কঠিন সময়ের সঙ্গে লড়াই নিউ ইয়র্কের, মাস্কে অনীহা ট্রাম্পের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:১৩, এপ্রিল ০৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫২, এপ্রিল ০৪, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের হট স্পটে পরিণত হওয়া দুই রাজ্য নিউ ইয়র্ক ও লুজিয়ানা। ৩ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে এ দুই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ১৫৯। এর মধ্যে শুধু নিউ ইয়র্কেই মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। কঠিন এক সময়ের সঙ্গে লড়াই করছে সেখানকার বাসিন্দারা। আর এমন সময়েই শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাস্ক পরা নিয়ে মিশ্র মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ প্রশাসনের সতর্কতা সত্ত্বেও মাস্ক না পরার ঘোষণা দেন তিনি।

মাস্কের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ফলে বাজারে এর ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য মাস্ক না পেলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘কাপড়ের ঘনত্বের বিচারে স্কার্ফ মাস্কের ভালো বিকল্প।’ বস্তুত ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে মাস্ক বা এ সংক্রান্ত সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। যা ছিল তাও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিভিন্ন রাজ্যগুলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য বাজারে পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারির কেন্দ্রস্থল নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও-র ভাষায়, ‘আপনি এটা বলতে পারেন না যে প্রতিটি রাজ্য নিজেদের জন্য, প্রতিটি শহর নিজেদের জন্য। এটা আমেরিকার চিত্র হতে পারে না।’

৩ এপ্রিল শুক্রবার একদিনেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১২ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন দেশটিতে এ ভাইরাসে রেকর্ড সংখ্যক এক হাজার ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন শহরের কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান সংকট মুহূর্ত কাটিয়ে উঠতে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দিকেও নজর দিচ্ছে অনেকে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও-র আশঙ্কা, করোনা মহামারির সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার রাজ্যেই এ ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে বিল ডে ব্লাসিও বলেন, সময়ের বিরুদ্ধ স্রোতে লড়াই করছে নিউ ইয়র্ক। এ সময় করোনা মোকাবিলার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে যুক্ত করতে ফেডারেল সরকারের প্রতি নিজের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

বিল ডে ব্লাসিও বলেন, আমরা এমন এক শত্রুর মোকাবিলা করছি যা হাজার হাজার আমেরিকানকে হত্যা করছে। প্রচুর লোকজন মারা যাচ্ছে যাদের মরার দরকার নেই।

তিনি বলেন, আপনি এটা বলতে পারেন না যে প্রতিটি রাজ্য নিজেদের জন্য, প্রতিটি শহর নিজেদের জন্য। এটা আমেরিকা হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রে মুদি সামগ্রী কেনাকাটা বা ডাক্তার দেখানোর মতো অপরিহার্য প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আর এমন সময়েই মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। তার প্রশাসন থেকে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হলেও শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে মাস্ক পরার প্রতি নিজের অনীহার কথা জানান ট্রাম্প। তার যুক্তি, ‘ভালো অফিসে বসে মাস্ক পরে কাজ করা কার্যত অসম্ভব। তাই আমি এটা (মাস্ক পরা) মানতে রাজি নই।’ মাস্ক নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানালেও এটি পরাকে ভালো কাজ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ সময় বিষয়টিকে ঐচ্ছিক হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘মাস্ক পরা আসলে একটি স্বেচ্ছাসেবকধর্মী বিষয়। আপনি এটা করতে পারেন আবার না-ও করতে পারেন। আমি না করাটাকেই বেছে নিয়েছি।’

সাম্প্রতিক তথ্য উপাত্ত বলছে, করোনা মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই চাকরি হারিয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর্মসংস্থানের প্রকৃত ক্ষতি আরও অনেক বেশি। সূত্র: রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ