জাপানি মায়ের কাছে নয়, বাংলাদেশি বাবার কাছে থাকতে চায় মেজো মেয়ে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৩৭আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৩৭

বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে টানাহেঁচড়া চলছে কয়েক বছর ধরে। সর্বশেষ গত ২৯ জানুয়ারি আদালত রায় দিয়েছেন, দুই সন্তান তাদের মায়ের কাছে থাকবে। তবে সেই দুই শিশুর মধ্যে ছোট মেয়ে লায়লা লিনা বাবার কাছে থাকতে চায় বলে জানিয়েছে। তিন বোনের মধ্যে ছোটো শিশুটি তাদের মায়ের কাছে আছে।

লায়লা লিনা বলে, আমি আমার বাবার কাছে থাকতে চাই। আমার বাবাকে আমি অনেক ভালোবাসি। মায়ের কাছে যেতে চাই না। বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অধস্তন আদালত প্রাঙ্গণে বাবার সঙ্গে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে একথা বলে লায়লা লিনা।

এসময় বাবা ইমরান শরীফ বলেন, লায়লা লিনা আমার কাছে থাকতে চায়। মায়ের কাছে যাবে না। কিন্তু ওর মা ওর ওপর প্রেশার ক্রিয়েট করছে ওকে নিয়ে যেতে। কিন্তু ও যেতে রাজি না। আমি বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এদিকে বড় মেয়ে নাকানো জেসমিন মালিকাকে (১১)  নিয়ে আদালতে আসেন মা জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো। আজ আদালতে লায়লা লিনাকে মায়ের হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এরআগে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান বাবা ইমরান শরীফের করা মামলা খারিজ করে জাপানি বংশোদ্ভুত ওই দুই শিশু মায়ের জিম্মায় থাকবে বলে রায় দেন।

উল্লেখ্য, মা জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকোর সঙ্গে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ইমরান শরীফের বিয়ে হয় ২০০৮ সালে। দাম্পত্য কলহের জেরে ২০২০ সালের শুরুতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। ১২ বছরের সংসারে তাদের তিন সন্তানের জন্ম হয়। ইমরান স্কুলপড়ুয়া বড় দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। ছোট মেয়ে জাপানে এরিকোর সঙ্গে থেকে যান।

এরপর ওই দুই মেয়েকে জিম্মায় পেতে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশে আসেন এই জাপানি নারী। তিনি হাই কোর্টে রিট আবেদন করলে তাদের সমঝোতায় আসতে বলেন বিচারক। কিন্তু ওই দম্পতি সমঝোতায় না আসায় কয়েক মাস ধরে শুনানির পর হাই কোর্ট দুই সন্তানকে বাবার হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। পাশাপাশি মা যাতে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাবাকে খরচ দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন শিশুদের মা নাকানো এরিকো।

পরে আপিল বিভাগ এক আদেশে শিশু দুটিকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিলেও বাবা তা না মানায় বিচারকরা উষ্মা প্রকাশ করেন। পরে আদালত শিশু দুটিকে বাবার হেফাজত থেকে এনে তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং পরে মায়ের হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেয়।

এরপর গত বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়ে কার জিম্মায় থাকবে, তার নিষ্পত্তি হবে পারিবারিক আদালতে এবং তার আগ পর্যন্ত দুই শিশু তাদের মায়ের কাছেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দেন আপিল বিভাগ। এরপর আপিল বিভাগ থেকে মামলাটি পারিবারিক আদালতে আসে। এদিকে সন্তানসহ পালানোর চেষ্টার অভিযোগে জাপানি মা এরিকো নাকানোর বিরুদ্ধে সন্তানদের বাবা ইমরান শরিফ গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলাও করেন।

আরও পড়ুন- 

আদালতের রায় উপেক্ষা বাংলাদেশি বাবার, পুলিশি বাধায় জাপানি মা

আইনে যাই থাকুক, দুই শিশুর কল্যাণের দিকটি দেখেছেন আদালত

জাপানি দুই শিশু নিয়ে রায়: বাবার মামলা খারিজ, মায়ের জিম্মায় দুই শিশু

/এমকেআর/এফএস/
সম্পর্কিত
প্রতারণার মামলায়ও তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্টের সেই সাহেদ কারাগারে
সাবেক এমপি জ্যাকব নতুন মামলায় গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
বিশ্বকাপ জিতে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন, পেছালো আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ জিতে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে স্পেন, পেছালো আর্জেন্টিনা
শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান
শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো গড়ে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান
ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধের পথে ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধের পথে ট্রাম্প
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
কাস্টমসের নথি না পাওয়ায় ৮ হাজার কোটি টাকা পাচার অনুসন্ধানে ধীরগতি
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত
দলীয় এমপির ভিডিও ভাইরাল ইস্যুতে যা বললো জামায়াত