কারও নিয়োগকে কেন্দ্র করে কীভাবে সভা ডাকছে ওয়াসা?

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৬:০৯, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৭, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২০

 

ওয়াসা’র এমডি তাকসিম এ খানষষ্ঠবারের মতো নিয়োগ পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাতে নিজেই সব আয়োজন করেছেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এজন্য আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তড়িঘড়ি করে অনলাইনে সভাও ডাকা হয়েছে। অথচ ওয়াসা’র এমডি নিয়োগ দিতে হলে তার জন্য বোর্ড সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোনও প্রতিষ্ঠানের কোনও নিয়োগে কাউকে কেন্দ্র করে এভাবে সভা ডাকতে পারে না কেউ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ওয়াসা’র সচিব প্রকৌশলী শারমিন হক আমীরের সই করা এক নোটিশে বলা হয়, ‘ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ৯৭তম বিশেষ সভা (অনলাইন মিটিং) আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখ রোজ শনিবার বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।’
সভার একমাত্র আলোচ্যসূচিতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে তিন বছরের জন্য নিয়োগের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে ওয়াসা বোর্ড সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এভাবে তো সভা ডাকতে পারে না। বড়জোর সভার আলোচ্যসূচি হতে পারে ওয়াসা এমডি নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা।’ওয়াসা
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল শুক্রবার চিঠি পেয়েছি। চিঠি ইস্যুর তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার। দেখি আজ কী আলোচনা হয়। আলোচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াসার অপর এক সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সভা আহ্বানের প্রক্রিয়াই বলে দেয় এটা বর্তমান এমডি তাকসিম এ খানের নির্দেশেই হয়েছে। এখানে এমডি নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা বা প্রক্রিয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা উচিত ছিল। তা না করে এমনভাবে এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, তাকসিম এ খানকে নিয়োগ দিতেই এ সভা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ওয়াসার বোর্ড সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি তিনি।
কারও নিয়োগ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করে এভাবে সভা ডাকা যায় কিনা সে বিষয়ে জানতে সভার নোটিশ আহ্বানকারী ঢাকা ওয়াসার সচিব প্রকৌশলী শারমিন হক আমীরকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়টি উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি। সাড়া দেননি ওয়াসা এমডি তাকসিম এ খানও।
ঢাকা ওয়াসা’র আইন অনুযায়ী ওয়াসা বোর্ডের সুপারিশ বা প্রস্তাবের পর সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু একই ব্যক্তি একই পদে সর্বোচ্চ কতবার বা কত বছর নিয়োগ পেতে পারেন, সে ব্যাপারে আইনে কিছু বলা নেই। ফলে ২০০৯ সালে প্রথম দফায় নিয়োগ পাওয়ার পর আর পদ ছাড়তে হয়নি তাকসিম এ খানকে। এরপর আরও চার দফা নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে তার বিরুদ্ধে। এবছর ষষ্ঠবারের মতো প্রক্রিয়া চলছে। এক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ড নজিরবিহীন জালিয়াতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, অতীতে এ বিষয়ে ওয়াসা বোর্ডকে সতর্ক করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনও প্রতিষ্ঠান শীর্ষ পদে নিয়োগে কাউকে কেন্দ্র করে এভাবে সভা ডাকতে পারে না। এটা ওপেন আলোচনা হতে হবে। পূর্ব নির্ধারিত এজেন্ডা করে জনগণের প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তা প্রতিষ্ঠানকে বিপদে ফেলবে। এটা আদর্শ সরকার ব্যবস্থায় হতে পারে না।’

বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার কারণে তিনি কথা বলতে পারেননি।


আরও পড়ুন-

ওয়াসার কাজ কী? 


ওয়াসার এমডি ইচ্ছাকৃতভাবে রায় প্রতিপালন করছেন না: হাইকোর্ট

ওয়াসার এমডি তাকসিম খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ