কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কৌশলগত অপারেশন সেন্টারে চলতি মাসের শুরুতে চালানো ইরানি ড্রোন হামলার ভয়াবহতা প্রকাশ পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির যে পরিমাণ পেন্টাগন আগে প্রকাশ করেছিল, প্রকৃত চিত্র তার চেয়েও অনেক বেশি বিধ্বংসী।
গত ১ মার্চের ওই হামলার পর প্রাথমিক প্রতিবেদনে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হলেও, সিবিএস নিউজ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েত সিটির শুয়াইবা বন্দরের ওই কেন্দ্রে তখন এক বিপর্যয়কর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
সিবিএস-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ওই হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনের বেশি সেনাসদস্য। এ সংখ্যা পেন্টাগনের দেওয়া আগের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। আহতদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক; কেউ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছেন, কারও শরীরে বিদ্ধ হয়েছে কামিকাজে ড্রোনের স্প্লিন্টার, আবার অনেকে মস্তিস্কে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ থাকা দুই সেনাসদস্যের মরদেহ পরে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা প্রায় ২০ জনকে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য বিমানযোগে কুয়েত থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অনেকেরই স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া এবং কনকাশনের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের তৈরি শাহেদ সিরিজের একটি কামিকাজে ড্রোন রাডার ফাঁকি দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টারে আঘাত হানে। নব্বইয়ের দশক থেকেই শুয়াইবা বন্দরটি মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে বর্তমান সংঘাত শুরুর পর থেকেই সেখানে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। গত ১ মার্চ এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। যদিও সেসব বিমানের পাইলট ও ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরির পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ এখনও বিস্তারিত জানায়নি পেন্টাগন। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং প্রায় ১৪০ জন আহত হয়েছেন।
অভিযান জোরালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, আগামী আরও মার্কিনির প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তুলনা করা হচ্ছে। সে সময় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনার মস্তিস্কে আঘাত লেগেছিল। তৎকালীন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছিলেন, আমি শুনেছি তাদের মাথাব্যথা এবং আরও কিছু সমস্যা হয়েছে, কিন্তু আমি বলতে পারি এটি খুব একটা গুরুতর নয়।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









