মাঝেমধ্যে দুঃখ হয় এবং নিজেকে অসহায় লাগে। মনে পড়ে যায়, আশি বা নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে লেখা কবি শামসুর রাহমানের সেই বিখ্যাত কবিতার লাইন, ‘অদ্ভুত ঊটের পিঠে চলেছে স্বদেশ।’ আমার মার্তৃভূমি কি আবারও উঠেছে সেই ঊটের পিঠে নতুন করে? এই যে আক্ষেপ আমার, তার পেছনে আছে বাংলাদেশের নতুন সংসদে ঘটে যাওয়া কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা। সেগুলো নিয়েই এই আজকের লেখা।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ কেবল আইন প্রণয়নের স্থান নয়, এটি একটি জাতির ঐতিহাসিক স্মৃতি ও নৈতিক চেতনার প্রতীকী মঞ্চ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা প্রায়ই বলেন, সংসদ হলো সেই জায়গা, যেখানে একটি জাতি তার স্বাধীনতার ইতিহাস, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং শহীদদের স্মৃতিকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা— জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি (!), যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ওয়াকআউট, এই মৌলিক নৈতিক কাঠামোকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ছিল জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের না দাঁড়ানো। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি যখন প্রবেশ করেন এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজতে থাকে, তখন সরকারদলীয় এমপিরা সম্মান জানিয়ে দাঁড়ালেও বিরোধী জোটের অংশ জামায়াত– এনসিপির সদস্যরা প্রথমে বসেই থাকেন এবং পরে আংশিকভাবে দাঁড়ান, এটি কোনও ‘স্বতঃস্ফুর্ত’ ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। তারা একইসঙ্গে প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ‘ফ্যাসিস্ট’, ‘কিলার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন, এটাকে স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, জাতীয় সঙ্গীতের সময়টাকেই তারা প্রতীকী সংঘাতের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর আগের যেসব সংসদে তারা সদস্য ছিলেন, সেসব সংসদে তাদের এমন ধৃষ্টতার কথা জানা যায়না। অর্থাৎ এবারই প্রথম তারা এই সাহস দেখিয়েছেন। অন্য কথায়, বিরোধী দলে থাকলেও, তাদের বিশাল সংখ্যায় সংসদে যাওয়া মানেই হচ্ছে বাংলাদেশকে অপমান করা।
আধুনিক রাষ্ট্রতত্ত্বে জাতীয় সঙ্গীতকে কেবল একটি গান হিসেবে দেখা হয় না, এটি রাষ্ট্রের ‘সিম্বলিক কন্সটিটিউশন, অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতীকী সংবিধান। রাজনৈতিক তাত্ত্বিক বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের মতে, জাতি হলো একটি “imagined community”, যা মানুষের যৌথ স্মৃতি ও প্রতীকের মাধ্যমে নির্মিত হয়। জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্বাধীনতার স্মারক দিবস— এসবই সেই প্রতীকী ঐক্যের অংশ। সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান দেখানো তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়— এটি রাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ। সেই মুহূর্তে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো মানে কেবল একটি প্রোটোকল ভঙ্গ করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক চুক্তিকে অস্বীকার করা, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ১৯৭১ সালে।
আরেকটি বিষয়ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নাৎসি মতাদর্শকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। সেখানে নাৎসি প্রতীক ব্যবহার আইনত অপরাধ, এবং নাৎসি নেতাদের স্মরণে কোনও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান কল্পনাও করা যায় না। ইতালির উদাহরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালি ফ্যাসিস্ট শাসক বেনিতো মুসোলিনির পতনের পর “anti-fascist constitutional order” প্রতিষ্ঠা করে। ইতালির সংবিধান ও আইনি কাঠামোতে ফ্যাসিস্ট সংগঠন পুনর্গঠন নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ রাষ্ট্র বুঝেছিল, যদি ফ্যাসিবাদী অতীতকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক মত হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তাহলে গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়বে। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতাও শিক্ষণীয়। বর্নবাদী শাসনের পতনের পর দেশটি “Truth and Reconciliation Commission” গঠন করে। সেখানে লক্ষ্য ছিল শুধু অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা যে বর্ণবাদী নিপীড়ন ছিল একটি নৈতিক অপরাধ। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদে বর্নবাদী শাসনকে বৈধতা দেওয়া নেতাদের জন্য শোকপ্রস্তাব কল্পনাও করা যায় না। কারণ রাষ্ট্র সেখানে স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে কোনও ইতিহাসকে মর্যাদা দেওয়া হবে এবং কোনটিকে প্রত্যাখ্যান করা হবে।
চিলিতেও একই অভিজ্ঞতা দেখা যায়। জেনারেল অগাস্তো পিনোশের সামরিক শাসন দীর্ঘদিন দেশটিকে দমন-পীড়নের মধ্যে রেখেছিল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর চিলি সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকার করে যে, সামরিক শাসনের সময় সংঘটিত অপরাধগুলো ছিল গণতন্ত্রবিরোধী অপরাধ। এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় যে, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো তাদের ইতিহাসের নৈতিক সীমারেখাকে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় বানায় না।
একইভাবে স্পেনে ফ্রাঙ্কো শাসনের পতনের পর “Law of Historical Memory” পাস করা হয়, যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রতীকগুলোকে রাষ্ট্রীয় পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর সরকার “genocide ideology law” প্রণয়ন করে, যাতে গণহত্যার অপরাধীদের মহিমান্বিত করা আইনত নিষিদ্ধ। এসব উদাহরণ দেখায় যে, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো তাদের ইতিহাসের নৈতিক সীমারেখা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করে। সেই সীমারেখা লঙ্ঘন করলে তা শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তির ওপর আঘাতও বটে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও মুক্তিযুদ্ধ সেই নৈতিক সীমারেখা। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীরা যে গণহত্যা চালিয়েছিল, তা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২ লাখ নারী ধর্ষণের শিকার হন। এই অপরাধের বিচার করার জন্য বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। সেই ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েকজন যুদ্ধাপরাধী নেতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত করে। ট্রাইব্যুনালের রায়গুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধগুলো ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধ। যদি আপনি রায় নাও মানেন, কেবলমাত্র একাত্তোর সালের সংগ্রাম পত্রিকার খবরগুলো পড়লেও এই মানুষগুলোর বিভিন্ন স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। এসব কাজের মধ্যে মানুষ হত্যাতো বটেই, মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়ার শক্ত আহবানও থাকতো পত্রিকাজুড়ে। এর ওপর এই দলটি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো সরকারিভাবে জড়িত ছিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে। এ বিষয়ে অধ্যাদেশও জারি হয়েছিল সে সময়। এগুলো বিচারিক প্রমানের বিষয় নয় শুধু, মানুষের স্মৃতিতেও বেঁচে আছে এসব রক্তাক্ত অধ্যায়।
এই প্রেক্ষাপটে সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা একটি গভীর নৈতিক সংকট তৈরি করে। রাষ্ট্র যদি যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়, তাহলে তা ভুক্তভোগীদের স্মৃতিকে অপমান করে এবং বিচারব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। জার্মানি বা রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোতে এমন ঘটনা ঘটলে, তা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হতো। কারণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে ইতিহাসের নৈতিক সীমারেখাকে অত্যন্ত কঠোরভাবে রক্ষা করে।
তৃতীয় ঘটনাটিও গুরুত্ত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বলা হয়েছে যে তিনি “ফ্যাসিস্টের দোসর”। গণতন্ত্রে প্রতিবাদ বা ওয়াকআউট নতুন কিছু নয়; সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি বৈধ কৌশল। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব দেখা যায়। যে রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ সদস্যরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন, পরে তাকেই অবৈধ বা ফ্যাসিবাদের সহযোগী বলা রাজনৈতিকভাবে একটি “performative contradiction”, অর্থাৎ নিজের কাজের মাধ্যমেই নিজের বক্তব্যকে খণ্ডন করা। রাজনৈতিক তত্ত্বে এটিকে “legitimacy paradox” বলা হয়। একজন রাজনৈতিক অভিনেতা যখন একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধতাকে ব্যবহার করে ক্ষমতার অংশীদার হন, কিন্তু পরে সেই প্রতিষ্ঠানকেই অস্বীকার করেন, তখন তিনি আসলে রাষ্ট্রীয় বৈধতার ধারণাকেই দুর্বল করেন।
সমস্যা হলো, এখানে বিরোধিতার লক্ষ্য সরকার বা কোনও বিশেষ নীতি নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতীকী ঐক্য নিজেই। গণতন্ত্রে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বৈধ; কিন্তু জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; এটি রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতীকের ওপর এক ধরনের ‘প্রতীকী অবমাননা’ (symbolic desecration)। সংসদে জাতীয় সঙ্গীতের সময় দাঁড়ানো কোনও আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়; এটি মাইকেল বিলিগের ভাষায় ‘দৈনন্দিন জাতীয়তাবাদ’ বা Banal Nationalism এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রতিদিনের ক্ষুদ্র প্রতীকী অনুষঙ্গ, যেমন- জাতীয় সঙ্গীত রাষ্ট্রের প্রতি স্বাভাবিক আনুগত্য তৈরি করে; এই জায়গায় ইচ্ছাকৃত অশ্রদ্ধা আসলে সেই আনুগত্যকে ভেঙে দেওয়ার প্রকল্প।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি আরও সংবেদনশীল, কারণ “আমার সোনার বাংলা” মুক্তিযুদ্ধের আবেগ, শহীদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানি দখলবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সাংস্কৃতিক প্রতীক। এই গান চলাকালে অসম্মানজনক আচরণ, বিশেষত এমন এক দলের পক্ষ থেকে, যারা ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭১ এ পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর নতুন করে আঘাতের সামিল।
এই তিনটি ঘটনাকে একত্রে দেখলে একটি বৃহত্তর তাত্ত্বিক চিত্র স্পষ্ট হয়। সমাজতাত্ত্বিক পিয়ের বুর্দিয়ুর ভাষায় রাষ্ট্র কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি একটি “symbolic power”, যে শক্তি মানুষের মধ্যে বৈধতার ধারণা তৈরি করে। সংসদ সেই প্রতীকী শক্তির কেন্দ্র। যখন সংসদের ভেতরেই জাতীয় সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, এসব প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতীকী কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অসম্মান, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোকপ্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদাকে অস্বীকার— এই ঘটনাগুলো একত্রে রাষ্ট্রের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একটি ‘প্রতীকী বৈধতাহরণ’ (symbolic delegitimation) প্রক্রিয়া তৈরি করে, অর্থাৎ রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকে প্রতীকীভাবে ক্ষয় করা।
বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালেও এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই স্বাধীনতার আদর্শ এবং পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির মধ্যে একটি মৌলিক সংঘাত ছিল। সেই সংঘাত আজও বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে ফিরে আসে। কিন্তু সংসদের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যখন সেই দ্বন্দ্ব প্রতীকী অবমাননার রূপ নেয়, তখন তা আর সাধারণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকে না; এটি রাষ্ট্রের আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে পরিণত হয়।
গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু কিছু মৌলিক প্রশ্ন আছে যা একটি জাতির নৈতিক ঐকমত্যের অংশ, স্বাধীনতার ইতিহাস, শহীদের স্মৃতি এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতীক। এগুলোকে যদি দলীয় রাজনীতির হাতিয়ার বানানো হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যায়। কারণ গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন নয়; এটি একটি যৌথ নৈতিক চুক্তি।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সেই নৈতিক চুক্তির প্রতীক হওয়া উচিত। সেখানে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি অসম্মান, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সহানুভূতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি দ্বৈত আচরণ, এসব কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এগুলো রাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত গভীর নৈতিক প্রশ্ন। ইতিহাসকে অস্বীকার করে রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। সংসদের দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই ইতিহাসকে মর্যাদা দেওয়া, বিতর্ককে নয়। সংসদ যদি এই দায়িত্ব পালন না করে, তবে আমাদের মার্তৃভূমি যে ঊটের পিঠে চড়ে বসবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কিন্তু অসায়হতার এক যন্ত্রনাবিদ্ধ অনুভূতি নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।
লেখক: অধ্যাপক অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ডিপার্টমেন্ট অব সোশ্যাল সায়েন্স




