ড্রোন হামলায় ‘টার্গেট কিলিং’ স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে: গবেষণা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫৯, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০১, জানুয়ারি ২০, ২০২০

ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মতো ড্রোন হামলার মাধ্যমে চিহ্নিত করে হত্যার (টার্গেট কিলিং) ঘটনা স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা, সরকারের প্রচারণা ও সংবাদমাধ্যমের সমালোচনাহীন কাভারেজের কারণে তা এই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রেসার গ্রুপ ড্রোন ওয়ার্স প্রকাশিত ‘ইন দ্য ফ্রেম’ গবেষণায় এই দাবি করা হয়েছে। এতে উপসংহারে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য চিহ্নিত করে হত্যার একটি সহজ আখ্যান তৈরি করেছে। আইএসের অনেক নেতাকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের হত্যা তালিকাও সামনে এসেছে।

ড্রোন ওয়ার্সের পরিচালক ক্রিস কোল বলেন, ড্রোন হামলায় হত্যা স্বাভাবিকতায় পরিণত হওয়ার কারণে জানুয়ারির শুরুতে ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে।

ক্রিস কোল আরও বলেন, এটা নিশ্চিত যে, ড্রোনের কারণে চিহ্নিত করে হত্যার সংস্কৃতি শুরু ও স্বাভাবিকতা পেয়ে গেছে। যা আন্তর্জাতিক আইনকে লঙ্ঘণ করছে এবং পৃথিবীকে বিপজ্জনক করে তুলছে।

ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলা সহিংস ড্রোন যুদ্ধের নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলেও আশঙ্কা করেছেন তিনি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোলাইমানি হত্যার আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য টার্গেট কিলিং চালিয়েছে ড্রোন হামলার মাধ্যমে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী রিয়াদ খানকে হত্যা করে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও মোহাম্মদ এমওয়াজিকে হত্যা করে। 

এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও অন্য মন্ত্রীরা নিজেদের পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে আইএস সদস্যদের নৃশংসতার কথা তুলে ধরেছেন। এছাড়া সামরিক গোপনীয়তার কথা তুলে ধরে তারা নীতি নিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে গেছেন।

প্রতিবেদনটির গবেষক জোয়ানা ফ্রিউ বলেছেন, খানকে হত্যার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে অনেক কাভারেজ ছিল। কিন্তু এমওয়াজি নিহতের পর তা কমে আসে। স্যামি জোন্সকে হত্যার খবর আরও কম প্রচারিত হয়।

বিবিসি, টাইমস, ডেইলি মেইল ও দ্য গার্ডিয়ানের খবর পর্যবেক্ষণ করে জোয়ানা আরও বলেন, খানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ১২৭টি খবর ছিল, এমওয়াজির ৬৭ এবং জোন্সকে নিয়ে মাত্র ২৬টি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে জোন্সকে হত্যা করা হয়। একই হামলায় তার ১২ বছরের ছেলে জোজো ডিক্সনও নিহত হয়ে থাকতে পারে।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ডেইলি মেইল ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর হত্যা তালিকা তৈরির কথা প্রকাশিত হয়। কিন্তু খুব কম সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের সহযোগিতায় মার্কিন ড্রোন হামলায় নাভিদ হোসাইনকে হত্যার কথা প্রকাশ হয় এক বছর পর ২০১৮ সালে।

/এএ/

লাইভ

টপ