X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

নয় ভারত, নয় পাকিস্তান, আমরা বাংলাদেশ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ১৭:০২

পাকিস্তান মূলত একটি কেন্দ্রশাসিত রাষ্ট্র। একমাত্র পাঞ্জাব ছাড়া সেখানে আর কোনও প্রদেশের কথা বলার ক্ষমতা রয়েছে বলে কেউ বিশ্বাস করেন না। পাঞ্জাবের পক্ষে পাকিস্তানে গলা তোলা সম্ভব। কারণ, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মূলত পাঞ্জাব-নিয়ন্ত্রিত। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরে পাঞ্জাবের বাইরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সেনাপ্রধানের পদ গ্রহণ করতে পেরেছেন হাতে গোনা দু-একজন মাত্র। কিন্তু তারা বেশি দিন স্বপদে কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান হলেও বেশি দিন রাজত্ব করতে পেরেছেন বলে নজির নেই। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি আসলে কোথায়? পাকিস্তানে বারবার সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় এলেও, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের বেশিরভাগটাই সেনা শাসন থাকলেও পাকিস্তানের সেনা শাসকরা সেখানে কোনও রাজনৈতিক লিগেসি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনী করলেও সেখানে সেনা তত্ত্বাবধানে এবং রাষ্ট্রের অর্থায়নে কোনও রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছেন পাকিস্তানের সেনা শাসকবর্গ। এখনও সে দেশে রাজনীতি আপাতভাবে এবং দৃশ্যত যেসব রাজনৈতিক দলের হাতে তারা হয় সেনাসমর্থিত নয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী সমর্থিত, এর বাইরে দ্বিতীয় কোনও অবস্থান কারও নেই। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেও যেটি ইতিবাচক তা হলো, পাকিস্তানের কোনও সেনা শাসকই নিজে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারেননি বা করেননি। কিংবা কোনোভাবেই পাকিস্তানের ইতিহাসে নিজের অবস্থানকে ‘গ্লোরিফাই’ করার চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণ নেই। হ্যাঁ পাকিস্তানে একটি সামরিক-ইতিহাস আছে বটে এবং তা শিশুকাল থেকে সবাইকে পড়তে বাধ্যও করা হয়, যা মূলত ভারতবিদ্বেষী এবং পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। যদিও, ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের দায়িত্বভার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তারপর থেকে এই ক্ষমতা গ্রহণ চলছেই এবং যে কোনোদিন আমরা আবার শুনতে পাবো যে, জাতির বৃহত্তর স্বার্থরক্ষায় পাকিস্তানে সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিংবা এখনও যে ক্রিকেটার ভদ্রলোক পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন তার রাজনীতি এবং তার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলটিও সেনা ও ধর্মবাদীদের যুগপৎ পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত এবং পরিচালিত হয়ে আসছে।

অপরদিকে বাংলাদেশে আমরা কী দেখেছি? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করলেও শত বিভক্তি, বাধা এবং ৯১ হাজার সশস্ত্র বাহিনীকে মোকাবিলা করে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিরোধিতা এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে সেটা সামাল দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল ক্রমশ। তারপরও তিনি দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন যেকথা আগেই বলেছি। কিন্তু সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার আগেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড নিছক একটি রক্তকাণ্ড ছিল না, ছিল ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্র। যতই আজকে সমস্বরে বলা হোক না কেন যে সে সময়কার কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এটাই তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। এবং এই উদ্দেশ্য আরও প্রমাণিত হয় জেলহত্যার ভেতর দিয়ে। জাতীয় চার নেতাকে জেলের ভেতর হত্যা করে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা দেখতে পাই, তার সঙ্গে পূর্ববর্তী চার বছরের বাংলাদেশের কোনোই মিল নেই। আজকে স্বঘোষিত ইতিহাস লেখকগণ বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস রচনা করা শুরু করেছেন, একদিন হয়তো আমরা এই বয়ানকেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেখবো, এই সত্যও হয়তো তারা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলবেন যে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। গত পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশের উন্নতি-অগ্রগতি যতটুকুই হয়েছে, গত পঞ্চাশ বছরে আমরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক-ঐতিহাসিক ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে পিছিয়েছিও অনেকটাই।

এই পেছানোর পেছনে মূল কারণগুলো কী কী? স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সেসব কারণও বিশ্লেষিত হওয়া দরকার। না হলে আগামী পঞ্চাশ বছর এই পেছন দিকে হাঁটার কষ্টটাও আমাদের বয়ে বেড়াতেই হবে।

যে কথা একটু আগেই বলেছি, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ও মৌলিক পার্থক্য হলো পাকিস্তানে কোনও সেনাশাসক সেনাবাহিনীকে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ খরচ করে কোনও রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেননি বা করেননি। সে দেশেও দল ভাঙিয়ে রাজনীতিবিদদের কেনাবেচা হয়েছে দেদার, সেই ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান যেমন সেটা করেছিলেন তেমনই সর্বশেষ জেনারেল পারভেজ মোশাররফও সেটা করেছেন কিন্তু কেউই রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি। কিন্তু বাংলাদেশে দুই জন জেনারেল রক্তপাতের মাধ্যমে বন্দুকের নলের মুখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা ছিনতাই করেই ক্ষান্ত হননি; বাংলাদেশে দুই দু’টি রাজনৈতিক দল গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের মৌলিক যে ক্ষতি তা এই রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার হলো, পাকিস্তান সৃষ্টিলগ্নে যারা ভারত থেকে পাকিস্তানে গিয়ে বসবাস করে তাদের এখনও ‘মোহাজের’ বা শরণার্থী হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং সাধারণভাবে এই গোষ্ঠীটিকে ভারতের প্রতি দুর্বল হিসেবে ধরা হয়, মূলত সিন্ধু প্রদেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য যে রাজনৈতিক দলটি গঠন করা হয়েছিল তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসকশ্রেণি ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনে এবং তারা দেশের ভেতর সেই অর্থে জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত এই মোহাজের বা শরণার্থীদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব লন্ডনে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং সেখান থেকেই দলটি পরিচালনা করে চলেছেন, এটা খুব বেশি কার্যকর কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সাধারণ পাকিস্তানিদের এদের সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উত্তরে যে কথাটি প্রায় সকলেই সমস্বরে বলে থাকেন তা হলো, এরা ‘গাদ্দার’ বা বিশ্বাসঘাতক, এরা পাকিস্তানকে আবার ভাঙতে চায়, ফলে এদের পাকিস্তানের মাটিতে থাকতে দেওয়া যাবে না। অথচ ১৯৭১ সালে যারা স্বাধীন বাংলাদেশের বিরোধিতা করেই কেবল ক্ষান্ত হয়নি, যারা অকাতরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা এবং বাঙালি নারীকে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে ধর্ষণের জন্য সেই জামায়াতে ইসলামী ও তার নেতৃবৃন্দকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ফিরিয়ে এনে এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এখন গা বাঁচাতে ধুয়া তোলা হয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের। অথচ সাংবিধানিকভাবে এ দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। কই সংবিধানকে রক্ষা করার কথাতো কেউ বলে না কখনও? বরং সংবিধানের চার মূলনীতিকে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক সেনাশাসক বিসর্জন দিয়েছেন, আরেকজন বাংলাদেশকে সাংবিধানিকভাবে ইসলামিক রাষ্ট্র হিসেবে নামজারি করেছেন। পাকিস্তানে কিন্তু এরকম ভয়ংকর ঘটনা ঘটেনি, সেখানে রাষ্ট্রদ্রোহী না হয়েও মোহাজের গোষ্ঠীর রাজনীতি করার সম্ভবপর হয়নি, আর এখানে রাষ্ট্রবিরোধী হয়েও স্বাধীনতার মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় এসে রাষ্ট্রক্ষমতার ভাগ পাওয়া যায়, ত্রিশ বছরের মাথায় এসে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসা যায়। এই ভয়ংকর ও বাস্তব সত্যকে আমরা অস্বীকার করতে পারি কি? পারি না।

বাংলাদেশ উন্নয়ন-বাস্তবতায় পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং যাচ্ছে নানাবিধ সূচকে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোকে সেনা-আমলাদের মিলিত অক্ষশক্তির নির্দেশিত পথে হাঁটতে হয় সারাক্ষণ। ফলে তারা সেনা-আমলাদের স্বার্থরক্ষার বাইরে গিয়ে কখনও দাঁড়াতে পারেন না। চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ রশি টানাটানির ভেতর পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি একটি গভীর খাদের দিকে পতনোন্মুখ। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মরাষ্ট্রগুলোর প্রভাবও পাকিস্তানকে একটি জ্যান্ত ধর্ম-বোমায় পরিণত করেছে। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানি যুবগোষ্ঠীর পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো সন্ত্রাসী হিসেবে। এই যে পাকিস্তানের এত নেতিবাচক ও নিম্নগামী পদযাত্রা, এর তো নিঃসন্দেহে কারণ রয়েছে কোনও, তাই না? নিবন্ধের ছোট্ট পরিসরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ কম কিন্তু দু’এক কথায় বলতে গেলে এ কথা আমাদের বলতেই হবে যে, পাকিস্তানে সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল সৃষ্টি না করলেও সেনাসমর্থন ও সেনা-নিয়ন্ত্রণ দু’টোই সমানভাবে রাজনীতিতে বলবৎ থাকায় পাকিস্তানের পক্ষে একটি উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গঠন কিংবা গরিষ্ঠসংখ্যক জনগণের জন্য কল্যাণকর কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ফলে পাকিস্তানের যতটুকুই উন্নতি হয়েছে সবটাই আসলে ঘটেছে কতিপয় তথা সেনা-আমলাতন্ত্রের হিতার্থে। গরিষ্ঠকে অবহেলিত, নিগৃহীত, বঞ্চিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত রেখে কোনও রাষ্ট্রই সার্বিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে না, সম্ভব হয় না, পাকিস্তানও তাই এখন বারবার বাংলাদেশ হতে চায় কিন্তু সেটা ততদিন সম্ভব হবে না, যতদিন না পাকিস্তানের রাজনীতির ওপর থেকে সেনা-আমলাদের নগ্ন থাবা সরানো সম্ভব হবে।

খানিক আগেই বলেছি যে, পাকিস্তানে জনগণকে আসলে অক্ষম করে রাখা হয়েছে, জনগণ এখন সেখানে কেবল আহাজারিই করতে পারে। বাংলাদেশেও সেই চেষ্টা শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালের পর থেকে। একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলকে এ দেশের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো প্রথমেই। দীর্ঘ পাঁচ বছর গেলো কেবল রাজনীতি শুরু করতেই। ততদিনে সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে, তাকে রাজনীতি করতে হলো স্বৈরাচারী শাসকের হাতে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে, সেনাসদরে গঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, যার সঙ্গী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস। ততদিনে বাংলাদেশের উদার বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নীতি-নির্ধারণে আর কিবলা নির্ধারণ করতে গিয়ে শক্তিক্ষয় করে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের ‘অ্যালাই’ বা মিত্র বলতে আসলে যা বোঝায় সেটা ছিল না। আর সে কারণে দীর্ঘ একুশ বছর দলটিকে আসলে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য রাজপথে থাকতে হয়েছে, কালোটাকা, পেশিশক্তির সঙ্গে যুঝতে হয়েছে, ক্ষেত্রবিশেষে করতে হয়েছে আপস। এমনকি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ১৯৯৬ সালে এসে আওয়ামী লীগকে নির্ভর করতে হয়েছে আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এবং ব্যবসায়ীদের ওপরও। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মতোই বাংলাদেশেও রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ইত্যাদির স্থায়ী ক্ষতি সম্পন্ন হয়েছে এদেশে দু’দু’টি সামরিক শাসন এবং দুই সামরিক শাসকের হাতে সৃষ্ট রাজনৈতিক দলের হাত দিয়ে। আজকের গবেষকদের অনেকেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন নব্বইয়ের দশক থেকে কিন্তু ১৯৯৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত যে সময়কালটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলো, তারা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে সে বিষয়ে নীরব থাকেন নয় গায়ের জোরে এই সময়কালটা এড়িয়ে যান। ১৯৯১ সালে এসে আমরা যে বাংলাদেশকে দেখতে পাই তা সম্পূর্ণ এক ভিন্ন বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে জনগণকে পাকিস্তানের মতোই অক্ষম করে তোলা হয়েছিল তখন এবং সেটি সফলভাবে করতে সক্ষম হয়েছিল এ দেশের সেনা-আমলাচক্র প্রথমত সপরিবারে বঙ্গবন্ধু ও জেলের ভেতর জাতীয় নেতাদের হত্যা করে; দ্বিতীয়ত, জেনারেল জিয়াকে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করার মাধ্যমে এবং তারপর থেকে ক্রমাগতভাবে এই সামরিক-শক্তির দাবিদার রাজনীতি আর কাউকে নয় কেবল আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকেই তাদের শত্রু জ্ঞান করে এসেছে এবং এই দু’টি পক্ষকে শেষ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছে। এতে হত্যা, খুন, গুম এবং ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির যে ধারাবাহিকতা আমরা দেখতে পাই তার সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে চরম মিল এবং এভাবেই জনগণকে আসলে রাজনীতি থেকে সরিয়ে ফেলার কাজটি সমাধা হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনোভাবেই নতুন করে সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বা দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। পঞ্চাশ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাসে জনগণের এই ঘুরে দাঁড়াতে না পারার অক্ষমতাকে আমাদের মূল্যায়নে নিতেই হবে এবং একে পরাজয় হিসেবেই দেখতে হবে। না হলে পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে আলোচনাটা নিশ্চিতভাবেই অর্থহীন হয়ে যাবে।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি

[email protected]

প্রথম পর্ব: বঙ্গবন্ধু ১০০ বাংলাদেশ ৫০

/এসএএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

সালাউদ্দিনের স্মৃতিতে

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২১, ২৩:০৬

মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাক হানাদার বাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে একদল বীর বাঙালি। আরেকটি দল ছিল, যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ না করলেও মাঠে ফুটবল খেলে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। যারা স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নামেই পরিচিত। ভারতের বিভিন্ন শহরে ফুটবল খেলে জনমত গড়ে অর্থ সংগ্রহ করেছে দলটি। যুদ্ধের সময় জাকারিয়া পিন্টু-কাজী সালাউদ্দিন-নওশেরুজ্জামানদের কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি। কোনও সময় আধপেটা থাকতে হয়েছে, কখনোবা ঘুমানোর জায়গাও ঠিকমতো জোটেনি!

তারপরও তাদের দমানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন মাতৃভূমির জন্য। আর সেই দলটির সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন কাজী সালাউদ্দিন। মাত্র সাড়ে ১৬ বছর বয়সে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন অন্যদের সঙ্গে। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত দলটির সঙ্গে থেকে বিভিন্ন শহরে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছেন। লাল-সবুজ পতাকার জন্য গড়েছেন জনমত।

দেশের জন্য ফুটবল খেলে লড়াই করতে যাচ্ছেন, তাই ধরেই নিয়েছিলেন সামনে বিপদসংকুল রাস্তা অপেক্ষায়মান। আর পরতে পরতে সেই বাধা অতিক্রমও করে গেছেন।

সেই দিনগুলো মনে পড়লে এখনও নস্টালজিক হয়ে পড়েন দেশের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিই। পেছনে ফিরে আর তাকাইনি। জানি এই লড়াই-সংগ্রামে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। তারপরও পিছপা হইনি। লক্ষ্য ছিল, যেভাবেই হোক দেশকে স্বাধীন করতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে হবে। সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

সাড়ে ৮ মাসব্যাপী ফুটবল খেলে নানান সময় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সালাউদ্দিন সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন এভাবে, ‘আমাদের এমনও দিন গেছে আধপেটা খেয়ে থাকতে হয়েছে। দেখা গেছে খাবার সংকট। তাই আমরা বেশি সময় ধরে অনুশীলন করে গেছি। যেন একবেলা না খেতে হয়। এমন সময় কেটেছে আমাদের একাধিক দিন। তারপরও আমরা ভেঙে পড়িনি।’

খাবারের পাশাপাশি আবাসন সংকটও ছিল তীব্র। একটা বাসার মধ্যে পুরো দল থেকেছে। সেখানেই রান্না-বান্না। বলতে গেলে দুর্বিষহ জীবন কেটেছে। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘এক বাসাতে যদি ৩০ জন থাকে, ঘুমায়, বাথরুম একটি, তাহলে বুঝে নিন কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা মুখ বুঝে মেনে নিয়েছি। কারণ তো সেই একটাই— দেশকে যে করেই হোক স্বাধীন করতে হবে।’

একপর্যায়ে দেশ স্বাধীন হলো। যে যার মতো দেশে ফিরে এলো। কলকাতা থেকে তখন অন্যদের মতো অনেক কষ্টে ঢাকায় এসেছিলেন সালাউদ্দিন। ধানমন্ডির বাসায় তখন তাকে দেখে অন্যরা চিনতেই পারেনি! সেই সাড়ে ১৬ বছরের তরুণ সালাউদ্দিন এখন সাফ ও বাফুফের সভাপতি হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে আছেন। মাঝে স্বাধীনতার পরে তারকা খেলোয়াড় কিংবা কোচ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম সুপারস্টার বললে তার নামই সবার আগে চলে আসে।

তবে সেজন্য স্বাধীন দেশকেই সামনে আনছেন সবার আগে, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেই আমি আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তা না হলে তো আসতে পারতাম না।’

 

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

ভয় নয়, জয়ের উৎসব গণিতের

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

একটি ট্রফির জন্য দেশের ফুটবলে হাহাকার! সেই ২০০৩ সালে সাফ ফুটবলে ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ, এরপর থেকে ট্রফি যেন ‘সোনার হরিণ’! সাফ কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অথবা হালের নেপালে তিন জাতির ফুটবল প্রতিযোগিতা- কোনোটিতেই ট্রফি ছুঁতে পারেনি লাল-সবুজের সেনানিরা। শুধু কী তাই! স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে হাতে গোনা চারটি সাফল্য ফুটবলে বড় অর্জন হিসেবে সঙ্গী।

স্বাধীনতার আগ থেকেই ফুটবল ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। স্বাধীন হওয়ার পর ফুটবলে জনপ্রিয়তা যেন নতুন রূপে মাত্রা পায়। ৭০, ৮০ ও ৯০ দশকের ফুটবল যেন ছিল এই দেশের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। কাজী সালাউদ্দিন থেকে শুরু করে চুন্নু-আসলাম-বাদল রায়সহ তারকার অভাব ছিল না। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে একেকজন ছিলেন ভাস্বর। সেই সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইরান, থাইল্যান্ড কিংবা ভারতের সঙ্গে সমান তালে খেলার চেষ্টা করতো বাংলাদেশ। অনেক সময় সমানে সমান লড়াই হতো। কিন্তু পরিতাপের বিষয় সেই সময় যাদের খেলা দেখতে দর্শকরা মাঠে যেত, ঠিক তারাই কিনা থেকেছেন আন্তর্জাতিক ট্রফিশূন্য! পরবর্তীতে কোচ কিংবা কর্মকর্তা হয়েও অতৃপ্তি ঘোচাতে পারেননি কেউ।

’৮০ দশক থেকে সাফ গেমসের (বর্তমানে এসএ গেমস) পাশাপাশি সাফ ফুটবলের প্রচলন হয়েছে। সাফ তো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু সে সময় একাধিক প্রতিযোগিতার ফাইনালে খেললেও ট্রফি জেতা আর হয়নি। এছাড়া বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেললেও সাফল্য সেভাবে ধরা দেয়নি।

সেই আফসোস এখনও অনেকের মনে বিদ্যমান। তাদের সেই কষ্ট অবশেষে ঘুচিয়েছেন আরেক কিংবদন্তি প্রয়াত মোনেম মুন্নার নেতৃত্বের দল। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে প্রথম চার জাতি ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশে ফুটবলে প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় শিরোপা জয়।

মোনেম মুন্নার নেতৃত্বে একদল বীর সেনানি অসাধারণ খেলে স্বাগিতক মিয়ানমারকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল। অথচ গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক দলটির কাছেই হারতে হয়েছিল!

জার্মান কোচ অটো ফিস্টারের কোচিংয়ে মিয়ানমারে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরের ট্রফিও এসেছে সব বিদেশি কোচের অধীনেই।

এরপর ১৯৯৯ সালে কাঠমান্ডুতে সাফ গেমস ফুটবলে সোনা জিতে সবাইকে চমকে দেন আলফাজ-জুয়েল রানারা। সেখানেও ইরাকি কোচ সামির শাকিরের অবদান।

সেই ধারা অব্যাহত ছিল ২০০৩ সালেও। অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের অধীনে প্রথমবারের মতো ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত সাফ ফুটবলের শিরোপা জেতে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ঢাকার মাঠে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে সেই ট্রফি জয়ের পর আর সাফ ফুটবলে সাফল্য আসেনি। শুধু ২০১০ সালে এসএ গেমসে ঢাকার মাঠে এমিলি-ওয়ালিরা সোনা জিতেছিল। বর্তমানে জাতীয় দল অনেক সুযোগ-সুবিধা পেলেও সেভাবে সাফল্য আনতে পারছে না। সাফল্যের ঘর শূন্যই রয়ে গেছে। বরং এই সময়ে হারতে হয়েছে ভুটানের কাছে!

জাতীয় দলের পাশাপাশি আমাদের ক্লাব ফুটবলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং অন্য মাত্রা যোগ করেছে। এখনও দুই দলের খেলা হলে অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পড়েন। যদিও ফুটবলের সেই ক্রেজ আর নেই। মাঠে দর্শক হয় না সেভাবে। তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে দুটি দলের নাম আলাদা করেই লেখা থাকবে। ক্লাব ফুটবলে আবাহনীর পাশাপাশি মোহামেডানও দেশে ও দেশের বাইরে সম্মান কুড়িয়ে এনেছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের হাতে গড়া আবাহনী দেশের ফুটবলে অন্যরকম আবহ তৈরি করেছিল। আইরিশ কোচ উইলিয়াম বিল হার্টের অধীনে প্রথম বাংলাদেশের কোনও ক্লাব আধুনিক ফুটবল খেলতে শুরু করে। এরপর ক্লাবটি ধীরে ধীরে সমর্থকদের মনের কোঠায় জায়গা করে নেয়।

৮০’র দশকের শেষ দিকে ভারতে নাগজি কাপে আবাহনী শিরোপা জিতে ঢাকায় এসেছিল। সেটাই দেশের কোনও ক্লাবের বাইরে প্রথম ট্রফি জয়। দর্শকদের উন্মাদনা তখন ছিল দেখার মতো। এছাড়া বিটিসি কাপ, চার্মস কাপ ও বরদুলই ট্রফি জিতে নিজেদের ট্রফির শোকেস সমৃদ্ধ করেছে তারা। সবশেষ এএফসি কাপে জোনাল সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছে আকাশি-নীল জার্সিধারিরা।

অন্যদিকে এশিয়ান কাপ উইনার্স কাপের দ্বিতীয় পর্বে গিয়ে মোহামেডানও চমক দেখায়। যদিও এক যুগের বেশি সময় ধরে সাফল্যবিহীন ক্লাবটি এখনও ধুঁকছে।

ফুটবলের অতীত ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর হলেও বর্তমানে সেই আভা নেই। কাজী সালাউদ্দিনের যুগে বেঁচে থাকার জোর লড়াই চলছে ফুটবলের!

 

/টিএ/কেআর/

সম্পর্কিত

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ১০:৫০

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছে বলেই রূপকল্প-২০২১ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছরকে ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে যুক্ত করেছি। তাই আমাদের সার্বিক পরিকল্পনাটি ২০২০-২১ সালকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। সেই সময়কে কেন্দ্র করে আমাদের যাত্রাপথও চিহ্নিত করেছি।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতের অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুয়ায়ী তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে আমাদের বেশ অর্জন রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:

১. ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। 

২. থ্রি-জি মোবাইল প্রযুক্তির পর দেশে ফোর-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তৃত হয়েছে। মোবাইল প্রযুক্তিকে আরও সুরক্ষিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (আঙুলের ছাপ) সিম নিবন্ধিত হয়েছে। শিগগিরই এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপেমন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালু করে সিম ও মোবাইল সেট ব্যবস্থাপনা পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল করা হচ্ছে। 

৩. পাঁচ হাজার ৭৩৭টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২০০ ডিজিটাল ডাকঘরের মাধ্যমে জনগণকে ছয়শ’র বেশি ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 

৪. ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

৫. প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, হাওর, বিল, চর, পাহাড়ি, উপকূলীয় ও দ্বীপ এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে।

৬. দেশে ১৭ কোটির ওপরে মোবাইল সিম ব্যবহার করা হচ্ছে।  ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটিতে পৌঁছেছে।

৭. ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল ‘তথ্য বাতায়ন’ চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।

৮. সারাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের পাশাপাশি স্মার্টকার্ড প্রদান করা হয়েছে। 

৯. মেশিনরিডেবল পাসপোর্ট চালু করা হয়েছে। এরপর ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। 

১০. ডিজিটাল অপরাধ দমনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তাবিধানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটির প্রয়োগও করা হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি স্থাপিত হয়েছে। সিটিডিআর চালু হয়েছে। সার্ট চালু হয়েছে। ফরেনসিক ল্যাব চালু হয়েছে। 

১১. মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

১২. লার্নিং আর্নিং, শি পাওয়ার, হাইটেক পার্ক, বিসিসি, বিআইটিএম, এলআইসিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাখ লাখ তরুণকে ডিজিটাল যুগের উপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করা হয়েছে ও কর্মসংস্থান করা হয়েছে। 

১৩. তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মাত্র ২৬ লাখ ডলারের রফতানি এখন এক বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল শিল্প খাতকে কর সহায়তা ও নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

১৪. দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রফতানি শুরু হয়েছে। মোবাইল ফোনের বাজারের শতকরা ৮২ ভাগ দেশে উৎপাদিত হয়। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ রফতানি হয়।

১৫. ডিজিটাল-কমার্স নীতিমালা-২০১৮, জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা-২০১৮ ও জাতীয় টেলিকম নীতিমালা-২০১৮ প্রণীত হয়েছে। মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি গাইডলাইন, সিগনিফিকেন্ট মার্কেট প্লেয়ার গাইডলাইন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার গাইডলাইন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস গাইডলাইন, আইএসপিএবি গাইডলাইন প্রণীত হয়েছে। টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এ অনুসারে টাওয়ার তৈরি শুরু হয়েছে। 

১৬. ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার চালু হয়েছে। 

১৭. সি-মি-উই-৬ এর সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৪ সালে এটি চালু হবে। 

১৮. ডিজিটাল শিল্প যুগের ৫টি প্রযুক্তির কৌশলপত্র প্রণীত হয়েছে।

১৯. দেশে ৫৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু করা হয়েছে। আরও ১২ হাজার ফ্রি ওয়াইফাই জোন চালু হচ্ছে।

২০. ব্যান্ডউইথের দাম ২৮ হাজার টাকা থেকে ২৮৫ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। 

২১. ই-নথিতে সরকার ডিজিটাল পরিচালনার অসাধারণ সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বস্তুত এ অর্জনের ছোট বড় ঘটনাগুলো ছোট করে তুলে ধরতেও অনেক লম্বা সময় লেগে যাবে। প্রতি মুহূর্তে সেই তালিকাও দীর্ঘ হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

/আইএ/

সম্পর্কিত

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

কেমন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলো

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২০:২৭

‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে’ বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে বা আমাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামরিক সরকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে ছারখার করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উপলক্ষে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মুজাহিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসব করতে দিচ্ছে না, পারমিশনও দিচ্ছে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ত্রিশ লাখ শহীদের সঙ্গে অবমাননা করা হয়েছে।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমি ৫০ বছরের কথা ভাবি না, আমি মনে করি এখনই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ফেরত যেতে হবে।’

সেলিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চাই আমরা। এটা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দিয়ে হবে না। এরা লুটেরা, ধনিক শ্রেণির দল হয়ে গেছে। এর বাইরে যারা সমাজতন্ত্রমুখী চিন্তা করে, বামপন্থী দল তাদের নেতৃত্বে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটাই আমাদের কাজ।’

/এসটিএস/এমআর/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২১, ২২:২১

স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতি, আধিপত্য বিস্তার, শিক্ষা ও গবেষণায় পিছিয়ে থাকার কারণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপ করেছেন ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

বাংলা ট্টিবিউন: বাংলাদেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে ছাত্র সংগঠনের কী ভূমিকা ছিল? ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সেটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

গোলাম মোস্তফা: স্বাধীনতাসহ স্বাধীনতা পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনের উল্লেখযোগ্য ভুমিকা ছিল। মানুষের অধিকার, শিক্ষা- সবগুলো আন্দোলনে  ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ছাত্রদের আত্মদানের মধ্য দিয়েই যাবতীয় গণযুদ্ধ সম্পূর্ণ হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: স্বাধীনতার এক শ’ বছরে কী আশা করেন?

গোলাম মোস্তফা: আমাদের তরুণদের বা ছাত্রদের একটাই প্রত্যাশা। যে কারণে আমার স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছি, যে আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে, যে তিনটি মূলনীতি- সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার তা যেন ততদিনে নিশ্চিত হয়। আর সামাজিক বৈষম্য থাকবে না এমন দৃশ্যই দেখতে চাই। প্রতিষ্ঠা হবে ন্যায়বিচার। দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা।

বাংলা ট্রিবিউন: ক্যাম্পাসে রাজনীতির সংস্কৃতির পরিবর্তন আসছে কি? কী ধরনের পরিবর্তন দেখছেন?

গোলাম মোস্তফা: ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে দুটি ধারা- একটা গণতন্ত্রের পক্ষে, শিক্ষার পক্ষে, শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে। আরেকটি সরকারে সমর্থনপুষ্ট। তারা সবসময় একটা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য ছাত্রদের বিপক্ষে দাঁড়ায়। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। বিভিন্ন সরকারের পরিবর্তনে সরকার দলীয় ক্যাডার পরিবর্তন হয়, তবে এ সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার ওপর এখন রাজনৈতিক প্রভাবটা কেমন?

গোলাম মোস্তফা: বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমান সময়ে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাব আছে। স্বায়ত্তশাসিত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ আছে। উপাচার্যকে নিয়োগ দেন আচার্য। আর আচার্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। আমরা ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আগেও বলেছি গণতান্ত্রিক সিন্ডিকেট করে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক। শিক্ষকরা দলীয় লেজুড়বৃত্তিক হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষার উন্মুক্ত দিক বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষে পা দিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি কোন দিকে? বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে আমাদের গৌরবের ঢাবি ক্রমান্বয়ে পেছাচ্ছে। এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?

গোলাম মোস্তফা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ, স্বাধীনতার ৫০ বছর এগুলো তো একেকটি মাইলফলক হওয়ার কথা ছিল। এগুলো মানুষ অর্জন দিয়ে উদযাপন করবে। সেই জায়গায় এখন নৈরাশ্য আর হতাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংক নিচের দিকে যাচ্ছে, এটা সত্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা করা। সেই জায়গায় পিছিয়ে যাচ্ছে। গবেষকের ওপর যখন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় তখন গবেষণা হয় না। করোনাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাদের সহযোগিতা করা হয়নি। গবেষণা খাতে বরাদ্দ কম। দলীয়ভাবে নিয়োগের কারণে শিক্ষকতায় আগ্রহ থাকলেও তরুণরা এতে আসছেন না। যারা আসছে তারা এটাকে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে নিচ্ছে। যার কারণে গবেষণা তাদের কাছে মুখ্য নয়। যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণা পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে। যার ফলে অন্যরাও আগ্রহ হারাচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? সহাবস্থান আছে?

গোলাম মোস্তফা: সকল সংগঠনে সেই অর্থে সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কিছুটা আছে। তারা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রদের স্বার্থে কথা বলে। যৌথ প্লাটফর্মে কাজ করে। আরেকটি দল আছে, তাদের মূলকাজ হলো দলীয় লেজুড়বৃত্তি আর সরকারি ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভ। ছদ্মবেশে তারা ছাত্রদের পক্ষে কথা বলে। সুযোগ বুঝে বিপক্ষে দাঁড়ায়।

বাংলা ট্রিবিউন: হলগুলোতে ক্ষমতাসীনদের একক আধিপত্য রয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ, এ বিষয়ে কী বলবেন?

গোলাম মোস্তফা: বিএনপির সময় ছাত্রদল, আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগ হলগুলো দখল করে থাকে এটা সত্য। তাদের নিপীড়নে অনেক শিক্ষার্থী প্রাণও হারিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা কেমন আছে?

গোলাম মোস্তফা: ভিন্নমত গ্রহণের প্রবণতা অনেকের মধ্যে আছে। অনেকের মধ্যে নেই। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা প্রগতিশীলতায় বিশ্বাস করে, তারা সকল মতকেই প্রাধান্য দেয়। যারা এসবে বিশ্বাসই করে না, সহনশীলতায় বিশ্বাস করে না, যারা মুখোশধারী, তারা আধিপত্য বিস্তারে বিশ্বাসী, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী। এগুলোর ফলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।

 

 

 

/এফএ/

সম্পর্কিত

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

সর্বশেষ

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

দেয়ালেও করোনাভাইরাস, সাতক্ষীরা মেডিক্যালের ল্যাব বন্ধ

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় পরিবেশমন্ত্রীর

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

সেই লাকী আক্তারের কণ্ঠে কন্যা ও কান্নার গল্প (ভিডিও)

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

খালাস শেষে অক্সিজেন নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পথে শেষ ট্যাংকলরিটি

ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সমতা

ভারতকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সমতা

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার

তালেবানের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতাকে হত্যার অভিযোগ

তালেবানের বিরুদ্ধে জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতাকে হত্যার অভিযোগ

রাজনীতি ছাড়ছেন ট্রাম্পের জামাই

রাজনীতি ছাড়ছেন ট্রাম্পের জামাই

‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’র নিবন্ধন শুরু

‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’র নিবন্ধন শুরু

এক কোটি খুঁজতে গিয়ে মিললো ৩ কোটি!

এক কোটি খুঁজতে গিয়ে মিললো ৩ কোটি!

শিক্ষাপ্রযুক্তির উন্নয়নে ১৩ লাখ মার্কিন ডলার পেলো ‘শিখো’ 

শিক্ষাপ্রযুক্তির উন্নয়নে ১৩ লাখ মার্কিন ডলার পেলো ‘শিখো’ 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

হাসি-কান্নার ভেলায় ‍ফুটবলের ৫০ বছর

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে যেসব অর্জন

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মুক্তিযুদ্ধ হারিয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় পিছিয়ে যাচ্ছে’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

‘প্রশাসন আর মানুষের মাঝে এখন কোনও দেয়াল নেই’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৫০ দেশ ঘুরবে ‘সুবর্ণযাত্রা’

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির পুনরুত্থান

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

‘ছাত্র রাজনীতিকে আমি সহশিক্ষা বলব’

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

এখন ‘সহমত ভাই’ চর্চা চলে

‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এখন খাতা-কলমে’

‘ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান এখন খাতা-কলমে’

© 2021 Bangla Tribune