প্রশ্নের মুখে রাশিয়ার করোনা টিকা!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০০, জুলাই ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪০, জুলাই ১৪, ২০২০

রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করোনা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে দেশটির একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দাবি, এটিই বিশ্বে প্রথম কোনও করোনা ভ্যাকসিনের সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। তবে প্রতিষ্ঠানটির এমন দাবি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞানীদের প্রশ্ন, ভ্যাকসিন তৈরির যাবতীয় সুরক্ষা, কার্যকারিতা পরীক্ষার নিয়ম-কানুন কী মানা হয়েছে এই টিকার ক্ষেত্রে? কেননা, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি সামনে এসেছে।

১৮ জুন থেকে করোনা টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করেন রাশিয়ার সেকেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা। ১২ জুলাই তারা জানিয়ে দেন, টিকাটির চূড়ান্ত পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল শেষ হয়েছে।

রাশিয়ায় করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্নের দাবির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যমই সুনির্দিষ্টভাবে এটা উল্লেখ করেনি যে, আদতে শুধু প্রথম ধাপের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। আগামী সোমবার নাগাদ দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরুর কথা রয়েছে। আর তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের ব্যাপারে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তাহলে কী প্রথম ধাপের পরীক্ষার ওপর নির্ভর করেই সাফল্যের দাবি করা হচ্ছে? আর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কীভাবে এমন উপসংহারে পৌঁছানো সম্ভব? এত অল্প সময়ের মধ্যে কি আদৌ কোনও ভ্যাকসিনের সুরক্ষা, কার্যকারিতা পরীক্ষা করে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব?

সেকেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনও প্রতিষেধকের দ্বিতীয় হিউম্যান ট্রায়ালে অন্তত ১০০ জন এবং তৃতীয় ধাপে সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবকের ওপর টিকার সুরক্ষা, কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। দৃশ্যত এক্ষেত্রে এসব ধাপ অতিক্রম করা ছাড়াই সাফল্যের দাবি করা হচ্ছে।

৭ জুলাই ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুশ বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা টিকার প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। এর সুরক্ষা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অন্তত ৩-৪টি ট্রায়ালের প্রয়োজন। কিন্তু এর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই সেকেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দেন, তাদের তৈরি টিকার হিউম্যান ট্রায়াল শেষ, এটি নিরাপদ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এত দ্রুত এই টিকার সুরক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত হলেন রুশ বিজ্ঞানীরা?

সব মিলিয়ে যেকোনও প্রতিষেধক তৈরির ক্ষেত্রে যেসব সুরক্ষা বিধি, যেসব পরীক্ষা পর্যায় মেনে চলার কথা, সেসব সঠিকভাবে মেনে টিকা তৈরিতে প্রায় এক বছর সময় লেগে যায়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে তার বেশিও সময় লাগতে পারে। সেখানে সেকেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা কীভাবে এক মাসের মধ্যে তা সেরে ফেললেন? এক্ষেত্রে কী আদৌ প্রতিষেধক তৈরির যাবতীয় সুরক্ষাবিধি, সব পরীক্ষার ধাপ মেনে চলা হয়েছে? সামনে আসা একাধিক অসঙ্গতিতে তাই বারবার সামনে আসছে এসব প্রশ্ন। অর্থাৎ, চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে করোনার সম্ভাব্য অন্য টিকাগুলোর মতো এটিকেও আরও বহুদূর যেতে হবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বাদ দিলে শুধু রাশিয়ায় যেসব টিকা নিয়ে কাজ হচ্ছে সেগুলোর মধ্যেই এটিই সবচেয়ে অগ্রসর। কেননা, দেশটিতে এখন পর্যন্ত একমাত্র সম্ভাব্য টিকা হিসেবে এটিই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ধাপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে শতাধিক ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেন্ট প্রাক-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে। ট্রায়ালের বিভিন্ন ধাপে থাকা কোনও ভ্যাকসিনই এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। তবে গত মাসেই যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞদের উদ্ভাবিত করোনা টিকার হিউম্যান ট্রায়াল চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। টিকা উন্নয়নের দিক থেকে অক্সফোর্ডের এ ভ্যাকসিনকেই এগিয়ে রাখছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপীয় দেশগুলো। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, জি নিউজ।

/এমপি/

লাইভ

টপ