দ্বিতীয় দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালত নমনীয়, পরিবহন চালকরা আতঙ্কে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪২, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৩, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিসি’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযাননতুন সড়ক আইন কার্যকর হওয়ার ১৭ দিন পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে নামা বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের দ্বিতীয় দিন ছিল আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর)। রাজধানীর সড়কগুলোতে নামা এমন ৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালত এখনও নমনীয় অবস্থানেই রয়েছেন। নতুন আইনে আগের আইন থেকে জরিমানার পরিমাণ বেশি হলেও আপাতত সর্বনিম্ন পর্যায়ে জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ের আদালত ৮-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া তাজনীন। তবে মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সরেজমিন দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার পরে সেখানে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই থামানো হয় গাবতলী লিংকের একটি যাত্রীবোঝাই বাস। এ সময় চালক কাগজপত্র নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আসেন। ম্যাজিস্ট্রেট দেখতে পান তার লাইসেন্স হালকা যানের এবং গাড়িতে অতিরিক্ত ৪টি আসন যুক্ত করা হয়েছে, যার অনুমোদন নেই। এরপর চালকের নির্দেশে বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়।

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে বিআরটিসি’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একটি বাসকে থামানোর নির্দেশ দিচ্ছে পুলিশ।

যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হলো কেন জানতে চাইলে চালক জানান, ‘মোবাইল কোর্ট কাগজপত্র ধরছে, এখানে সময় লাগবে। যাত্রীরা তো এতক্ষণ বসে থাকবে না, তাই নেমে যেতে বলছি। গাবতলী লিংকের এই বাসটিকে পরে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় এক যাত্রীর কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজটি অত্যন্ত জরুরি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই কার্যক্রম আরও বেশি করে করা উচিত। বেশি করে না ধরলে কেউ সোজা হবে না কোনোদিন।

এরপর ধরা হয় একজন রাইড শেয়ারের এক মোটরসাইকেল চালককে। তার কাছে লাইসেন্স দেখতে চাইলে তিনি একটি শিক্ষানবিশ লাইসেন্স বের করে দেখান। এক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের ভাষ্য ছিল, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি তখনই চালাতে পারবেন যখন পরীক্ষা দেওয়ার পর উত্তীর্ণ সিল লাইসেন্সে থাকবে। এক্ষেত্রে পরীক্ষার আগে এই কাগজকে লাইসেন্স হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এ সময় মোটরসাইকেল চালক আকুতি জানান জরিমানা মওকুফ করার জন্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে বলেন, লাইসেন্সের জরিমানা নতুন আইনে ২৫ হাজার। আমি আপনাকে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা জরিমানা করছি।

রকিবুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার ছেলে ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। তাকে কলেজে দিয়ে আসার জন্য হোন্ডা (মোটরসাইকেল) বের করছি। আমি লার্নার লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো যায় না জানতাম না। অনেক কষ্টে ৯ হাজার টাকা জোগাড় করে লাইসেন্স করতে দিয়েছি। দুইদিন পর পরীক্ষার ডেট। বাইক চারিয়ে মাত্র ২০০ টাকা আয় হয়েছে সকাল থেকে। আমার কাছে জরিমানা দেওয়ার মতো টাকা নেই। এ সময় কথা বলতে বলতে তিনি কেঁদে ফেলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

পরে ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ তার জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি তাকে আগামীকাল (বুধবার) পরীক্ষা দিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় তার বেঞ্চ সহকারীকে বলে দেন সংশ্লিষ্ট মোটরযান পরিদর্শককে ফোন করে জানিয়ে দিতে এই ব্যক্তির পরীক্ষা আগামীকালই নেওয়ার জন্য।  

অভিযানকালে ফার্মগেট থেকে মোহাম্মদপুর রুটের কয়েকটি লেগুনা ধরা হয়। তবে তাদের কাগজপত্র ঠিক পাওয়া যায়। একটি লেগুনার চালক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, তার গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় তাকে জরিমানা করা হয়নি। তবে গাড়ির রঙ নিয়ে আপত্তি করেছেন আদালত। সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট।

এছাড়া সদরঘাট থেকে চিড়িয়াখানা রুটের তানজিল পরিবহনকে করা হয় ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা। এই গাড়ির নামে দুটি মামলা ছিল, তারও তারিখ পেরিয়ে গেছে। তবু এগুলোর সমাধান না করায় পরিবহনটিকে জরিমানা করা হয়। গাড়ির সহকারী জানান, ‘কাগজ দুইটার ডেট ফেল হওয়ায় জরিমানা করছে আড়াই হাজার টাকা। সকাল থেকে ট্রিপ দিয়ে অল্প কয়টা টাকা কামাই হইছে। কাগজে তো মাত্র ৪ দিন ডেট ফেল।’  

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

এ সময় একটি বিআরটিসি বাসও ধরা হয়। বাসের চালকের লাইসেন্স জব্দ করে মামলা দেওয়া ছিল আগেই। সেই জরিমানা তিনি দিয়েছেন কিন্তু লাইসেন্স ফেরত নিয়ে আসেননি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ সময় লাইসেন্স ছাড়া তাকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করেন এবং তার বাস ডিপোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেন।

পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর কার্যালয়ের আদালত ৮-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ সাদিয়া তাজনীন বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। আগে যে পরিমাণ কাগজপত্রবিহীন গাড়ি পেতাম সে পরিমাণ এখন আর পাচ্ছি না। নতুন সড়ক আইন বাস্তবায়নে আমরা ধীরে ধীরে বেশি জরিমানার দিকে যাবো। আপাতত মানুষকে সচেতন করার জন্য আমরা সর্বনিম্ন পর্যায়ে জরিমানা করছি।

বিআরটিএ’র পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) একেএম মাসুদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, নতুন সড়কে আইনে বাসচালকদের লাইসেন্স, ফিটনেসসহ নানান অনিয়মের দায়ে দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর সাতটি স্পটে ৭৯টি মামলা ও ১ লাখ ১৯ হাজার দুইশ’ টাকা জরিমানা করেছে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

/এসও/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ