নতুন সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা 

মোস্তফা মোরশেদ
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০০আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:০০

নতুন সরকার ক্ষমতায়। রাজনৈতিক কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যক্তি পর্যায়ে মানুষ তার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন। এগুলো অনেক ক্ষেত্রে খুব সাধারণভাবে বা মোটাদাগে চিত্রায়িত। যেমন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে, ইত্যাদি। এসব প্রস্তাব থেকে প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া দুষ্কর। একইভাবে, খুব সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বাস্তবায়নযোগ্যও নয়। যেমন, বলা হলো ট্যাক্স-জিডিপি বাড়াতে হবে। বিষয়টি এত ব্যাপক যে এক লাইনে সমাধান সম্ভব নয়। আজকের লেখায় খুবই অল্প সংখ্যক প্রত্যাশার কথা লিখছি— যা (পর্যায়ক্রমে) বাস্তবায়ন করলে দেশের সার্বিক কল্যাণ হতে পারে মর্মে আমার কাছে প্রতীয়মান।

বাংলাদেশ বর্তমানে একাধিক কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি— ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা, প্রশাসনিক অসামঞ্জস্য, দুর্বল আর্থিক স্বচ্ছতা, পুঁজি বাজারের সীমাবদ্ধতা এবং আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থার সংকট ইত্যাদি। এসব সমস্যা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সমন্বয়ের অভাব থেকেই এগুলোর উৎপত্তি। ডগলাস নর্থ (১৯৯০) প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে দেখিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ‘রুলস অব দ্য গেম’ নির্ধারণ করে। দুর্বল, অস্পষ্ট বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠান লেনদেন ব্যয় বাড়ায়, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং রেন্ট-সিকিং প্রবণতাকে উৎসাহিত করে। অ্যাকোমোগলু ও রবিনসন (২০১২) বলেছেন, সংস্কার সবসময় রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নয়। যেসব গোষ্ঠী বিদ্যমান ব্যবস্থায় সুবিধা পান না, তারা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে কার্যকর সংস্কারের জন্য প্রণোদনা কাঠামোর পরিবর্তন জরুরি।

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা প্রায়ই একটি ‘গ্রোথ প্যারাডক্স’  হিসেবে আলোচিত হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও শাসন ব্যবস্থার মান সে অনুপাতে উন্নত হয়নি। ভূমি প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা, সরকারি দফতরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পদ কাঠামো, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব, পুঁজিবাজারের সীমিত গভীরতা এবং পাবলিক পরীক্ষায় আস্থাহীনতা, ইত্যাদি এসব সমস্যার বহিঃপ্রকাশ। এ লেখার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের চলমান বাস্তবতায় সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোকে একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করা এবং কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নকে টেকসই করা যায়, তা আলোচনা করা। নিচে উল্লিখিত প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক দক্ষতা উন্নয়ন জোরদার করতে সহায়ক হবে।

এক. ভূমি আইন ও নির্দেশনার সমন্বয়

বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত আইন, বিধি ও পরিপত্র বহু দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে প্রণীত হওয়ায় অনেকাংশে একটি খণ্ডিত আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০, ল্যান্ড রিফর্মস অর্ডিন্যান্স (বর্তমানে ভূমি সংস্কার আইন ২০২৩), রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮, ইত্যাদি এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিপত্র ও সার্কুলার। ফলে একদিকে আইনগত অসামঞ্জস্য, অন্যদিকে মাঠ প্রশাসনে ব্যাখ্যাগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এর ফলে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা, ভূমি বিরোধের ফলে মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির ভাষায়, এতে লেনদেনের খরচ বৃদ্ধি পায় এবং সম্পত্তির অধিকারকে অনিরাপদ করে তোলে। নর্থ (১৯৯০) দেখিয়েছেন, দুর্বল মালিকানা স্বত্ব অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। ভিয়েতনাম ও রুয়ান্ডার মতো দেশগুলো ভূমি আইনের সংস্কারে ইউনিফায়েড ল্যান্ড কোড গ্রহণ করেছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ল্যান্ড কোড অব বাংলাদেশ  প্রণয়ন করা যেতে পারে, যেখানে বিদ্যমান সব আইন ও নির্দেশনার কোডিফিকেশন থাকবে। এর মাধ্যমে মালিকানা, ব্যবহার, কর ও হস্তান্তর একক কাঠামোয় আনা সম্ভব হবে। ফলে ভূমি বিরোধ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং ভূমিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করছি। এছাড়া, ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে আইনি স্বীকৃতি এবং মাঠ পর্যায়ে একক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নির্দেশিকা প্রদান করা যেতে পারে। এ উদ্যোগ ভূমি প্রশাসনকে কেবল দক্ষই করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের আইনি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।

দুই. নাগরিকসেবার জন্য প্রতিশ্রুত সব প্রশাসনিক উদ্যোগের সমন্বয়

বাংলাদেশে সুশাসন জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি (সিটিজেনস চার্টার), অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (বর্তমানে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি), তথ্য অধিকার, উদ্ভাবনী কার্যক্রম, সেবা সহজিকরণ ইত্যাদি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়াও, এসডিজি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সব মন্ত্রণালয় বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

নাগরিকরা এসব কার্যক্রম সম্পর্কে কতটুকু ওয়াকিবহাল সেটি যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমনই এগুলো কতটুকু কার্যকরভাবে কাজ করছে সেটি আলোচনার দাবি রাখে। এসব উদ্যোগকে একটি ‘সফটওয়্যারভিত্তিক মডেলের’ মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে—যাতে কোনও একটি চলকসূচক পরিবর্তিত হলে অন্যান্য সেবার প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটে। এর জন্য একটি ধারাবাহিক ও সমন্বিত কাঠামো লাগবে। আলাদা আলাদা কাঠামোয় পরিচালনার কারণে অনেকসময় দ্বৈত ফলাফল দিতে পারে। একইসঙ্গে দায়বদ্ধতার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কিনা, সেটি দেখা জরুরি। সব উদ্যোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একসঙ্গে মনিটর করা সম্ভব না হলে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ রয়েই যাবে। সব কাঠামোকে একটি ইন্টিগ্রটেড পারফরম্যান্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রিটি ফ্রেমওয়ার্কে আনা যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে এবং সেবার মান উন্নয়ন হবে। বর্তমানে সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সংক্ষেপে জিপিএমএস-এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।

তিন. ব্যক্তি পর্যায়ে একক হিসাব সংরক্ষণ ব্যবস্থা

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করলে দীর্ঘ তালিকা তৈরি হয়ে যায়। যেমন, কর্মসংস্থানের সুযোগ কম, রফতানি আয়ে বৈচিত্র্য নাই, ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে কার্যকর সমাধান বের করতে চান, তাহলে খুব সুনির্দিষ্টভাবে অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। এ তালিকার শুরুতেই থাকবে ট্যাক্স- জিডিপি’র অনুপাত অনেক কম, যা বিশ্বের একই আয় স্তরের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম হিসেবে বিবেচিত। আমাদের ট্যাক্স-জিডিপি’র অনুপাত ৯ শতাংশের মতো। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক শক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায়, আমার মতে এটি ২০ শতাংশ হওয়া উচিত। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকার ২০৩৫ সালে একে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে আগ্রহী। প্রত্যক্ষ করের আওতা ও পরিমাণ বাড়িয়ে ট্যাক্স– জিডিপি বাড়ানো যেতে পারে। কারণ পরোক্ষ কর অর্থনীতিতে আয়বৈষম্য সৃষ্টি করে।

ট্যাক্স-জিডিপি’র অনুপাত বাড়ানোর মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রথমত, রাজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি এবং দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে উন্নয়ন ব্যয়ে বৈদেশিক নির্ভরতা কমানো যাবে। এছাড়া, প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে পরোক্ষ করের ওপর প্রভাব কমিয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো সম্ভব। ব্যক্তি পর্যায়ে সকল লেনদেন একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালনা করার মাধ্যমে সরকার যেকোনও ব্যক্তির আয়ের সব তথ্য জানতে পারবে। ফলে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা যাবে। এনবিআরের তথ্য মতে, দেশে টিআইএন রয়েছে—এমন নাগরিকের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এর মধ্যে মাত্র ৩০ লাখ আয়কর দিয়ে থাকেন। পৃথিবীর ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির সাথে এটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যিনি আর্থিকভাবে কর দেওয়ার উপযোগী। সবাইকে মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হলে সরকারকে লেনদেনের তথ্য জানতে হবে। ব্যক্তি পর্যায়ে সবার লেনদেন একটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের মধ্য দিয়ে গেলেই কেবল সরকার কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবে। এক্ষেত্রে রিয়েল-টাইম অডিট ও নজরদারি করাও সম্ভব হবে। কাজটি সহজ নয়। বিভিন্ন পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ‘একক হিসাব সংরক্ষণ’ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে করের আওতা বিস্তৃত করতে হবে। প্রয়োজনে অফিস খুলে মনিটর করতে হবে। এটি বাংলাদেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হতে পারে।

চার. সরকারি দফতরে তৃতীয় শ্রেণির পদগুলোর সমন্বয়

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা সংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম হলেও নীতিগতভাবে অবহেলিত। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর সংস্থায় একই ধরনের কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদবি, বেতন কাঠামো ও দায়িত্ব বিদ্যমান। ফলে তৃতীয় শ্রেণির পদগুলোর পদবি, দায়িত্ব ও বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়। কোনও কোনও পদের বিপরীতে পদোন্নতি রয়েছে; আবার কোথাও নাই। এছাড়া, এক দফতরে ‘অফিস সহকারী’, অন্য দফতরে ‘কাম-কম্পিউটার অপারেটর’; যেখানে কাজের ধরন প্রায় একই। এ সব পদে বদলি বা পদোন্নতির সুযোগ সীমিত। তাছাড়া, দুর্বল প্রশিক্ষণ কাঠামোর কারণে প্রশাসনে দক্ষতা ও মনোবল দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জনপ্রশাসন আলোচনায়, একটি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাস, দক্ষতাভিত্তিক বদলি ও পদায়ন এবং যোগ্যতাভিত্তিক পদোন্নতি। শুধু তৃতীয় শ্রেণির পদ নয় বরং জনপ্রশাসনের সকল স্তরেই এটি প্রযোজ্য। একটি ইউনিফায়েড জব ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম চালু করতে পারলে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে। এরকম একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি, অভিন্ন স্কিল সেট ও ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন, কাজভিত্তিক পদবিন্যাস, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও স্কিল আপগ্রেডেশন এবং আন্তদফতর বদলির মাধ্যমে এ শ্রেণির কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ রয়েছে। এটি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর একটি স্বল্প খরচনির্ভর প্রক্রিয়া যার প্রভাব অনেক বিস্তৃত। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য সাধারণ ক্যাডার-ভিত্তিক কাঠামো চালু রয়েছে, যেখানে কাজের ধরন অনুযায়ী স্কিল ম্যাপিং করা হয়।

পাঁচ. জমির পরিমাণ ছোট-বড় নির্বিশেষে খাজনা প্রদান

ভূমি রাজস্ব বা খাজনা ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাচীন আয়ের উৎস হলেও বর্তমানে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম। তবে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি। বর্তমানে ছোট জমির ক্ষেত্রে খাজনা আদায়ে শিথিলতা রয়েছে, যা ট্যাক্স দেওয়ার প্রবণতাকে দুর্বল করে এবং ভূমির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার সম্পর্ককে ক্ষীণ করে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘা (বা ৮.২৫ একর) পর্যন্ত হলে কোনও খাজনা দিতে হয় না। যদিও জমির মালিকানা ধরে রাখতে ই-পর্চা বা ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে মওকুফ দাখিলা গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের মতে, কর প্রদান কেবল রাজস্ব আহরণের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্র–নাগরিক সম্পর্কের ভিত্তি। যখন নাগরিক নিয়মিত কর দেয়, তখন তারা রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করার নৈতিক অবস্থানে থাকে। অন্তত তিনটি কারণে সকল জমির জন্য নামমাত্র (ধরা যাক, ১০ শতাংশের জন্য বাৎসরিক ১ টাকা) হলেও খাজনা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে— ক. এতে ভূমি রাজস্ব বাড়বে, খ. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি নাগরিক আগ্রহ বাড়ার মাধ্যমে নাগরিক-রাষ্ট্র সম্পর্ক মজবুত হবে, এবং গ. ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের ফলে সৃষ্ট মামলা কমে যাবে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে ক্ষুদ্র জমির ক্ষেত্রে নামমাত্র হলেও ভূমি কর বাধ্যতামূলক। কম কিংবা বেশি জমির পরিমাণ নির্বিশেষে সর্বজনীন খাজনা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অল্প পরিমাণ জমির জন্য খাজনার হার প্রতীকী ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাখা, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট চালু করা এবং ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় খাজনার তথ্য সংযোগ করা যেতে পারে।

ছয়. উপজেলাভিত্তিক নির্দিষ্ট ভবনে পাবলিক পরীক্ষা

দেশব্যাপী বছরজুড়ে অনেক পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব পরীক্ষার ভেন্যু হিসেবে মূলত উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নকল বা অন্যান্য অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থেকেই যায়। কেন্দ্রভেদে ব্যবস্থাপনার মানে বড় পার্থক্যের কারণে অস্থায়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠাননির্ভর পরীক্ষাকেন্দ্রের কারণে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যর্থতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া, কেন্দ্রভেদে অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও নজরদারি ভিন্ন হওয়ায় সব শিক্ষার্থীর জন্য বৈষম্যহীন পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয় না।

উপজেলা পর্যায়ে স্থায়ী পরীক্ষা ভবন নির্মাণ করে সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষা (এসএসসি, চাকরির পরীক্ষা ইত্যাদি) পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট লোকবল নিয়োগ করা যেতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিশেষায়িত পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা এবং সিসিটিভি ও বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরবে বলে আমি মনে করছি। এ উদ্যোগ পরীক্ষাকে একটি ‘ঘটনা’ নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করবে।

সাত. প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য বিশেষ কমিশন

একটি জাতির এগিয়ে চলার নেপথ্যে রয়েছে এর শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে মানসম্মত প্রশ্ন প্রণয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। বলতে দ্বিধা নাই, বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে বিগত কয়েক বছরের প্রশ্নপত্র অনেক সময় একই রকম হয়ে থাকে। কিংবা, প্রতি এক বছর পর পর একই প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। ফলে সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতিও কার্যকর হয়ে ওঠেনি। এছাড়া, বাংলাদেশে প্রশ্ন প্রণয়ন বর্তমানে বিভিন্ন বোর্ড ও সংস্থার মাধ্যমে খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হয়। এর ফলে প্রশ্নের মান, নিরাপত্তা ও দায়বদ্ধতা — তিন ক্ষেত্রেই ঘাটতি দেখা যায়। মানসম্মত ও আধুনিক প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য একটি স্বাধীন জাতীয় প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়ন কমিশন গঠন করা যেতে পারে যারা দেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়ন করবে।

আট. উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দফতর সংস্থায় ক্যাডার অফিসার পদায়ন

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে থানা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। জননিরাপত্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যকর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। বর্তমানে অধিকাংশ থানায় ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলা পর্যায়ে পুলিশ বিভাগের ক্যাডার অফিসারদের পদায়ন করা যেতে পারে। ফলে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য অফিস দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় উন্নত হবে। এ উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলাকে কেবল শক্তিশালীই করবে না, বরং স্থানীয় পর্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। একইভাবে, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে ট্যাক্স অফিসের কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

নয়. পুঁজি বাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের লিস্টিং বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধির তুলনায় পুঁজিবাজারের বিকাশ অত্যন্ত সীমিত। অর্থনীতির পাঠ বলছে, একটি কার্যকর পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, ঝুঁকি বণ্টন এবং কর্পোরেট শাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৬২৫টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরির বা দুর্বল মানের। এছাড়া, শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে অনুপস্থিতি। তালিকাভুক্তির বাইরে থাকায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত জবাবদিহির বাইরে থাকে। এটি আর্থিক পরিচালনায় অসমতা তৈরি করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কর্পোরেট ফাইন্যান্সিংয়ের বড় অংশ ব্যাংকনির্ভর হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং আর্থিক ঝুঁকি কেন্দ্রীভূত হয়।

কেন স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানসমূহ লিপিবদ্ধ হতে চায় না সে বিষয়ে একটি গবেষণা সম্পাদন করা যেতে পারে। এছাড়া, নির্দিষ্ট আকারের প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক লিস্টিং করা জরুরি। এমনকি এর বিপরীতে কর প্রণোদনা কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে বাজারের গভীরতা বাড়বে ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ হবে এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স উন্নত করবে। সবচেয়ে বড় কথা ব্যাংকিং খাতের চাপ কমাবে।

বাংলাদেশের মার্কেট ক্যাপ থেকে জিডিপি অনুপাত (একে বুফে সূচকও বলে) উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম, মাত্র ২০ শতাংশের নিচে। এটি ৭৫ শতাংশের নিচে হলে সে বাজার অবমূল্যায়িত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারত ও মালয়েশিয়ায় নির্দিষ্ট আকার, টার্নওভার বা বাজার প্রভাবসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ম্যান্ডেটরি বা ক্যুয়াসি ম্যান্ডেটরি ব্যবস্থা রয়েছে। শুরুতে কর প্রণোদনা ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিরোধ কমানো হয়েছে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠনসহ বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করার কথা বলা হয়েছে।

মনে রাখতে হবে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি মানে কেবল শেয়ার বিক্রি নয়; এর সঙ্গে আর্থিক প্রকাশ, স্বাধীন অডিট, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারের অধিকার, ইত্যাদি যুক্ত থাকে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করে নির্দিষ্ট টার্নওভারসম্পদের ঊর্ধ্বে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক লিস্টিং এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এর ফলে পুঁজিবাজার আরও গভীর হবে, ব্যাংকিং ঝুঁকি কমবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে।

দশ. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের কার্যকর ব্যবহার

রিজার্ভ শুধু সঞ্চয় নয়, এটি সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘদিন ধরে নীতিগতভাবে ‘বাফার স্টক’ হিসেবে বিবেচিত। ব্যবহারিক দিক থেকে এটি মূলত জরুরি আমদানি মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা করে থাকে। রক্ষণশীল অর্থনীতিবিদগণ রফতানি আয় না থাকলে কমপক্ষে ছয় মাসের আমদানি মেটানোর জন্য যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থাকা দরকার সেটিকে অপ্টিমাম হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে অপ্টিমামের অতিরিক্ত রিজার্ভ ব্যবহারে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করতে পারে। স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগ অংশ আলাদা করে রিজার্ভকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে রিজার্ভের সতর্ক ব্যবহারই সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। বিভিন্ন সেক্টরকেন্দ্রিক অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা যায়। যেমন, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাংলাদেশ বিমান যেহেতু এক ধরনের মনোপলি, তাই কিছু উদ্যোগ নিলেই এসব প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করে রাজস্ব আয় বাড়ানো যেতে পারে। কার্যত প্রতিটি সেক্টরে শতভাগ সমন্বয় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টর মাস্টার প্ল্যান অব বাংলাদেশ এর খসড়া বলছে, সড়ক, নৌ ও রেলপথকে ঘিরে আমাদের যে যোগাযোগ অবকাঠামো রয়েছে সেখানে ২৩ কিমি সড়ক এবং ৩৫ কিমি রেলপথ নির্মাণ করা হলে একটি মাল্টিমোডাল হাব তৈরি হবে। এখানে পুরা সেক্টরের সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

বলতে দ্বিধা নাই, যখন ‘অনেক অগ্রাধিকার তৈরি হয়, কার্যত কোনও অগ্রাধিকার আর থাকে না’। তাই এ আলোচনায় খুবই নির্দিষ্ট কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাতে করে পর্যায়ক্রমিকভাবে এগুলো বাস্তবায়ন করা যায়। জনগণ আসলে কোথায়, কী প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো দেখতে চায় না; জনগণ সরাসরি ফলাফল দেখতে চায়। যেমন, কে কীভাবে করবে সেটা নাগরিকের কাছে মুখ্য নয়; ঢাকা শহরের ট্রাফিক সমস্যা থাকবে না এটাই ঢাকাবাসীর কাছে আগ্রহের মুল জায়গা। 

উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়নের মধ্যেই এর সফলতা নিহিত। সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমন — এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনসহ জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

লেখক: উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষক

/এপিএইচ/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ভিএআর বিতর্ক, গোল বাতিল, হলুদ কার্ড: আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে যা যা ঘটলো
ভিএআর বিতর্ক, গোল বাতিল, হলুদ কার্ড: আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে যা যা ঘটলো
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি
টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর শেষ আটে সুইজারল্যান্ড
টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর শেষ আটে সুইজারল্যান্ড
ফেনীতে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো ব্যবসায়ীর
ফেনীতে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ গেলো ব্যবসায়ীর
সর্বশেষসর্বাধিক