ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও নতিস্বীকার করতে নারাজ তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এটি একটি ‘স্বপ্ন যা তাদের কবরে নিয়ে যাওয়া উচিত’।
শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক পূর্ব-রেকর্ডকৃত ভাষণে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তবে একই ভাষণে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চালানো হামলার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন, যা ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দেশটির শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড-এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীনতাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ক্ষমা চাইলেন প্রেসিডেন্ট, তবু হামলা অব্যাহত
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে যেসব প্রতিবেশী দেশে হামলা চালানো হয়েছে, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’
তিনি জানান, গত শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনও প্রতিবেশী দেশ থেকে যদি ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরানও তাদের ওপর আর কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে না।
কিন্তু এই ক্ষমার বার্তার এক ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানার ভিডিও ফুটেজ সামনে আসে। এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা অব্যাহত রয়েছে। বাহরাইনে বারবার হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সেনাবাহিনীর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমার বার্তার পরপরই এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করে যে রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপর রাজনৈতিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত সীমিত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল ইরান পরিচালনা করছে। এর অন্যতম সদস্য হলেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী রেভল্যুশনারি গার্ড মূলত কেবল খামেনির কাছে দায়বদ্ধ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
সূত্র: এপি ও টাইমস অব ইসরায়েল









