়েন। বাঙ্গালিত্ব সম্বন্ধে মনের দ্বন্ধ দূর না হলে ভবিষ্যতে দুর্ভোগ আছে।”

মহৎ সাংবাদিকতা যে কালকে অতিক্রম করে যায় জহুর হোসেন চৌধুরীর এই কয়টি লাইন তার এক অনন্য প্রমাণ। আজকের বাংলাদেশে এই লাইনগুলোই কি বার বার উচ্চারিত হওয়া উচিত নয়?

বাঙালিত্ব’র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের একটি প্রতীক হয়ে গেছে রমনা বটমূলে ছায়ানটের ১ লা বৈশাখ পালনের অনুষ্ঠান। ১৯৭৯ সালে এই স্থানে ওই স্থানে রাত বারোটা এক মিনিটে জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দল সেখানে প্রোগ্রামের ঘোষণা দেয়। সেদিন ওই সামরিক শাসনের মধ্য বসেও ছায়ানটের অনুষ্ঠান যাতে কোনোরূপ বাধাগ্রস্থ না হয় তা নিয়ে লিখেছিলেন জহুর হোসেন চৌধুরী। এবং তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, এই বাঙালি জাতীয়তাবাদে বাধা দেবার কারণেই পাকিস্তান ধ্বংস হয়ে যায়।

বাস্তবে বাঙালিকে তার সংস্কৃতি নিয়ে তার স্বাধীন ছন্দ নিয়ে তাকে বেড়ে উঠতে দিতে হবে। কোনোরূপ সামরিক শাসন, ব্যক্তি শাসনের কঠোরতা এমনিক ধর্মীয় কঠোরতার আইন দিয়ে এ জাতিকে পরিচালিত করা ভুল- সে কথাও আইয়ুব খানের মার্শল ল’ জারির ঘটনা উল্লেখ করে ১৯৭৬ সালের ২২ জুন তিনি তার দরবার-ই- জহুর এ চমৎকার ভাবে লিখেছিলেন। রাতে মার্শল’ল জারি হলে সংবাদের শিফট ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা কবি হাবিবুর রহমান ( খেলাঘরের ‘ভাইয়া’) তৎকালীন সংবাদের সম্পাদক জহুর হোসেন চৌধুরীকে ফোন করেন। জহুর হোসেন চৌধুরী ফোন ধরতেই এ প্রান্ত থেকে কবি হাবিবুর রহমান তাকে শোনান, “ চলে নীল শাড়ি, নীঙাড়ি নীঙাড়ি, পরান সহিত মোর, মোওওর।” তখন জহুর হোসেন চৌধুরী বুঝতে পারেন কঠিন কিছু একটা ঘটেছে। সে সময়ে ফোনে তাদের কথা বার্তা কী ছিল তা নিয়ে তিনি লিখছেন- “ কি হলো? ৯২/ক ধারা?  ‘না’। ইমারজেন্সি? ‘না’। মার্শল ল? ‘হ্যাঁ’।  নিঃসাড় হয়ে গেলাম। কিন্তু প্রথমেই মনে হলো কী অদ্ভূত লোক! দেশে মার্শল ল’ জারীর খবর দিচ্ছে নিছক প্রেমের গানের লাইন আওড়ে। লাফ দিয়ে ওঠা হৃদয়টাতে ঠান্ডা প্রলেপ দেয়া হল- এ জাতকে কোন আইন দিয়ে কিছু করা যাবে না, যদি বলি কিছু করা যায় তা প্রেম ও ভালোবাসা দিয়ে।”

২২ জুন ১৯৭৬ এর কঠোর মার্শল ল’র মধ্যে বসে এই ছিল মার্শল ল’ এর বিরুদ্ধে এমনই ছিল জহুর হোসেন চৌধুরীর সাংবাদিকতা।

আজ তার শততম জম্মদিনে শুধু তাঁর প্রতি মাথা নত করলেই কি আমাদের ঋণ শোধ হবে– না তাঁদের সাংবাদিকতাই এগিয়ে নিলে কিছুটা হলেও ঋণ শোধ হবে?

১৯৭৬ সালের পরে আর চার বছরও বাঁচেননি জহুর হোসেন চৌধুরী। ১৯৮০ সালের ১১ ডিসেম্বর তিনি পিজি হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু ইতিহাসের এই পথ পরিক্রমার পরে আজ আমাদের একটি সত্য খোঁজা দরকার- বাস্তবে আমাদের দুই প্রবাদ প্রতীম সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও জহুর হোসেন চৌধুরী কি সামরিক শাসকের হাতের বলি নয়? তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে ১৯৬৬ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খান গ্রেফতার করেন। তারপরে তিনি আর তিন বছরও বাঁচেননি। আর অসুস্থ সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীকে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান গ্রেফতার করেন ১৯৮০ সালে তার পরে তিনি আর বেশিদিন বাঁচেননি। আসলে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, তাঁদের স্বাধীন মনের ওপর রাষ্ট্রের এই নিপীড়ন যে কত বড় আঘাত দেয় তা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, এ আঘাত তাঁদের শরীরও বেশি দিন সহ্য করতে পারে না।

তাই জহুর হোসেন চৌধুরীর জম্মশতবর্ষে  রবীন্দ্রনাথের ‘প্রার্থনা’ কবিতার মতো আমাদেরও প্রার্থনা হোক– “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,/ জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর/ আপন প্রাঙ্গনতলে দিবসশর্বরী/ বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,/ যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমূখ হতে/ উচ্ছসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে/ দেশে দেশে দিশে দশে কর্মধারা ধায়/ অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়/ ।”  আর এই ভয়শূন্য হৃদয়ের উৎস মুখের উচ্ছ্বসিত বাক্যের দেশ ও সমাজ গড়েই আগামী প্রজম্মের সাংবাদিকদের গড়ে তোলা হোক জহুর হোসেন চৌধুরী’র প্রকৃত উত্তরাধিকারী হিসেবে।  

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্যে রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত।

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বশেষসর্বাধিক