অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:৫২, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৩, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি) পাস করিয়ে নিয়েছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সোমবার পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপি নেতা অমিত শাহ। বিবিসি-র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এটিকে মুসলিমবিরোধী বিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ইতোমধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারতের বন্ধু হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপনের দিনই এ ইস্যুতে অমিত শাহ-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এ কমিশন।
ইউএসসিআইআরএফ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিলটিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করেছেন, তাতে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়ায় ইউএসসিআইআরএফ ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই যদি বিলটি পাস হয়ে যায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অমিত শাহ-সহ ভারতের সিনিয়র নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

ইউএসসিআইআরএফ বলছে, নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়, যা ভুল পথে এগোচ্ছে। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদী ইতিহাস এবং সে দেশের সংবিধান, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকারের কথা বলে, এই বিল তার পরিপন্থী।’

এর আগে আসামের নাগরিকপঞ্জি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল ইউএসসিআইআরএফ। তখন নাগরিকপঞ্জিকে ভারতীয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত তথা দেশছাড়া করার হাতিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রের এই সরকারি কমিশন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়েও একই আশঙ্কা জানিয়েছে ইউএসসিআইআরএফ।

কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের আশঙ্কা, নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যেভাবে ধর্মীয় পরীক্ষা নিচ্ছে ভারত তা কয়েক কোটি মুসলিমের নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেবে।’

গত এক দশকে ধর্মীয় বৈষম্য নিয়ে ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক প্রতিবেদনকে ভারত সরকার কোনও গুরুত্ব দেয়নি বলেও জানিয়েছে এই কমিশন।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে কোনও দেশ বা ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায় কি না, ইউএসসিআইআরএফ-এর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সে সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র: আনন্দবাজার।

/এমপি/

লাইভ

টপ