X
রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
৯ চৈত্র ১৪৩১

আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে যা বলছে জাতিসংঘের প্রতিবেদন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১১আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:১১

জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের তদন্ত দল। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক।  জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখ হয়ে ওঠা রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা বিশদভাবে বিশ্লেষণ করার কথা প্রতিবেদনে বলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “আবু সাঈদের বিশেষ ঘটনাটি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যার রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সময় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দু’বাহু ছড়িয়ে ‘আমাকে গুলি করুন’ বলে চিৎকার করার সময়ের দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল।”

ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র ও ভূ-অবস্থান প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তদন্তকারীরা তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা সাক্ষ্য-প্রমাণের জন্য পুনর্নির্মাণ করেন।

জাতিসংঘ বলছে, “একটি ফরেনসিক বিশ্লেষণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, তার আঘাতগুলো প্রায় ১৪ মিটার দূরত্ব থেকে ধাতব গুলিভর্তি শটগান দিয়ে কমপক্ষে দুবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু সাঈদ পুলিশের ‘ইচ্ছাকৃত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে’।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, “এই নৃশংস প্রতিক্রিয়া ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত কৌশল, যা জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল।"

“বিক্ষোভ দমন করার কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে, তাদের সমন্বয় ও নির্দেশনায় শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধও গঠন করতে পারে। জাতীয় নিরাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার অপরিহার্য।” 

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সেপ্টেম্বর মাসে একটি দল পাঠায় যার মধ্যে মানবাধিকার অনুসন্ধানকারী, একজন ফরেনসিক চিকিৎসক এবং একজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাতে মরণঘাতী ঘটনাগুলোর বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়। 

/এসও/এমএস/
সম্পর্কিত
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ
আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, ঢাকা অবরোধের হুঁশিয়ারি
ছাত্রদের হাতে অবরুদ্ধ বাংলাদেশ বেতারের কর্মকর্তা, উদ্ধার করে হেফাজতে নিলো পুলিশ
সর্বশেষ খবর
ঈদে এক চ্যানেলেই ২৭ নাটক ও ৭ সিনেমা
ঈদে এক চ্যানেলেই ২৭ নাটক ও ৭ সিনেমা
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সেই মালেকের ১৩ বছরের কারাদণ্ড
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সেই মালেকের ১৩ বছরের কারাদণ্ড
দিল্লিতে অবৈধ বসবাসের দায়ে একাধিক বাংলাদেশি গ্রেফতার
দিল্লিতে অবৈধ বসবাসের দায়ে একাধিক বাংলাদেশি গ্রেফতার
এবার আগুন লেগেছে সুন্দরবনের গুলিশাখালীতে
এবার আগুন লেগেছে সুন্দরবনের গুলিশাখালীতে
সর্বাধিক পঠিত
পিস হিসেবে কিনে আনা তরমুজ কেজিতে বিক্রি, দুই ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা
পিস হিসেবে কিনে আনা তরমুজ কেজিতে বিক্রি, দুই ফল ব্যবসায়ীকে জরিমানা
মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৭১
মোহাম্মদপুরে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৭১
জাতীয় পার্টি ও আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না
রংপুরে জিএম কাদেরজাতীয় পার্টি ও আ.লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না
রাজধানীতে সড়কে বসলো ‘রিকশা ট্র্যাপার’, উদ্দেশ্য গতি নিয়ন্ত্রণ
রাজধানীতে সড়কে বসলো ‘রিকশা ট্র্যাপার’, উদ্দেশ্য গতি নিয়ন্ত্রণ
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ
জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ