ইরান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে চলমান সংঘাত বন্ধে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। এই উদ্যোগে মস্কোর সঙ্গে চীন, তুরস্ক এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান লড়াই এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর জ্বালানি খাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি, যা ইরান বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উস্কানিমূলক আগ্রাসনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে।
মস্কোর মতে, শান্তি ফেরানোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে এই যুদ্ধ ত্যাগ করতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক এবং সমমনা সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এই সংকট নিরসনে কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা চাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে বিদ্যমান মতভেদ দূর করে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক, যেখানে সব রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা পাবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৮ মার্চ দ্য ইকোনমিস্ট’-এ প্রকাশিত ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ বিন হামুদ আল বুসাইদির একটি নিবন্ধের প্রশংসা করে একে ‘চিন্তাশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। মস্কো বলছে, ওমানি মন্ত্রীর প্রস্তাবগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিজস্ব ভাবনার সঙ্গেই সংগতিপূর্ণ।
রাশিয়া ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে জানায় যে, পারমাণবিক জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অঞ্চলভিত্তিক আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে মস্কো তাদের সম্মিলিত নিরাপত্তা ধারণার কথাও পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে।
বিবৃতিতে শেষদিকে বলা হয়েছে, আমরা মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে এবং সব দেশের বৈধ স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার ভিত্তিতে একটি টেকসই সমাধান খুঁজে পেতে গঠনমূলক সহায়তা দিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।









