ষষ্ঠ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ: সমঝোতা নয়, আরও তীব্র সংঘাতের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০২আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০২

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ইরান অভিযান শনিবার পাঁচ সপ্তাহে গড়িয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধ অবসানের কোনও স্পষ্ট পথ এখনও দৃশ্যমান নয়। পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে বাঙ্কারে দৌড়ানো এবং নৈমিত্তিক হতাহতের ঘটনা ইসরায়েলিদের কাছে এক অনন্তকাল মনে হলেও, হোয়াইট হাউসের শুরুর দিকের প্রাক্কলিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যেই রয়েছে এই সংঘাত।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দিলেও গত সপ্তাহে তিনি জানিয়েছেন, অভিযানের লক্ষ্যমাত্রার দিক থেকে তারা ‘অর্ধেক পথ নিশ্চিতভাবে পার করেছেন’।

অন্যদিকে, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের প্রচেষ্টা প্রত্যাশিতভাবেই ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা গত শুক্রবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে জানিয়েছেন, আলোচনা এখন এক কানা গলিতে আটকা পড়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের জন্য আলটিমেটামের সময়সীমা দ্বিতীয়বারের মতো বাড়িয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সোমবারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা না হলে ইরানে ‘নরক’ নামিয়ে আনা হবে।

যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুটি ইতিবাচক সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেছে। ইসরায়েল বারবার ইরানি শাসনে ‘ফাটল’ ধরার দাবি করলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, শাসনব্যবস্থা পতনের কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার পরও ইরানের কাছে এখনও সহস্রাধিক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হলেও ইরান দ্রুত সেগুলো মেরামত করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলছে।

ষষ্ঠ সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ: সমঝোতা নয়, আরও তীব্র সংঘাতের আভাস

ট্রাম্প যদি আলটিমেটামের সময়সীমা আর না বাড়ান, তবে তাকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। সেক্ষেত্রে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল অবকাঠামো এবং খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। গত রবিবার ট্রাম্প অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, মঙ্গলবার হবে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন। এমন কিছু আগে কখনও দেখা যায়নি!!!

ইসরায়েলও ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার জন্য মুখিয়ে আছে, তবে তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু একতরফাভাবে যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিয়ে নিজেদের ‘বিজয়ী’ হিসেবে দাবি করতে পারেন। তবে এই পথে বড় ঝুঁকি রয়েছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ থামিয়ে দিলেই যে ইরান থামবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প কোনোভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রেখে যুদ্ধ শেষ করতে চাইবেন না। ইরান এই রুট ব্যবহার করে মাশুল আদায় বা অন্য দেশগুলোকে চাপে ফেলার সুযোগ নিতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রাম্প হাজার হাজার স্থল সেনা প্রস্তুত রেখেছেন। তারা হরমুজ প্রণালির দ্বীপগুলো দখল করতে পারে কিংবা খার্গ দ্বীপকে দরকষাকষির চাবিকাঠি হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে। তবে স্থল অভিযানের ফলে যুদ্ধ আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে, কারণ ইরান তখন তার পুরো শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ইরানের ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। গত বছর ইস্পাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার পর এগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এগুলো তাদের নজরদারিতে আছে। তিনি বলেন, যদি তারা ওগুলো সরানোর সামান্য চেষ্টাও করে, তবে আমরা আবার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কঠোর আঘাত করব।

তবে সাবেক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-কে জানিয়েছেন, এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সময়সাপেক্ষ। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এগুলো সংগ্রহ করতে শত শত বা হাজার হাজার সেনাকে শত্রু সীমানার ভেতরে কাজ করতে হবে, যা ইরানি বাহিনীর সরাসরি হামলার মুখে পড়বে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

 

/এএ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
কট্টরপন্থী ইহুদিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
সংকোচে বিহ্বল নয়, আত্মবিশ্বাসে দৃপ্ত হোক নারী-কিশোরী 
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা: যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম