নির্বাচনি সহিংসতায় প্রাণহানি প্রসঙ্গে সিইসি

মানুষের জীবনের দাম কমে গেছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ জুন ২০১৬, ১৯:৩৩আপডেট : ০৪ জুন ২০১৬, ১৯:৪২

সিইসি মানুষের জীবনের দাম এখন সব থেকে কম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মানুষের জীবনের দাম ছাড়া এখন সব জিনিসের দাম বাড়ছে।  সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ষষ্ঠধাপের ভোট শেষে শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।


সাম্প্রতিক হত্যকাণ্ডের জন্য মানুষের অসহিষ্ণুতাকে দায়ী করে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনে করেন তাকে যেকোনও উপায়েই জিততে হবে। এই জয়ী হওয়ার প্রবণতার কারণে এত প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার সবচেয়ে বড় কারণ আমাদের বর্তমান সমাজের অস্থিরতা। যেটা সমাজের সর্বস্তরে পরিলক্ষিত হচ্ছে। সামান্য কারণে ছোট বাচ্চাদের আছড়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। মোবাইল ফোন চুরির অপরাধে পিটিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে। আমাদের সামাজিক এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।
নির্বাচনে হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কার—এমন প্রশ্নের জবাব সরাসরি এড়িয়ে যান সিইসি। তিনি বলেন, এটা একটা সামাজিক ব্যাপার। সমাজে সংস্কার আনতে হবে। মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে, যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়াই ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারব।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নির্বাচনি সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় দুঃখ  প্রকাশ করে বলেন, আমরা চাইনি এত প্রাণহানি হোক। কিন্তু  হাজার-হাজার ভোটারের জীবনের নিরাপত্তা, নির্বাচনি মালামাল ও নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচানো আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছিল। এ জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রার্থীদের কর্মীদের মধ্যে মারামারি ও যেকোনওভাবে জয়ী হওয়ার প্রবণতার কারণে প্রাণহানি ঘটেছে। তবে গুটিকয়েক মারামারি ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে কমিশন সন্তুষ্ট কিনা—জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এটা সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হলো সব থেকে ভালোভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা। আমরা সেটা করেছি।

এর আগে লিখিত বক্তব্যে সিইসি দাবি করেন, কয়েকটি অনিয়ম ও সংঘাত ছাড়া সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ম ধাপের ভোটের সময় ৩ জন মানুষ মারা গেছেন বলে তিনি জানান। এছাড়া অনিয়মের কারণে ৩৬টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটের আগের রাতে সিল মারা বন্ধ করাকে কমিশনের সফলতা দাবি করে সিইসি বলেন, এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই ভোটের আগের রাতে কেন্দ্র দখল করে দুষ্কৃতকারী কর্তৃক ব্যালটে সিল মারা বন্ধ করার জন্য কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। কঠোর নির্দেশ ও কার্যকরি পদক্ষেপের কারণে এ অপসংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। ৫ম ধাপে একটিমাত্র কেন্দ্রে ভোটের আগের রাতে সিল মারার ঘটনা ঘটলেও ষষ্ঠধাপে কোথাও এ ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়তে পারেন: ইউপি নির্বাচনের শেষ ধাপেও ঝরে গেলো তিন প্রাণ

দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সিইসি জানান, যখন যেখানে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং যারাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি, নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি, প্রত্যাহার ও বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এমপির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকালে অনিয়ম ও আচরণবিধি ভঙ্গের অপরাধে ৫০০ জনকে ১২ কোটি ৮৫ লাখ ৯০০ টাকা জরিমানা ও ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে সিইসি জানান।

ব্রিফিংকালে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, শাহ নেওয়াজ ও নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ই্এইচএস/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম