করোনা টিকার বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু করলো জনসন অ্যান্ড জনসন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:১৯, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২০, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

মডার্না বায়োটেক, ফাইজার-বায়োএনটেকের পরে সম্ভাব্য কোভিড টিকার বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু করলো মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন। তৃতীয় পর্বের এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রায় ৬০ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির ভ্যাকসিন গ্রুপের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার পল স্টোফেলস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এখবর জানিয়েছে।

বিজ্ঞানী পল জানান, জনসনের টিকার বিশেষত্ব হলো এর একটি শটেই শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হবে। তাদের উদ্ভাবিত টিকার একটিই ডোজ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। আর সেই ডোজের মাত্রা এমনভাবেই ঠিক করা হয়েছে যাতে একটি শটেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শরীরে।

বিজ্ঞানী বলছেন, এই ডোজে রক্তের টি-লিম্ফোসেইট কোষও সক্রিয় হবে। এই টি-কোষ ভাইরাল স্ট্রেন সমেত সংক্রামিত কোষকে নষ্ট করে দিতে পারে। টি-কোষ অ্যাকটিভ হলে শরীরে জোরালো রোগ প্রতিরোধ তৈরি হয়।

বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই টিকা তৈরি করছে জনসন অ্যান্ড জনসনের রিসার্চ উইং জ্যানসেন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। সংস্থার চিফ একজিকিউটিভ অফিসার অ্যালেক্স গোরস্কি জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরিতে পশুদের শরীরে এই টিকার সেফটি ট্রায়ালে সুফল পাওয়া গেছে। ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে প্রায় ১০০ কোটি টিকার ডোজ তৈরির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

জনসনের কোভিড টিকা উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়েছে জানুয়ারি থেকে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের অধ্যাপক ও গবেষকদের সহযোগিতায় ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট বানিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। গবেষকরা বলেছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে তাকে ল্যাবরেটরিতে বিশেষ পদ্ধতিতে পিউরিফাই করে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হচ্ছে। মানুষের শরীরে ঢুকলে সেই নিষ্ক্রিয় ভাইরাল প্রোটিন  ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করবে। এই মেমরি বি সেলের কাজ হলো বাইরে থেকে শরীরে ঢোকা ভাইরাল প্রোটিন বা অ্যান্টিজেনগুলোকে চিহ্নিত করে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সাহায্য করা। সেই সঙ্গেই সক্রিয় হবে টি-কোষ।

যুক্তরাষ্ট্রে সবার আগে কার্যকর করোনা টিকা আনার জোর প্রতিযোগিতা চলছে। এগিয়ে রয়েছে মডার্না বায়োটেক ও ফাইজার। প্রথম সারির এই দুই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ভ্যাকসিনের তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় স্তরের সবচেয়ে বড় ট্রায়াল করছে মডার্না বায়োটেকনোলজি। দেশটিতে ৩০ হাজারের বেশি জনকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। মডার্না জানিয়েছে, তৃতীয় পর্বের ট্রায়ালের রিপোর্ট ক্রমশই ইতিবাচক হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় খবর হলো, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের শরীরেও টিকার ডোজে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে, কমবয়সীদের থেকেও কয়েকজন প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডির সংখ্যা অনেক বেশি।

আর ফাইজার জানিয়েছে, জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সহযোগিতায় টিকার সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা গেছে। প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আরও বেশি জনের উপরে এখন টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের রেগুলেটরি কমিটির কাছে। এরপর এফডিএ সায় দিলেই টিকা চলে আসবে দ্রুত।

/এএ/

লাইভ

টপ