অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ‘লক্ষ্য’ নিয়ে বাড়ছে দূরত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ মার্চ ২০২৬, ২২:০০আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ২২:০০

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সময় ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সুর একই বিন্দুতে মিলেছিল। লক্ষ্য ছিল রেজিম চেঞ্জ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তাদের সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার ‘একমাত্র সুযোগ’ লুফে নিতে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশবাসীকে ‘খুনি শাসনের জোয়াল’ ছুড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

কিন্তু যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই সেই ঐক্যবদ্ধ সুর এখন ফিকে হয়ে আসছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প চেয়েছিলেন সামান্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বিনিময়ে দ্রুত একটি সামরিক বিজয়। কিন্তু নেতানিয়াহুর লক্ষ্য অনেক বড়, গত ৪০ বছর ধরে যাকে তিনি ধ্বংস করতে চেয়েছেন, সেই ইরানি শাসনব্যবস্থার আমূল পতন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

বুধবার ইরানের বিশাল সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলি হামলার পর ট্রাম্পের ক্ষোভ মিত্র দেশ দুটির মধ্যকার ফাটলকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েল ‘ভয়াবহভাবে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে’ এই হামলা চালিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কাতার ও ইরানের যৌথ মালিকানাধীন বিশ্বের বৃহত্তম এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে আমেরিকা কিছুই জানত না এবং কাতার কোনোভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তবে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর কাছে একাধিক কর্মকর্তা এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আমেরিকা সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও ইসরায়েলিরা ওয়াশিংটনকে আগেই হামলার বিষয়ে অবহিত করেছিল।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি

এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং কাতার ও সৌদি আরবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। অপ্রিয় এই যুদ্ধ সামলাতে ট্রাম্প এখন দোটানায়। একদিকে তিনি ইরানের বিপর্যয়ে উল্লাস করছেন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় শিউরে উঠছেন।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ সমর্থকরাও এখন প্রশ্ন তুলছেন, কেন একটি বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন যুদ্ধে জড়ালো? এই চাপের মুখে চলতি সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ কাউন্টার-টেরোরিজম কর্মকর্তা জো কেন্ট। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী আমেরিকান লবির চাপে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে চারটি বিষয় নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ধ্বংস করা, তাদের নৌবাহিনী ডুবিয়ে দেওয়া, আঞ্চলিক মিত্রদের নিষ্ক্রিয় করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো। কিন্তু ইসরায়েলের লক্ষ্য আরও গভীর। তারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি হামলা চালাচ্ছে, যাতে অভ্যন্তরীণ কোনও গণ-অভ্যুত্থান দমানোর শক্তি তেহরানের না থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানে ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য। ফাইল ছবি: এপি

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েল ‘পোড়ামাটি নীতি’ গ্রহণ করেছে, যা আমাদের লক্ষ্য নয়। বিবি (নেতানিয়াহু) চান ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে, কিন্তু ট্রাম্প চান সেগুলো অক্ষত থাকুক।

মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা স্বীকার করছেন যে, এত হামলার পরও ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা এখনও অটুট। আকাশপথে যৌথভাবে ১৬ হাজার হামলার পরও সরকার পতনের কোনও লক্ষণ নেই। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যদি সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেও, তবে তারা বর্তমান নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ‘গণহত্যার’ শিকার হবে।

বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ। ট্রাম্প এখন স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়ে দোটানায় আছেন। যদিও তিনি বলেছেন, “না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল করতে বা শাসক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত স্থল অভিযানের ঝুঁকি নিতে হতে পারে।

 

/এএ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন: হিজবুল্লাহমুক্ত জোন গঠনের সিদ্ধান্ত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বশেষ খবর
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
পাবনায় কিশোরীকে হত্যা: কথিত প্রেমিকসহ ৩ জন গ্রেফতার
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
গৌরীই কি তবে আমির খানের জীবনের বনলতা সেন?
নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন: হিজবুল্লাহমুক্ত জোন গঠনের সিদ্ধান্ত
নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন: হিজবুল্লাহমুক্ত জোন গঠনের সিদ্ধান্ত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম