বরিশালে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের ‘সংস্কার’ আন্দোলন!

Send
সালেহ টিটু, বরিশাল
প্রকাশিত : ০৮:০০, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯

বরিশাল মহানগর বিএনপিতে পরিবর্তন আনার জন্য একত্রিত হয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতারা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকতার হোসেন মেবুল। ‘সংস্কার আন্দোলন’ শুরু করা সাবেক ছাত্রদল নেতাদের দাবি, সম্মানজনক পদ না পাওয়ায় মাঠে কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। ফলে কেন্দ্রের চোখে পড়ার জন্য তারা এক জায়গায় বসে গল্প করেন। তবে জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, এটি ওই নেতাদের আন্দোলনে না থাকার অজুহাত।

ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের এই প্রয়াসের কথা সামনে আসে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকা মহানগর বিএনপির সহ-সম্পাদক আ.ন.ম সাইফুল আহসান আজিমের ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশের পর। ছবিতে আজিমসহ আরও বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতার ছবি রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম আতায়ে রাব্বি, বর্তমান জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আকন বিপ্লব, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক তসলিম উদ্দিন।

সাবেক ছাত্র নেতাদের একত্রিত হওয়ার বিষয়ে সাইফুল আহসান আজিম বলেন, ‘দলে আমরা সম্মানজনক পদ পাইনি। সম্মানজনক পদ পেলে হয়তো মাঠে থাকতাম। বিভিন্ন স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা করতেই আমরা এক জায়গায় বসে গল্প করি যাতে কেন্দ্রের চোখে পড়ে। এর অর্থ কেন্দ্র যদি আমোদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করে দায়িত্ব দেয়, তাহলে আমরা পালন করতে প্রস্তুত রয়েছি- এটাই জানান দেওয়া। আমরা জীবন-যৌবন সব শেষ করেছি দলের পেছনে। এখন দলের জন্যতো টান থাকবেই’। এই নেতার অভিযোগ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার তাদেরকে মূল্যায়ন করেননি।

মহানগর সভাপতির সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন কিনা জানতে চাইলে আজিম বলেন, ‘তিনি (সরোয়ার) বোঝার চেষ্টা করেননি। সরোয়ার মনে করেন তিনিই সব বোঝেন। তার আশপাশে বেশ কয়েকজন চাটুকার রয়েছে। তাদের নিয়েই তিনি চলেন।

ছাত্রদলের নেতারা আসলে কী চান- এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম আতায়ে রাব্বি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি। যারা রাগে ক্ষোভে এতদিন মুক্তির মিছিলে সামিল হয়নি তাদেরকে মুক্তির মিছিলে সামিল করাই আমাদের লক্ষ্য’।

মীর জাহিদুল কবিরও মনে করেন, দল তাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেনি। তবে দলের প্রতি তার কোনও ক্ষোভ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি তাদেরকেও আমরা যুক্ত করতে চাই’।

পারভেজ আকন বিপ্লব মহানগর বিএনপিতে পরিবর্তন চান। ‘সম্মানজনক’ পদ না পাওয়ায় অনেকে নিষ্ক্রিয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি সত্য যে রাজনীতিতে পদ বড় বিষয় নয়। তবু ইজ্জতের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। কাঙ্ক্ষিত পদ না থাকলে মাঠের রাজনীতিতে প্রতিবন্ধকতা থেকে যায়’।

‘বড়’ বা ‘সম্মানজনক’ পদ না পেয়ে ক্ষোভে আন্দোলন-সংগ্রামে না আসার যৌক্তিকতাকে সমর্থন করেন না জেলা ও মহানগর কমিটির অপর নেতারা।

সাবেক ছাত্রদল নেতাদের বিষয়ে মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি রফিক আহম্মেদ রুনু সরদার বলেন, তারা অনেক দিন ধরে নিষ্ক্রিয়, মাঠে আসেন না। তারা চায় সরোয়ারকে বাদ দিতে। আমি মনে করি বরিশালে সরোয়ারের বিকল্প কোনও নেতা তৈরি হয়নি। আমরাও চাই তরুণরা নেতৃত্বে আসুক। কিন্তু তা তো রাজনৈতিক দক্ষতায় আসতে হবে।

এই বিষয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আমি মনে করি এটি আন্দোলনে না থাকার অজুহাত। আমার সঙ্গে তারা কখনও এ নিয়ে আলোচনা করেনি। তারা কী চায় তা নিয়ে আমার কাছে আসতে পারত। আসলে তাদের কোনও দাবি দেখি না। খালেদা জিয়ার মুক্তির কর্মসূচির সময় যারা পদ নিয়ে বসে আছেন তাদের মধ্যে ১৫/২০ জনকেও পাই না। মাঠে থাকলে গুরুত্ব দেওয়া যায়। আসলে কাউন্সিল আসলেই তারা পদ-পদবি নিতে আসেন’।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, ‘ম্যাডাম জেলে। তার মুক্তির আন্দোলনে না এসে বড় পদের আশায় ঘরে বসে থাকলে কি হবে? দলের কাজ করলে আজ অথবা কাল মূল্যায়ন হবেই। দলে সক্রিয় থাকলে পদ খুঁজতে হবে না, পদ আপনাকে খুঁজবে’।

 

/এএ/

লাইভ

টপ