বিএনপি কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৫৮, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০২, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি চলছে হাইকোর্টে। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অবস্থান নিয়েছে দলটির কার্যালয়ের নিচে। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় বিএনপির কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের আনাগোনা অনেকটা কম। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কার্যালয়ে আসেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর সাড়ে ১০ টার দিকে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২০ জনের মতো নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ে ঢোকেন। অন্যদিকে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সকাল থেকে সর্তক অবস্থান রয়েছে পুলিশের শতাধিক সদস্যের একটি দল।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আদালতে ন্যায়বিচার পেলে খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলে আমরা আশা করি। কারণ তিনি নির্দোষ। মিথ্যা ও সাজানো মামলায় তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী।’
এদিকে বিএনপির কার্যালয়ের নিচে দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণত মানুষকে অবস্থান না নিতে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সর্তক করতে দেখা গেছে। মতিঝিল জোনের এডিসি এনামুল হক মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশ। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আজ আপিল বিভাগে তার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ২৫ নভেম্বর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন পূর্ণাঙ্গ শুনানি গ্রহণের ইচ্ছে পোষণ করে আদেশের জন্য ২৮ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। ২৮ নভেম্বর আংশিক শুনানি গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে রিপোর্ট জানতে চান আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে আপিল জামিন আবেদনের ওপর শুনানি চলছে। এর আগে এ মামলায় গত ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন। পরে ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। এই আপিলের শুনানি নিয়ে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়ে মামলার কার্যক্রম বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল আদালত।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ এপ্রিল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত এবং সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাবস্থা দিয়ে ২ মাসের মধ্যে মামলার নথি তলব করেছিলেন। এরপর ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।
২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু

/এএইচআর/ওআর/

লাইভ

টপ