সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের সহযোগিতা করেননি মহানগর ও স্থানীয় নেতারা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২৩:৫৩, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ফল মূল্যায়ন করতে দলীয় সভা করে বিএনপি। বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সদ্য অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারা দাবি করেছেন, নির্বাচনের সময় ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সহযোগিতা পাননি। আর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে নির্বাচন করেছেন। এই কারণে দল সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেনি। 

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন পরবর্তী ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২০২০ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা’য় এসে এসব কাউন্সিলর প্রার্থীরা মহানগর ও স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এমন দোষারোপ করেন। সভায় উপস্থিত সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানান,সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি কাউন্সিলর প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কারও নাম না নিয়ে যার যে অভিযোগ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে লিখিত থাকলে জমা দিয়ে যাবেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৩ নং ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন সরকার বলেন, সিটি নির্বাচনের সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু নির্বাচনে আমি ঢাকা নেতৃবৃন্দের কোনও সহযোগিতা পাইনি। শুধুমাত্র আমার নেতা মির্জা আব্বাস সহযোগিতা করেছেন।

সভায় বক্তব্য রাখেন দলীয় নেতা ইকবাল মাহমুদ টুকু।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের একটি অংশ নির্বাচনে দলের একজনকে বিদ্রোহী প্রার্থী করে রেখেছিল। কার ইন্ধনে তিনি প্রার্থী হলেন এটা খুঁজে বের করতে হবে। তার কারণে আমার পরাজয় হয়েছে। আমি অভিযোগ দিয়ে গেলাম, আপনারা এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।  

সভায় দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ৫৬ ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নাইম বলেন, এই ওয়ার্ডের দলের সভাপতি আমাকে কোনও সহযোগিতা করেননি। তিনি নিজেই একজন বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ হলেও এই নির্বাচনে আমাকে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে।   

ঢাকা দক্ষিণের ৫৪ ওয়ার্ডের বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এই ওয়ার্ডে বিএনপির কোনও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল না। প্রচারণার সময় সাধারণ মানুষ বলেছে, আমরা বিএনপিকে ভোট দেবো। কিন্তু, আপনার রক্ষা করতে পারবেন কিনা। কিন্তু ভোটের দিন ২টা পর্যন্ত সবকিছু আমার পক্ষেই ছিল। কিন্তু, দুটার পরে সব চুরি করে নিয়ে গেছে। আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কারণে তা প্রতিরোধ করতে পারিনি।

দলটির ৭৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল হান্নান খান বলেন, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। তা দূর করা না হলে এই সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী হবে না। এই ওয়ার্ডের বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে চলে। এখানে আওয়ামী লীগের তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। আর আমাদের নেতাকর্মীরা তিন ভাগে ভাগ হয়ে দিনের বেলায় তাদের প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। আর রাতে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে।

মত বিনিময় সভায় অতিথিরা

লালবাগ থানার আওতাধীন ২৪ নং ওয়ার্ডে বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন মো. মোশাররফ হোসেন খোকন। তিনি সভায় বলেন, বিএনপির আর নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ নির্বাচনের ফল আগে থেকে তৈরি থাকে। এবারও সিটি নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের সুবিধামত একটা রেজাল্ট ঘোষণা হয়েছে মাত্র।

সভায় খোকন আরও বলেন, ৪ মাস জেলে ছিলাম। আমি জানি জেলে থাকা কত কষ্টের। আর আজ ২ বছর আমাদের নেত্রী জেলে রয়েছেন। তাকে মুক্ত না পারা আমাদের ব্যর্থতা। গত ১৫ ধরে বছর লালবাগ থানা ওয়ার্ডের কমিটি নেই। এভাবে চলতে থাকলে সংগঠন কখনও শক্তিশালী হবে না। আমরাও দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে পারবো না।

তাদের মতো ৫১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আলিম আল বারী জুয়েল, ৭০, ৭১,৭২, ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর কাজী রায়মা সুলতানা, ২৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মীর আশরাফ আলী আজম সবারই অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের দলের অনেক নেতা টাকা নিয়েও নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেয়নি। অনেক ওয়ার্ডের নেতারা দলের মেয়র প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালালোও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেনি। উল্টো আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছে।

মত বিনিময় সভায় অভিযোগ তোলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের অভিযোগগুলো ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাদের অভিযোগগুলো আমরা রেকর্ড নিয়েছি। তারা অনেকে লিখিত অভিযোগও করেছেন। এখন এসব অভিযোগ নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে উপস্থিত দুই নেতা জানান, কাউন্সিলর প্রার্থীরা যেমন মহানগর বিএনপি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অসহযোগিতার কথা বলেছেন,তেমনি কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পক্ষে কাজ না করার অভিযোগ আছে। কোনও কোনও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজের জয় নিশ্চিত করতেও চেয়েছেন এমন অভিযোগ আছে।

সভায় ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে নির্বাচনকারী ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে আমি গিয়েছি। কিছু কিছু ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের জীবনবাজি রেখে নির্বাচন করার চেষ্টা করেছেন। আবার কোথাও-কোথাও নির্বাচনের দিন কাউন্সিলর প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ জীবনবাজি রাখবেন আর কেউ ঘুমিয়ে থাকবেন তা হয় না। এসব বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

/এএইচআর/এপিএইচ/টিএন/

লাইভ

টপ