লারিজানিকে হত্যায় ইরান ও যুদ্ধে কী প্রভাব পড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৭আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:৫২

ইরানের প্রবীণ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি ইসরায়েলের এক নির্ভুল হামলায় নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের এক সংকটময় মুহূর্তে এই হত্যাকাণ্ড ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হিসেবে লারিজানি কেবল একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির ক্ষমতার পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুর দিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবেও তাকে দেখা হতো।

কয়েক মাস ধরে লারিজানিকে ইরানি ব্যবস্থার ভেতরে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, যিনি ওমান, কাতার এবং রাশিয়ার মাধ্যমে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি জনসমক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনও ধরনের কূটনীতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং কঠোর সামরিক ভাষায় কথা বলছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কৌশল পরিবর্তন করে এখন সরাসরি নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা যখন বাড়ছে, তখন লারিজানির মতো সিনিয়র কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা অভ্যন্তরীণ সংহতি নষ্ট করার একটি কৌশল হতে পারে।

আলী লারিজানির মৃত্যুতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টরপন্থিদের প্রভাব আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আইআরজিসি এমনিতেই যুদ্ধের কারণে অনেক শক্তিশালী। তার ওপর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতিতে আইআরজিসির প্রভাব আরও সুসংহত করতে পারে।

লারিজানির উত্তরসূরি হিসেবে এখন সাঈদ জলিলির মতো ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় আসছে। কট্টরপন্থি ও অনমনীয় অবস্থানের জন্য পরিচিত জলিলির মতো নেতারা সামনে এলে ইরান সরকার সংযমের পথ ছেড়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের পথে হাঁটতে পারে। এর আগে লারিজানি অন্তত সীমিত আকারে উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য রক্ষা করতেন।

বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও লারিজানির বড় ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি কূটনৈতিক নমনীয়তা বজায় রাখতেন তিনি। এখন তার অবর্তমানে নতুন নেতৃত্ব যদি আরও কট্টর হয়, তবে কূটনীতির চেয়ে সামরিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয়ের দিকেই ইরান বেশি ঝুঁকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যদিও লারিজানির মৃত্যু ইরানের তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিকল্পনায় খুব বড় পরিবর্তন আনবে না, কারণ যুদ্ধের কৌশলগত কাঠামো আগেই তৈরি করা থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইরানকে এমন একটি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ কিন্তু নমনীয়তাহীন। যদি কট্টরপন্থিরা ক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং আইআরজিসির প্রভাব বিস্তৃত হয়, তবে ভবিষ্যতে আলোচনার পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং সংঘাত আরও চরম রূপ নিতে পারে।

সূত্র: আল-মনিটর

/এএ/এমওএফ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম