X
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

পেশা না থাকলেও এমপি আবু জাহিরের ছেলের বছরে আয় ৯৩ লাখ, স্ত্রীর ৬৭

ছনি আহমেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জ
০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:১৬আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:১৬

হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু জাহিরের গত ১৫ বছরে আয় বেড়েছে ১৫ গুণ। এই সময়ে সম্পদ বেড়েছে প্রায় সাড়ে সাত গুণ। পেশা না থাকলেও বেড়েছে স্ত্রী-সন্তানের আয় ও সম্পদ। এই প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে। তাদের সম্পদ ও আয় দ্রুত বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির চতুর্থবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এবার নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত দলফনামা অনুযায়ী, আবু জাহিরের গত ১৫ বছরে বার্ষিক আয় বেড়েছে ১৫ গুণ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় সাড়ে সাত গুণ। ১৫ বছর আগে স্ত্রী আলেয়া আক্তারের বার্ষিক আয় না থাকলেও বর্তমানে বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ আট হাজার ৭৯ টাকা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ২২ গুণ। একইভাবে ছেলে মো. ইফাত জামিলের বার্ষিক আয় না থাকলেও বর্তমানে ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ২৫৯ টাকা বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে। বর্তমানে ছেলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকার। হিসাবে গত ১৫ বছরে কয়েক কোটি টাকার অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন আবু জাহির, তার স্ত্রী ও ছেলে।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, আবু জাহিরের বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৯০ টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে ১০ হাজার টাকা, বাড়ি-দোকান ভাড়া থেকে এক লাখ ৩২ হাজার ৭৯০ টাকা ও আইন পেশা থেকে এক লাখ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯২ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৯ টাকার। এর মধ্যে নগদ টাকা ছিল ১২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৩ টাকা, ব্যাংকে জমা ছিল ২১ হাজার ১৫৩ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল তিন লাখ ৭৩ হাজার ৩৪৫ টাকা, মোটরগাড়ি ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫২ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ২৬ ভরির দাম তিন লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও আসবাবপত্রের দাম ২৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি ১০ শতকের দাম ৪০ হাজার টাকা, অকৃষি জমি ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা, দালানঘর ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। স্ত্রীর নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ছিল আট লাখ ৬০ হাজার ৫৮৪ টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৩৬ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা দুই লাখ টাকা, কোম্পানির শেয়ার দুই লাখ টাকা, স্থায়ী আমানত ৮৪ হাজার ৫৮৪ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ১৫ ভরির দাম এক লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এক লাখ ২০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমির ১৪ শতকের দাম এক লাখ ১০ হাজার টাকা। তখন হলফনামায় জাহিরের নির্ভরশীল হিসেবে ছেলের নামই ছিল না। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, আবু জাহিরের বার্ষিক আয় ৩৭ লাখ ১৬ হাজার ৯১৬ টাকা। এর মধ্যে কৃষিখাত থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাড়ি-দোকান ভাড়া থেকে তিন লাখ টাকা, সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতা ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৯১৬ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ছয় কোটি ৮৯ হাজার ৮০৫ টাকার। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা ও ব্যাংকে জমা আছে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৩ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি জিপ ও একটি মোটরসাইকেলের দাম এক কোটি ৩৯ লাখ ৬২ হাজার ৭০৬ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ৩১ ভরির দাম সাত লাখ ৬১ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্রের দাম ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৪২ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কৃষিজমি, ঢাকা ও হবিগঞ্জে ৩৫ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকার ১৭ দশমিক ২০ শতক অকৃষি জমি, হবিগঞ্জ পৌরসভায় এক কোটি ৪৬ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৬ টাকার দালান, ঢাকায় ৪৮৪৬ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম এক কোটি ৫০ লাখ টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ রয়েছে ৭২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫৯ টাকার। 

তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় ৬৭ লাখ ৮ হাজার ৭৯ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা ২৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৪ টাকা ও ব্যাংক আমানত থেকে ৪১ লাখ ১০ হাজার ১৭৫ টাকা। তবে স্ত্রীর ব্যবসা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে একটি জিপ গাড়ির দাম ৪০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ১০০ ভরির দাম ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এক লাখ ৪০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি ১৫ শতকের দাম ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা, অকৃষি জমি ৩২ শতকের দাম এক কোটি ৭০ হাজার টাকা।

হলফনামায় ছেলের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ২৫৯ টাকা। এর মধ্যে কৃষখাত থেকে ১০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৯ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৮৩ লাখ ৬১ হাজার ১৫৯ টাকা। তবে ছেলে কী ব্যবসা করেন, তা উল্লেখ করা হয়নি। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কার ১০৮ ভরির দাম ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী সাত লাখ টাকা, কৃষিজমি ৪৭ লাখ টাকা, অকৃষি জমি ১৩৫ শতকের দাম ৪৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা।

দ্রুত সময়ে এমপি ও তার পরিবারের সদস্যদের আয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এম এ মজিদ বলেন, ‘দলফনামা নামমাত্র দাখিল করা হয়। এমপি হওয়ার পর দ্রুত সময়ে পরিবারবর্গের সম্পদ বেড়ে যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন কিংবা সংশ্লিষ্ট দফতর তদারকি না করায় অনেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’ 

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা বাসদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘জনগণের আয়-রোজগার কমলেও সংসদ সদস্যদের সম্পদ বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন। কীভাবে এই সম্পদ বাড়লো তা হলফনামায় উল্লেখ থাকে না, কেউ কেউ উল্লেখ করলেও তা সঠিক কিনা অনুসন্ধান করে না সংশ্লিষ্ট দফতর কিংবা দুদক। যারা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করছে তাদের বিচার কে করবে?।’

/এএম/
সম্পর্কিত
হলফনামায় তথ্য গোপন, ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের মনোনয়নপত্র বাতিল
হবিগঞ্জে ডাকাত সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যা
মেলা থেকে ফেরার পথে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
সর্বশেষ খবর
দুই কোরবানির হাটে ক্যাশলেস লেনদেন
দুই কোরবানির হাটে ক্যাশলেস লেনদেন
কানের অফিসিয়াল লালগালিচায় ঢাকার একমাত্র মুখ
কান উৎসব ২০২৪কানের অফিসিয়াল লালগালিচায় ঢাকার একমাত্র মুখ
ফেসবুকে ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১
ফেসবুকে ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১
১৪ দলের শরিকদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ, সান্ত্বনা জোটনেত্রীর
১৪ দলের শরিকদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ, সান্ত্বনা জোটনেত্রীর
সর্বাধিক পঠিত
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
কবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
এমপি আনার হত্যাকবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
নেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডনেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
সেই শিক্ষকের ‘ওপরের চেহারা’ বিভ্রান্ত করেছে সহকর্মীদেরও
৩০ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতারসেই শিক্ষকের ‘ওপরের চেহারা’ বিভ্রান্ত করেছে সহকর্মীদেরও
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম