‘নির্যাতনের বাইরে থাকা নারীরাও লকডাউনে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৬ মে ২০২০, ১৭:৪০আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ১৭:৫৪

 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

করোনা পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসে দেশে ৪ হাজার ২৪৯ জন নারী এবং ৪৫৬টি শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে এক হাজার ৬৭২ জন নারী ও ৪২৪টি শিশু আগে কখনও নির্যাতনের শিকার হয়নি। শিশুদের মধ্যে শতকরা ৯২ জন তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।  সংগঠনটি জানায়, লকডাউন পরিস্থিতিতে যে নারী আগে কখনও পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়নি, সেও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

বুধবার (৬ মে) সকালে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে জরিপের এসব তথ্য তুলে ধরে এমজেএফ।

সংবাদ সম্মেলনে এমজেএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়,  করোনাজনিত লকডাউন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা কেমন আছে, তা জানতে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) তার ২৭টি কর্ম এলাকার নারী ও শিশুদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। এমজেএফের দুইটি প্রকল্পের ২৪টি সহযোগী সংগঠন ২৭টি জেলার ৫৮ উপজেলার ৬০২টি গ্রাম ও ৪টি সিটি করপোরেশনের ১৭ হাজার ২০৩ জন নারী ও শিশুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে এপ্রিল মাসে সংঘটিত সহিংসতা ও নির্যাতনের এই ভয়াবহ তথ্য উদ্ঘাটন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ‘লকডাউনের সময় টেলিফোনের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের কাছ থেকে পারিবারিক সহিংসতার তথ্য সংগ্রহ সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জিং ও কষ্টসাধ্য ছিল। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, স্বামীর হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮৪৮ জন  নারী। মানসিক নির্যাতনের শিকার ২ হাজার ৮ জন, যৌন নির্যাতনের শিকার ৮৫ জন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ হাজার ৩০৮ জন নারী। এর বাইরে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪ জন,হত্যা করা হয়েছে এক জনকে এবং যৌন হয়রানি করা হয়েছে ২০ জন নারীকে।’ 

তিনি আরও  বলেন,  ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে যে নারী আগে কখনও পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়নি, সেও সহিংসতার শিকার হচ্ছে।’

এমজেএফ জানায়,  উত্তরদাতা ৪ হাজার ২৪৯ শিশুর মধ্যে ৪২৪টি শিশু পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে বাল্যবিয়ে হয়েছে ৩৩টি এবং অন্যান্য সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। ১৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৬ জনকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়, অপহৃত  হয়েছে ২ জন, যৌন হয়রানির শিকার ১০ জন। ধর্ষণের শিকার ১৪ জনের মধ্যে রিলিফ নেওয়ার সময় ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়, যে হেল্প লাইনগুলো নারীদের সহিংসতা বন্ধে সহায়তা করে থাকে, যেমন— নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে-১০৯ ও পুলিশের সহায়তা জন্য-৯৯৯, সেগুলো আরও  কার্যকর রাখা, যেন সহিংসতার শিকার নারীরা ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সহায়তা পেয়ে যায়। অনেক নারীকে সহিংসতার কারণে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে হচ্ছে বা বের করে দেওয়া হচ্ছে, সেক্ষেত্রে সেই নারীর আশ্রয় প্রয়োজন। তাই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নারীরা যাতে আশ্রয় পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে বা ফোন করে আশ্রয় পাচ্ছে না। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং করোনা পরিস্থিতিতেও নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অর্ডিন্যান্স’ দ্রুত মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়।

এমজেএফের সিনিয়র মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর শাহানা হুদার সঞ্চালনায় সংবাদ-সম্মেলনে সহযোগী সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এসও/ এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আসামি ধরতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই পুলিশ সদস্য
আসামি ধরতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই পুলিশ সদস্য
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি প্রাঙ্গণে আবার চালু হলো ‘টাউন সাব-পোস্ট অফিস’
প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়ি প্রাঙ্গণে আবার চালু হলো ‘টাউন সাব-পোস্ট অফিস’
ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ
সর্বাধিক পঠিত
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
‘শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’
‘শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’
ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋতুপর্ণার বাড়ি নির্মাণে আর্থিক অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে করছাড়
প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে করছাড়