X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

কোন আম কখন আসবে বাজারে?

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ১৮:১৬

গ্রীষ্মপ্রধান এ দেশে আম হলো ফলের রাজা। আকার, বাহার আর ঘ্রাণে তার জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিতেও ভরপুর। বৃহত্তর রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুর আমের জন্য বিখ্যাত। ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি, হিমসাগর, মোহনভোগ, গোলাপ খাস, সূর্যপুরি, মিসরি ভোগ, আশ্বিনাসহ প্রায় কয়েক শ’ জাতের আম উৎপাদন হয় এসব অঞ্চলে।

দেশের সব প্রান্তের মানুষই মধুমাস জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়-শ্রাবণে রাজশাহী অঞ্চলের আমের জন্য অপেক্ষা করে। পরে আম নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এক ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ কর্মসূচিতে আম্রপালি জাতটিকে দেশের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, এখন বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগাম এবং বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতেও এ জাতের আম প্রচুর উৎপাদন হচ্ছে। বলা যায় এখন দেশের ৪০-৪৫ ভাগ আমই আম্রপালি জাতের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, কয়েক বছর ধরে আরও কিছু জাতের আমের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা। এর মধ্যে রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা, ঠাকুরগাঁওয়ের বান্দিগুড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গৌরমতি, বারি উদ্ভাবিত বারি-৪, বাউ উদ্ভাবিত বাউ-১৪ (ব্যানানা ম্যাংগো), রাংগুয়াই (বার্মা), পলিমার (ভারত), নান ডকমাই (থাই) অন্যতম।

রাজশাহীর আম ১৫ মে থেকে বাজারে

এ মাসের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে এসেছে রাজশাহীর আম। প্রথমে ১৫ মে এসেছে গুটি আম। এরপর এ মাসে চার দফায় বাগান থেকে গোপালভোগ ও হিমসাগরসহ বেশ কয়েক জাতের আম নামানোর দিন নির্ধারণ করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন।

ল্যাংড়া আসবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৮ মে ধাপে ধাপে নামানো হবে গোপালভোগ, লক্ষণভোগ, রানিপছন্দ ও হিমসাগর। জুনে ল্যাংড়ার পর মৌসুমের শেষ দিকে আসবে আরও নানা জাতের আম।

রাজশাহী জেলার ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী গোপালভোগ আম নামবে ২০ মে থেকে। পাঁচদিন পর ২৫ মে থেকে নামবে লক্ষণভোগ, লখনা ও রানীপছন্দ। হিমসাগর, ক্ষীরসাপাত আম ২৮ মে থেকে পাড়া শুরু হবে। ৬ জুন থেকে নামবে ল্যাংড়া।

১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি নামবে। আর মৌসুমের শেষে আশ্বিনা ও বারি আম-৪ নামবে ১০ জুলাই থেকে। এ ছাড়া রঙিন আম খ্যাত বারি আম-১৪ নামবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তায়।

এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানিয়েছেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন এবং ভোক্তা পর্যায়ে বিপণন বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রত্যেক উপজেলায় আলাদা কমিটি থাকবে। এ কমিটি অসময়ে আম নামানো এবং আমে কেমিক্যাল মেশানো ঠেকাতে আমবাগান, কেমিক্যাল বিক্রির দোকান এবং আমের আড়ত পরিদর্শন করবেন।

জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়াও আইন অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনবেন তারা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই অপরিপক্ক আম সংগ্রহ কিংবা বাজারে তোলা যাবে না। আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতে কোনও কেমিক্যাল মেশানো যাবে না। আমে ভেজাল ঠেকাতে পরিবহনের আগে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের বাজার জেলার পুঠিয়ার বানেশ্বরে বিশেষ নজরদারী রাখবে প্রশাসন।

গাছে পাকলেই পাড়া হবে চাপাইনবাবগঞ্জের আম

আমের রাজধানী বলা হয় চাপাইনবাবগঞ্জকে। স্থানীয় আমচাষিরা জানিয়েছেন, চাপাইনবাবগঞ্জের আম জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে আসতে শুরু করবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে এবার প্রথমে নামবে গুটি আম। সেটি আরও ১৫ দিন পর বাজারে আসবে। আমচাষিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আম গাছে পাকলে তারপর নামিয়ে বাজারে পাঠানো হবে। অপরিপক্ক আম বাজারে পাঠালে ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা এবং জরিমানা হবে। 

নাটোরে আম পাড়া শুরু হয়েছে ১০ মে

নাটোর জেলায় ১০ মে গাছ থেকে নিরাপদ আম ও লিচু সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাসায়নিক পদার্থের অপব্যবহার রোধ করে পরিপক্ক ফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুরো মৌসুমে গাছ থেকে বিভিন্ন জাতের আম ও লিচু সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাটোর জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  ১০ মে থেকে গুটি আম এবং মোজাফ্ফর জাতের লিচু সংগ্রহ করা যাবে। গোপালভোগ ২০ মে, ল্যাংড়া ৫ জুন, ক্ষিরসাপাত ২৮ মে, লক্ষণভোগ ২৫ মে, ফজলি ২০ জুন, আম্রপালি ২০ জুন, মল্লিকা ৩০ জুন, আশ্বিনা ১৫ জুলাই, রানীপছন্দ ২৫ মে, মোহনভোগ ১৫ জুন, বারিআম-৪ ১০ জুলাই, হাড়িভাঙ্গা ২০ জুন এবং গৌরমতি আম ১৫ আগস্ট থেকে পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁর আম ২০ মে’র পর

নওগাঁ জেলা প্রশাসনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ১০ মে থেকে গুটি আম এবং মোজাফ্ফর জাতের লিচু সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া গোপালভোগ ২০ মে, ল্যাংড়া ৫ জুন, ক্ষিরসাপাত ২৮ মে, লক্ষণভোগ ২৫ মে, ফজলি ২০ জুন, আম্রপালি ২০ জুন, মল্লিকা ৩০ জুন, আশ্বিনা ১৫ জুলাই, রানীপছন্দ ২৫ মে, মোহনভোগ ১৫ জুন, বারিআম-৪ ১০ জুলাই, হাড়িভাঙ্গা ২০ জুন এবং গৌরমতি আম ১৫ আগস্ট থেকে পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আসতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম

বাজারে উঠতে শুরু করেছে সাতক্ষীরার আম। তবে প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের কারণে প্রথমে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ জাতের আম পাড়ার অনুমতি পেয়েছেন চাষিরা। দেশের অন্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম আগে ভাগেই পাকে। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে বেঁধে দেওয়া সময়ে আম বাজারজাত করা হচ্ছে বলে জানান আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। পর্যায়ক্রমে পাড়া হবে হিমসাগর, আম্রপালি ও ল্যাংড়া।

জেলা কৃষি অফিস গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ সময়সূচির আগে কোনও জাতের আম পরিপক্ক হলে উপজেলা কৃষিবিভাগ ও প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে কৃষকরা গাছ থেকে আম সংগ্রহ করতে পারবেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নূরুল ইসলাম বলেন, বাইরে থেকে যারা আম কিনতে আসবেন তাদেরকে কমপক্ষে তিনদিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এ ছাড়া আমচাষিদের সুবিধার্থে ২১ মে হিমসাগর, ৪ জুন আম্রপালি পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর এখনো সাতক্ষীরায় ঝড়-বর্ষা হয়নি। তাপদাহে আম কিছুদিন আগেই পেকেছে। তাই পাড়ার তারিখও এগিয়ে আনা হয়েছে।

/এফএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বাঙালির চিত্রশিল্পী, জীবনের শিল্পী
জয়নুল আবেদিনবাঙালির চিত্রশিল্পী, জীবনের শিল্পী
ভেড়ার মাংসে পাওয়া গেছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট: গবেষণা
ভেড়ার মাংসে পাওয়া গেছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট: গবেষণা
সাউন্ড বক্সের শব্দ কমানো নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত
সাউন্ড বক্সের শব্দ কমানো নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত
স্টেশনে তরুণী লাঞ্ছিত, ২০ নারীর প্রতিবাদ
স্টেশনে তরুণী লাঞ্ছিত, ২০ নারীর প্রতিবাদ
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত