ইরান যুদ্ধ কি রক্ষা করতে পারবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৬আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনসমর্থন সাময়িকভাবে বাড়ালেও দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে খুব একটা পরিবর্তন আনতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখনই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নেতানিয়াহু প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর তলানিতে ঠেকেছিল। তার ওপর ঘুষ ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে চলমান বিচার প্রক্রিয়া তাকে এমনিতেই নাজুক অবস্থায় রেখেছিল। তবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যদি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরান সরকারের পতন ঘটে, তবেই রাজনৈতিক এই অচলাবস্থা নেতানিয়াহুর অনুকূলে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ৫ মার্চ প্রকাশিত ইসরায়েল ডেমোক্যাসি ইনস্টিটিউটের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ ইসরায়েলি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন।

টাইমস অব ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাল স্নাইডার বলেন, অধিকাংশ ইসরায়েলি ৭ অক্টোবরের বিপর্যয়ের জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করলেও ইয়াহিয়া সিনওয়ার, ইসমাইল হানিয়াহ এবং হাসান নাসরুল্লাহর মতো নেতাদের হত্যার কৃতিত্ব তাকেই দিচ্ছেন।

স্নাইডার বলেন, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলের জনমত মূলত আগের মতোই দুটি রাজনৈতিক শিবিরে বিভক্ত।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন কট্টর-ডানপন্থি জোট এবং বিস্তৃত বিরোধী শিবিরের মধ্যে কোনও পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই। গত সপ্তাহের জনমত জরিপগুলো বলছে, যুদ্ধের প্রতি ব্যাপক সমর্থন থাকলেও তা ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে বড় কোনও প্রভাব ফেলেনি।

চ্যানেল ১৩-এর ১০ মার্চের এক জরিপ অনুযায়ী: ২৫টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। নাফতালি বেনেটের দল পাবে ১৭টি আসন। আর নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে মোট ৫১টি আসন। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা থেকে ১০টি কম।

হিব্রু ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক গিডিয়ন রাহাত মনে করেন, যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি উদ্ধারের স্বপ্ন দেখছিলেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সময় যত গড়াচ্ছে, মনে হচ্ছে ইরান সরকারের পতন অত সহজে হবে না। ফলে নেতানিয়াহু হয়তো সেই বিজয়ের ছবি পাবেন না যা তিনি আশা করেছিলেন।

রাহাতের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়েই যুদ্ধের শুরুতে প্রত্যাশার পারদ অনেক উঁচুতে বেঁধে দিয়ে ভুল করেছেন। আরও পরিমিত লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তাদের জন্য বিজয় ঘোষণা করা সহজ হতো।

তিনি আরও বলেন, ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার পরও নেতানিয়াহু যেভাবে টিকে আছেন, তাতে তিনি আবারও ২০২২ সালের মতো বারবার নির্বাচন দিয়ে বিরোধী জোট ভাঙার চেষ্টা করতে পারেন।

ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে হওয়ার কথা। তবে বিরোধী নেতাদের ধারণা, নেতানিয়াহু যুদ্ধের সাফল্যকে পুঁজি করে এবং ৭ অক্টোবরের বার্ষিকীর আগেই আগাম নির্বাচন দিতে পারেন।

বিরোধী দলের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নেতানিয়াহু চান না নির্বাচনের প্রচারণা ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা বা তদন্ত কমিশন গঠনের দাবির ওপর ফোকাস হোক। তিনি বরং ইরান যুদ্ধের অর্জনকেই প্রচারণার মূল হাতিয়ার বানাতে চান।

উল্লেখ্য, শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার দায় নিলেও নেতানিয়াহু তা এখনও অস্বীকার করে আসছেন।

যুদ্ধের চেয়েও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের অব্যাহতি। ৭ অক্টোবরের পর লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে গাজা ও লেবাননে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আরও ১ লাখ ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে যে, অতি-গোঁড়া ইহুদি তরুণরা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার অজুহাতে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না। বিশ্লেষক তাল স্নাইডার বলেন, নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরের মূল চালিকাশক্তি হলো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো। বিশেষ করে অতি-গোঁড়া ইহুদিদের সামরিক পরিষেবা থেকে অব্যাহতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, পুলিশি বর্বরতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এখন ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

/এএ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম