X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১

প্রিয় দশ

টি এম কায়সার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০০:০০

মৃত্যু অথবা মডার্নিটি

টানা দশ ঘণ্টা আতশবাজি শেষে নতুন বছর শুরু হলো
মাত্র কিছুদিন আগে
তারপর এই যে আবারও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি
রাজস্থানের মরুভূমিতে এক প্রকাণ্ড উটের পিঠে চড়ে
টপ্পা গাইতে গাইতে
এই যে একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি
একে অন্যের দৃষ্টিসীমা থেকেও দূরে—
একটা মানুষ এবং একটা উট থেকে ক্রমে শুধুই
একখানা বড় পিপীলিকা এবং একখানা কালো বিন্দু হয়ে
যে যার মর্মন্তুদ অশ্রু ও হাহাকারে এই যে নিরুদ্দিষ্ট হচ্ছি ধীরে
এর নাম মৃত্যু নাকি মডার্নিটি—
জিজ্ঞেস করে রাখছি ভাষাতত্ত্বের সব দার্শনিকের কাছে!


প্রেত-নৃত্য প্রহর

জেগে আছি
ও ঘনযামিনী রে...
ফাঁকা মাঠ, মঠ ও মন্দির—শুধু রাউলির ডহর থেকে আচমকা ভেসে আসছে
অর্ধমৃত ময়ূর আর মৎস্যের বিলাপ
ওহো তট ও তারিণী—
আমরা কি প্রায় উপনীত হয়েছি রক্তে কাঁটা দেওয়া তথোক্ত প্রেত-নৃত্য-প্রহরে?
শুনতে তো পাচ্ছি—গোপনে কোথাও বেজে চলছে ঘুমপাড়ানো অলৌকিক ঘুঙুর!
লক্ষ লক্ষ খেকশিয়ালের নিদ্রাতুর, নীরব জৃম্ভণ!
আমাদের অতৃপ্ত পূর্বপুরুষেরা কি সহসা জেগে উঠে নিঃশব্দে মাতম জুড়েছে এই
নিষ্ঠুর বটের খালে, অগাধ নিশীথে?

জেগে আছি...
ঘুম-দষ্ট ভুবনের ওপর নীরবে রচনা করছি নিজের ভাস্কর্য!


গোঁ

শুঁড়িখানার সঙ্গী, সুরা, পানপাত্র সব ফেলে এসেছি
এখন খুব তুষারপাত হোক
মাঝে মাঝে তুমুল বজ্রপাতও; কে না কে মারা গেল—তাতে আমার কী

একটু একটু করে না-হয় অন্ধকারও নামুক
আমি ব্রিজের ওপারে রূপকুমারী নদী পার হয়ে
একটা উইলো গাছের নিচে বসে জিরোব
ক্ষয়িষ্ণু দালানের ছাদ থেকে কে না কে হাতছানি দিয়ে ডাকছে
তাতে আমার বয়েই গেল!


রক্তপাত

জেগে আছি পাহারায় সদর দরজায় বসে
তুমি ঘুমাও
একটা ঘুমনদী বয়ে যাক তোমার ওষ্ঠ, চিবুক, আর স্তনযুগলের খাঁজ বেয়ে...
দুপাশে কিছু উপনদীও জেগে উঠুক
যোনি ও জঙ্ঘায় অবিরাম রক্তপাত হচ্ছে;
হোক
রীতি হলো—
জগতের সব মহান নদীই জেগে উঠেছে
এমন অনাবশ্যক রক্তধারা বয়ে যাবার পর


ডুব

চোখ বন্ধ রেখো...
নদীচক্রে কে ডুবে মরলো, কোন ব্রিজ সহসা ধসে পড়ল তাতে কী
এই ওষ্ঠ-অভিসার চলবে
এই আরাধানা চলবে
এই চুম্বন ঢুকে পড়বে আমাদের মগ্নচৈতন্যের এক দিগন্ত থেকে আরও গভীর
মেঘমালায়, মেঘান্তরে, আরও আরও আরও গভীরে...
পায়ের নিচ দিয়ে ভূমিকম্প যাবে, যাক
প্রলয় আসলে আসুক


আগুন

এই সব হত্যা ও রক্তপাত দৃশ্যের আড়ালে
কেউ নিশ্চয়ই গোপনে আমার জন্য লুকিয়ে রাখে
ঘুমবাহী নদী আর ভীষণ লোধ্ররেণু;
চোখের গভীরে পুষে রাখে কিছু পারলৌকিক সমুদ্রসারস
আর আমার বুকের দিকে নিভৃতে উড়িয়ে দেয়; ডুবে গেলে পঞ্চমীর রক্তঝরা চাঁদ

এই সব তীব্র তির, লক্ষ্যভেদী খঞ্জর আর আমার ঝাঁঝরা হৃৎপিণ্ডের বিপরীতে
কেউ নিশ্চয়ই আমার জন্য অগোচরে জমিয়ে রাখে
অতিশয় কুয়াশা কিছু...আর গাঢ় জলের সৌরভ...
কেউ নিশ্চয়ই আমার জন্য নাভিমূলে ঢেকে রাখে লেলিহান আগুন...


হাত ধরো

বারুতখানা রোডের ধারে হাঁটছি যখন
স্ল্যাবের চিপায় পা ঢুকিল হঠাৎ কখন
গোসাঁই, আমার হাত ধরো নয় ভেসে যাব চেনার স্রোতে

নিচে কালো পুরীষস্তূপ আর চেনা তো নয়; পুঁজ-প্রবাহ
সইতে নারি সইতে নারি আহা মরি!
গোসাঁই আমার হাত ধরো গো!


শিন্নি

ডুবে যাচ্ছি মায়া-পারাবারে!

এবার বদর হাঁকো, তুশা শিন্নি মানো মাঝি শাজলাল বাবার মাজারে

দোহাই জিন্দাপীর দোহাই মনসা মাগো দোহাই তোমার
গহিন সায়রে মা গো কী হবে উপায়!

এ কোন কুহক সিন্ধু, ঢেউয়ে ঢেউয়ে জ্বলে প্যারাফিন
চারদিকে জলরাশি; বাদম ছিঁড়ল বুঝি ঈশনি বাতাস!

মুর্শিদ মন্ত্র দাও গো এ কালনিশীথে
সরল শিষ্যের বৈঠা তুলে নাও হাতে
আমি তো অক্ষম গুরু ঝড়ে ও ঝঞ্ঝায় নাও বাইতে শিখিনি
নিশিদিন শুক্রপাতে হাওয়ায় ভাইস্যা গেল সাধের যৌবন

মুর্শিদ, ধরো গো হাত, না-হয় ডুবছি এই অকূল পাথারে!


জীনপুর

জীনপুর যাব গুরু পথ বলে দাও

দেহবৃক্ষের পাঁচ ডালে ঢুকে গেছে কাল
শেকড়ে ক্ষুধার্ত কালো মূষিক-মচ্ছব

আটটি কুঠুরি গুরু ভিজে গেল ঘোলা অন্ধকারে
দশম দরজা থেকে মার্কেপ্টানের গন্ধ ভেসে আসে...

দেহ ধুনে ধুনে একা বিয়েছি বিভ্রম
বিভ্রম ধুনে এহেন শূন্যে ভেসেছি

জীনপুর পাই কোথা গুরু শুধু পথ বলে দাও!


নখ ও জিভ বিষয়ক

মোটের ওপর আমি এবং গৌতম বুদ্ধ দুজনেই এক বৌদ্ধ-পূর্ণিমার রাতে তেপান্তরের পথে পা রেখেছিলাম! এরপর দুজনেই থাকি হিমালয়ের চূড়ায়—জগতের এই সব সাইমুম আর ধুলো-প্রবাহে কী আসে আর যায় হে, কী আসে আর যায়!

এক মেঘলা দুপুরে গৌতম আমাকে ছেড়ে গেছেন আরও দূর বনের দিকে! আর সকলেই যেমন জানেন, আমার আছে টগবগে লাল রক্ত; ছুরির মতো ধারালো নখ আর কী আশ্চর্য ভারি সুন্দর একখানা লকলকে জিভও!

তারপর তো একই যুদ্ধ! একই যুদ্ধ; প্রতিটি রাতের শেষে শক্ত শাবল হাতে যদিও উৎখাত করি যাবতীয় নখের উত্থান; আর লকলকে জিহ্বামূলে যদিও পরিয়ে দেই ঐশি-মন্দিরের লৌহ-জিঞ্জির, তবু দিনে দিনে বাড়ে নখ। জিহ্বা—শুধু ক্ষণে ক্ষণে প্রসারিত হয়...

/জেড-এস/
সম্পর্কিত
প্রিয় দশ
দোআঁশে স্বভাব জানি
প্রিয় দশ
সর্বশেষ খবর
৯ মাসে ওয়ালটনের মুনাফা বেড়েছে ৫১২ কোটি টাকা
৯ মাসে ওয়ালটনের মুনাফা বেড়েছে ৫১২ কোটি টাকা
ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মোটরসাইকেল বহরে বোমা হামলা
ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মোটরসাইকেল বহরে বোমা হামলা
তীব্র গরমে স্বস্তির ‘রাস্তার শরবতে’ হতে পারে বিপদ
তীব্র গরমে স্বস্তির ‘রাস্তার শরবতে’ হতে পারে বিপদ
তাইওয়ানে আবারও ভূমিকম্প
তাইওয়ানে আবারও ভূমিকম্প
সর্বাধিক পঠিত
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
আজকের আবহাওয়া: ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস এবং কোথায় কেমন গরম পড়বে
আজকের আবহাওয়া: ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস এবং কোথায় কেমন গরম পড়বে
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!