ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পরও কূটনীতির পথ খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মঙ্গলবার হাঙ্গেরি সফরকালে তিনি বলেন, এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কৌশলের কোনও পরিবর্তন নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অংশ।
জেডি ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। ভ্যান্সের মতে, ওয়াশিংটন এখনও আশা করছে যে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী চরম পদক্ষেপগুলো এড়ানো সম্ভব হবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি তাদের আচরণের পরিবর্তন না করে, তবে প্রেসিডেন্টের ঝোলায় এমন সব অস্ত্র রয়েছে যা এখন পর্যন্ত ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রয়োজন হলে তিনি সেগুলো অবশ্যই ব্যবহার করবেন।’
মার্কিন ও ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপের ৫০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান। এর ফলে পুরো দ্বীপ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে এই হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দ্বীপজুড়ে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলো। ইরান এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে দ্বীপটি এখন অন্ধকারে রয়েছে।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের কাসান এলাকায় একটি রেল সেতুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় অন্তত দুটি সেতু, রেল অবকাঠামো এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা শেষ হয়ে যেতে পারে, যা আর কখনোই ফিরে আসবে না।
অন্যদিকে, তেহরান এখন পর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, ভবিষ্যতে আর হামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং যুদ্ধে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









