X
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২
১৭ আশ্বিন ১৪২৯

নয় ভারত, নয় পাকিস্তান, আমরা বাংলাদেশ

মাসুদা ভাট্টি
২৩ মার্চ ২০২১, ১৭:০২আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ১৭:০২

পাকিস্তান মূলত একটি কেন্দ্রশাসিত রাষ্ট্র। একমাত্র পাঞ্জাব ছাড়া সেখানে আর কোনও প্রদেশের কথা বলার ক্ষমতা রয়েছে বলে কেউ বিশ্বাস করেন না। পাঞ্জাবের পক্ষে পাকিস্তানে গলা তোলা সম্ভব। কারণ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মূলত পাঞ্জাব-নিয়ন্ত্রিত। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে পাঞ্জাবের বাইরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেনাপ্রধানের পদ গ্রহণ করতে পেরেছেন হাতে গোনা দু-একজন মাত্র। কিন্তু তারা বেশি দিন স্বপদে কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান হলেও বেশি দিন রাজত্ব করতে পেরেছেন বলে নজির নেই। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি আসলে কোথায়? পাকিস্তানে বারবার সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় এলেও, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের বেশিরভাগটাই সেনা শাসন থাকলেও পাকিস্তানের সেনা শাসকরা সেখানে কোনও রাজনৈতিক লিগেসি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনী করলেও সেখানে সেনা তত্ত্বাবধানে এবং রাষ্ট্রের অর্থায়নে কোনও রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তানের সেনা শাসকবর্গ। এখনও সে দেশে রাজনীতি আপাতভাবে এবং দৃশ্যত যেসব রাজনৈতিক দলের হাতে তারা হয় সেনাসমর্থিত নয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী সমর্থিত, এর বাইরে দ্বিতীয় কোনও অবস্থান কারও নেই। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও যেটি ইতিবাচক তা হলো, পাকিস্তানের কোনও সেনা শাসকই নিজে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেননি বা করেননি। কিংবা কোনোভাবেই পাকিস্তানের ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে ‘গ্লোরিফাই’ করার চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণ নেই। হ্যাঁ পাকিস্তানে একটি সামরিক-ইতিহাস আছে বটে এবং তা শিশুকাল থেকে সবাইকে পড়তে বাধ্যও করা হয়, যা মূলত ভারতবিদ্বেষী এবং পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। যদিও, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তারপর থেকে এই ক্ষমতা গ্রহণ চলছেই এবং যে কোনোদিন আমরা আবার শুনতে পাবো যে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থরক্ষায় পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিংবা এখনও যে ক্রিকেটার ভদ্রলোক পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন তার রাজনীতি এবং তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলটিও সেনা ও ধর্মবাদীদের যুগপৎ পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত এবং পরিচালিত হয়ে আসছে।

অপরদিকে বাংলাদেশে আমরা কী দেখেছি? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করলেও শত বিভক্তি, বাধা এবং ৯১ হাজার সশস্ত্র বাহিনীকে মোকাবিলা করে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিরোধিতা এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেটা সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল ক্রমশ। তারপরও তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন যেকথা আগেই বলেছি। কিন্তু সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার আগেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড নিছক একটি রক্তকাণ্ড ছিল না, ছিল ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্র। যতই আজকে সমস্বরে বলা হোক না কেন যে সে সময়কার কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এটাই তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। এবং এই উদ্দেশ্য আরও প্রমাণিত হয় জেলহত্যার ভেতর দিয়ে। জাতীয় চার নেতাকে জেলের ভেতর হত্যা করে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা দেখতে পাই, তার সঙ্গে পূর্ববর্তী চার বছরের বাংলাদেশের কোনোই মিল নেই। আজকে স্বঘোষিত ইতিহাস লেখকগণ বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস রচনা করা শুরু করেছেন, একদিন হয়তো আমরা এই বয়ানকেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেখবো, এই সত্যও হয়তো তারা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবেন যে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের উন্নতি-অগ্রগতি যতটুকুই হয়েছে, গত পঞ্চাশ বছরে আমরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে পিছিয়েছিও অনেকটাই।

এই পেছানোর পেছনে মূল কারণগুলো কী কী? স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সেসব কারণও বিশ্লেষিত হওয়া দরকার। না হলে আগামী পঞ্চাশ বছর এই পেছন দিকে হাঁটার কষ্টটাও আমাদের বয়ে বেড়াতেই হবে।

যে কথা একটু আগেই বলেছি, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ও মৌলিক পার্থক্য হলো পাকিস্তানে কোনও সেনাশাসক সেনাবাহিনীকে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ খরচ করে কোনও রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেননি বা করেননি। সে দেশেও দল ভাঙিয়ে রাজনীতিবিদদের কেনাবেচা হয়েছে দেদার, সেই ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান যেমন সেটা করেছিলেন তেমনই সর্বশেষ জেনারেল পারভেজ মোশাররফও সেটা করেছেন কিন্তু কেউই রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি। কিন্তু বাংলাদেশে দুই জন জেনারেল রক্তপাতের মাধ্যমে বন্দুকের নলের মুখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনতাই করেই ক্ষান্ত হননি; বাংলাদেশে দুই দু’টি রাজনৈতিক দল গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের মৌলিক যে ক্ষতি তা এই রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সৃষ্টিলগ্নে যারা ভারত থেকে পাকিস্তানে গিয়ে বসবাস করে তাদের এখনও ‘মোহাজের’ বা শরণার্থী হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং সাধারণভাবে এই গোষ্ঠীটিকে ভারতের প্রতি দুর্বল হিসেবে ধরা হয়, মূলত সিন্ধু প্রদেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাজনৈতিক দলটি গঠন করা হয়েছিল তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসকশ্রেণি ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনে এবং তারা দেশের ভেতর সেই অর্থে জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত এই মোহাজের বা শরণার্থীদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব লন্ডনে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই দলটি পরিচালনা করে চলেছেন, এটা খুব বেশি কার্যকর কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সাধারণ পাকিস্তানিদের এদের সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কথাটি প্রায় সকলেই সমস্বরে বলে থাকেন তা হলো, এরা ‘গাদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক, এরা পাকিস্তানকে আবার ভাঙতে চায়, ফলে এদের পাকিস্তানের মাটিতে থাকতে দেওয়া যাবে না। অথচ ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করেই কেবল ক্ষান্ত হয়নি, যারা অকাতরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা এবং বাঙালি নারীকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে ধর্ষণের জন্য সেই জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃবৃন্দকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ফিরিয়ে এনে এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এখন গা বাঁচাতে ধুয়া তোলা হয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের। অথচ সাংবিধানিকভাবে এ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কই সংবিধানকে রক্ষা করার কথাতো কেউ বলে না কখনও? বরং সংবিধানের চার মূলনীতিকে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক সেনাশাসক বিসর্জন দিয়েছেন, আরেকজন বাংলাদেশকে সাংবিধানিকভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে নামজারি করেছেন। পাকিস্তানে কিন্তু এরকম ভয়ংকর ঘটনা ঘটেনি, সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহী না হয়েও মোহাজের গোষ্ঠীর রাজনীতি করার সম্ভবপর হয়নি, আর এখানে রাষ্ট্রবিরোধী হয়েও স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় এসে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ পাওয়া যায়, ত্রিশ বছরের মাথায় এসে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসা যায়। এই ভয়ংকর ও বাস্তব সত্যকে আমরা অস্বীকার করতে পারি কি? পারি না।

বাংলাদেশ উন্নয়ন-বাস্তবতায় পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং যাচ্ছে নানাবিধ সূচকে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোকে সেনা-আমলাদের মিলিত অক্ষশক্তির নির্দেশিত পথে হাঁটতে হয় সারাক্ষণ। ফলে তারা সেনা-আমলাদের স্বার্থরক্ষার বাইরে গিয়ে কখনও দাঁড়াতে পারেন না। চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ রশি টানাটানির ভেতর পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি একটি গভীর খাদের দিকে পতনোন্মুখ। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মরাষ্ট্রগুলোর প্রভাবও পাকিস্তানকে একটি জ্যান্ত ধর্ম-বোমায় পরিণত করেছে। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানি যুবগোষ্ঠীর পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো সন্ত্রাসী হিসেবে। এই যে পাকিস্তানের এত নেতিবাচক ও নিম্নগামী পদযাত্রা, এর তো নিঃসন্দেহে কারণ রয়েছে কোনও, তাই না? নিবন্ধের ছোট্ট পরিসরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ কম কিন্তু দু’এক কথায় বলতে গেলে এ কথা আমাদের বলতেই হবে যে, পাকিস্তানে সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল সৃষ্টি না করলেও সেনাসমর্থন ও সেনা-নিয়ন্ত্রণ দু’টোই সমানভাবে রাজনীতিতে বলবৎ থাকায় পাকিস্তানের পক্ষে একটি উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গঠন কিংবা গরিষ্ঠসংখ্যক জনগণের জন্য কল্যাণকর কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ফলে পাকিস্তানের যতটুকুই উন্নতি হয়েছে সবটাই আসলে ঘটেছে কতিপয় তথা সেনা-আমলাতন্ত্রের হিতার্থে। গরিষ্ঠকে অবহেলিত, নিগৃহীত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত রেখে কোনও রাষ্ট্রই সার্বিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না, সম্ভব হয় না, পাকিস্তানও তাই এখন বারবার বাংলাদেশ হতে চায় কিন্তু সেটা ততদিন সম্ভব হবে না, যতদিন না পাকিস্তানের রাজনীতির ওপর থেকে সেনা-আমলাদের নগ্ন থাবা সরানো সম্ভব হবে।

খানিক আগেই বলেছি যে, পাকিস্তানে জনগণকে আসলে অক্ষম করে রাখা হয়েছে, জনগণ এখন সেখানে কেবল আহাজারিই করতে পারে। বাংলাদেশেও সেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের পর থেকে। একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলকে এ দেশের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো প্রথমেই। দীর্ঘ পাঁচ বছর গেলো কেবল রাজনীতি শুরু করতেই। ততদিনে সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে, তাকে রাজনীতি করতে হলো স্বৈরাচারী শাসকের হাতে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে, সেনাসদরে গঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, যার সঙ্গী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস। ততদিনে বাংলাদেশের উদার বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নীতি-নির্ধারণে আর কিবলা নির্ধারণ করতে গিয়ে শক্তিক্ষয় করে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের ‘অ্যালাই’ বা মিত্র বলতে আসলে যা বোঝায় সেটা ছিল না। আর সে কারণে দীর্ঘ একুশ বছর দলটিকে আসলে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য রাজপথে থাকতে হয়েছে, কালোটাকা, পেশিশক্তির সঙ্গে যুঝতে হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে করতে হয়েছে আপস। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ১৯৯৬ সালে এসে আওয়ামী লীগকে নির্ভর করতে হয়েছে আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের ওপরও। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মতোই বাংলাদেশেও রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদির স্থায়ী ক্ষতি সম্পন্ন হয়েছে এদেশে দু’দু’টি সামরিক শাসন এবং দুই সামরিক শাসকের হাতে সৃষ্ট রাজনৈতিক দলের হাত দিয়ে। আজকের গবেষকদের অনেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন নব্বইয়ের দশক থেকে কিন্তু ১৯৯৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যে সময়কালটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলো, তারা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে সে বিষয়ে নীরব থাকেন নয় গায়ের জোরে এই সময়কালটা এড়িয়ে যান। ১৯৯১ সালে এসে আমরা যে বাংলাদেশকে দেখতে পাই তা সম্পূর্ণ এক ভিন্ন বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে জনগণকে পাকিস্তানের মতোই অক্ষম করে তোলা হয়েছিল তখন এবং সেটি সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছিল এ দেশের সেনা-আমলাচক্র প্রথমত সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জেলের ভেতর জাতীয় নেতাদের হত্যা করে; দ্বিতীয়ত, জেনারেল জিয়াকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করার মাধ্যমে এবং তারপর থেকে ক্রমাগতভাবে এই সামরিক-শক্তির দাবিদার রাজনীতি আর কাউকে নয় কেবল আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকেই তাদের শত্রু জ্ঞান করে এসেছে এবং এই দু’টি পক্ষকে শেষ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছে। এতে হত্যা, খুন, গুম এবং ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির যে ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই তার সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে চরম মিল এবং এভাবেই জনগণকে আসলে রাজনীতি থেকে সরিয়ে ফেলার কাজটি সমাধা হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই নতুন করে সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বা দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে জনগণের এই ঘুরে দাঁড়াতে না পারার অক্ষমতাকে আমাদের মূল্যায়নে নিতেই হবে এবং একে পরাজয় হিসেবেই দেখতে হবে। না হলে পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে আলোচনাটা নিশ্চিতভাবেই অর্থহীন হয়ে যাবে।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি

[email protected]

প্রথম পর্ব: বঙ্গবন্ধু ১০০ বাংলাদেশ ৫০

/এসএএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
দেশের স্বার্থে দুই প্রধানমন্ত্রী আপসহীন ছিলেন
দেশের স্বার্থে দুই প্রধানমন্ত্রী আপসহীন ছিলেন
অর্থনীতি, আইএমএফ-এর ঋণ আবেদন এবং প্রচারণা
অর্থনীতি, আইএমএফ-এর ঋণ আবেদন এবং প্রচারণা
পদ্মা সেতু খুলে গেলো আর হেরে গেলো ‘ওরা’
পদ্মা সেতু খুলে গেলো আর হেরে গেলো ‘ওরা’
আপনার বিবেক বলবে ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আপনার বিবেক বলবে ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা জুনায়েদের জামিন
হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা জুনায়েদের জামিন
রাতে ভক্তদের ভিড় পূজামণ্ডপে
রাতে ভক্তদের ভিড় পূজামণ্ডপে
৭ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ডের
৭ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ডের
ঘটনাবহুল ম্যাচ জিতে সিরিজ ভারতের
ঘটনাবহুল ম্যাচ জিতে সিরিজ ভারতের
এ বিভাগের সর্বশেষ
স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু ১০০ বাংলাদেশ ৫০
বঙ্গবন্ধু ১০০ বাংলাদেশ ৫০