ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে দেওয়া একের পর এক সময়সীমা পার হওয়ার পর মঙ্গলবার রাত ৮টার (ওয়াশিংটন সময়) আল্টিমেটামকে ‘চূড়ান্ত’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি না হলে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ফের এক হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যাবে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে।’
গত ২৩ মার্চ থেকে ট্রাম্প দফায় দফায় সময়সীমা পরিবর্তন করেছেন। কখনও আলোচনার অগ্রগতির কথা বলে হামলা স্থগিত করেছেন, আবার কখনও চরম ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। গত শনিবার তিনি বলেছিলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।’ এরপর রবিবার আরও কঠোর ভাষায় তিনি বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজের দিন। হয় প্রণালি খুলে দাও, নয়তো নরকে বাস করো।’
সোমবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো দেশটি এক রাতেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব এবং সেটি হতে পারে আগামীকাল (মঙ্গলবার) রাতই। আমাদের সামরিক শক্তির এমন পরিকল্পনা আছে যে আগামীকাল রাত ১২টার মধ্যে ইরানের প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’
ট্রাম্পের এমন ধ্বংসাত্মক হুমকির মুখে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা নিষিদ্ধ। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের হামলায় ‘যুদ্ধাপরাধ’ হওয়ার বিষয়ে তিনি ‘একেবারেই চিন্তিত নন’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরান সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। কায়রোতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান মুজতবা ফেরদৌসিপুর জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের আর কোনও আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি মানবো, যদি এই গ্যারান্টি দেওয়া হয় যে আমাদের ওপর আর হামলা হবে না।’
তবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের পোস্ট অনুযায়ী, ইরানের ৪৭ বছরের ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির’ অবসান ঘটাতে তিনি বদ্ধপরিকর। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে ‘স্মার্ট ও কম উগ্রবাদী’ কেউ ক্ষমতায় এলে বৈপ্লবিক ও চমৎকার কিছু ঘটতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৩-তে মঙ্গলবার রাতের সময়সীমা সামনে রেখে একটি ডিজিটাল ঘড়িতে কাউন্টডাউন বা সময় গণনা দেখাতে দেখা গেছে। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে মঙ্গলবার রাতের সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের দিকে, যা ট্রাম্পের ভাষায় হতে যাচ্ছে ‘বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত’।
সূত্র: এপি









