দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে মাছ, সবজি ও ডিমের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং মাছের দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়া ও পরিবহন ব্যাহত হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মুরগি এবং গরু-খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছ ও সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০-৬০ টাকার ঢেঁড়স বেড়ে হয়েছে ৭০-৮০ টাকা। ঝিঙা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮৫ টাকা, পটল ৬০-৭০ টাকা থেকে ৮০-৮৫ টাকা এবং করলা ৬০-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০-৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। গত সপ্তাহে চাষের রুই ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়। কাতলা ৪৮০-৫২০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০-৬২০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৪০ টাকা থেকে ২৬০-২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২০০-২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪০-২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে মুরগির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০-২০০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ৩৩০-৩৪০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৩০-৩৪০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগের মতো সবজি আসছে না। যেসব গাড়ি আসছে, সেগুলোর পরিবহন খরচও বেড়েছে। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
কলতা বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সোহেল বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় মাছ ধরা কমে গেছে। টানা বৃষ্টিতে জেলেরাও ঠিকমতো নদীতে যেতে পারছেন না। পাইকারি বাজারেও সরবরাহ কম। তাই বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
রায়সাহেব বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আব্দুল কাদের বলেন, বন্যা আর টানা বৃষ্টির প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়েছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও পণ্যের দাম বাড়ছে। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে। আগে যে পরিমাণ মাছ-সবজি কিনতাম, এখন তার অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছি।
গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, বাজারে এসে দাম শুনলেই অবাক হতে হচ্ছে। বিশেষ করে সবজি আর মাছের দাম অনেক বেড়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।
এদিকে ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বর্তমানে ফার্মের (ব্রাউন) ডিম প্রতি ডজন ১৩৫-১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুই দিন আগেও একই ডিমের দাম ছিল ১২০-১২৫ টাকার মধ্যে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডিমের দামও বেড়েছে।









