X
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২
১৬ আষাঢ় ১৪২৯

গণতন্ত্রের জন্য হাহাকার ও সার্চ কমিটি সমাচার

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৬:২৮

মো. জাকির হোসেন বিএনপি মহাসচিবের বরাতে সম্প্রতি জানলাম দেশে গণতন্ত্রের ‘জননী’ বাস করেন। ‘জননী’ লাখ লাখ দলীয় অনুসারী ও সিভিল সোসাইটির মোড়কে গুপ্ত অনুসারীরা ‘জননী’র যেকোনও হুকুম তামিল করতে সদা সক্রিয়। এমন দেশে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য বুকফাটা হাহাকার বড়ই কষ্টের। ‘জননী’র দলীয় অনুসারীরা রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দেননি। তারা ঘোষণা দিয়েছেন সার্চ কমিটি ‘আওয়ামী খাস কমিটি’। সার্চ কমিটি তারা মানেন না। ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ অধীনে অনুষ্ঠানই তাদের লক্ষ্য। সরকার পতনে তাই ঐকমত্য সৃ্ষ্টি করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপি মতবিনিময় শুরু করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে ইতোমধ্যে তিনটি টিমও গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে, ‘জননী’র অনুসারী সুশীলরা বেশ তৎপর। সার্চ কমিটির সঙ্গে  বৈঠকে বক্তব্য উপস্থাপন করছেন, সার্চ কমিটিকে কী নসিহত করেছেন পত্রিকায় তার বয়ানও প্রকাশ করছেন। উপরি হিসেবে নির্বাচন কমিশন গঠনে গণমাধ্যমে মৌখিক ও লিখিত নানা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। তার মানে গণতন্ত্র নির্বাচনের ওপরই নির্ভরশীল। আমাদের ধারণা, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই নিহত গণতন্ত্র আবার জীবিত হয়ে উঠবে। আসলেই কি তাই?

অন্তত চারটি নির্বাচন তো দলীয় সরকার ছাড়া অরাজনৈতিক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। তার মানে ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশে ২০ বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারগণ রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচনের দ্বারা গঠিত সরকারের গণতন্ত্রের রূপ আমরা ভুলে গেছি?

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রযোজনা ও পরিচালনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে গঠিত সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে হয়েছে। বিরোধীদল নির্মূলে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করার ভয়াবহ ও নিকৃষ্টতম নজির সৃষ্টি হয়েছে। বিরুদ্ধ মত দমনে বাছ-বিচারহীন মামলা হয়েছে। বিরুদ্ধ মতের কেউ কেউ চিরতরে হারিয়েও গিয়েছেন। নির্বাচনের পর পরাজিত দল সংসদ বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বছরের পর বছর, সংসদে অনুপস্থিত থেকেছেন। হরতাল, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, সম্পদ ধ্বংস নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছিল তখন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় ঘোষণার পর হরতাল আহ্বান করা হয়েছে। কূটকৌশলে উচ্চ আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার টানা ৫ বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির সৃষ্টি হয়েছে। এসবই তো হয়েছে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচিত সরকার কিংবা বিরোধী দল দ্বারা। সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য অন্যতম অপরিহার্য উপাদান হলেও এটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খুব বড় ভূমিকা পালন করতে পারে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অনেক শর্ত, পরিবেশ, পরিস্থিতি সর্বোপরি সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল নিজেদের দলে গণতন্ত্র চর্চা করে না। দলে এক ব্যক্তি সর্বেসর্বা। একক ব্যক্তির ফরমান বলে কেউ দলের উচ্চপদে আসীন হন কিংবা পদচ্যুত হন। যার যেটা নেই, সে সেটা দেশকে কীভাবে দেবে। দলে গণতন্ত্র নেই, দেশকে গণতন্ত্র কীভাবে দেবে? ফলে অবাধ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম মূলত গণতন্ত্রের জন্য নয়, ক্ষমতা লাভের জন্য। অবাধ নির্বাচনে জয়ী হয়েও তাই গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাসহীনতার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটে না, কিংবা অগণতান্ত্রিক বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে হয় অগণতান্ত্রিক পন্থায়।

এ তো হলো অতীতের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের কিছু নমুনা। এবার একটি ভবিষ্যতের উদাহরণ দেই। ধরা যাক, দ্বাদশ নির্বাচন সার্চ কমিটির আন্তরিকতা ও নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় অবাধ হলো। যদি আওয়ামী লীগ জিতে তাহলে বিএনপির প্রতিক্রিয়া হবে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি কিংবা বিএনপির জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে ইত্যাদি। আর বিএনপি জিতলে রক্তের হোলি উৎসব শুরু হবে। কোথায় থামবে কে জানে? বিএনপি ও তার মিত্ররা বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী দৃঢ়ভাবে মনে করে তাদের নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড, আজীবন কারাদণ্ডসহ নানা শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিএনপি তো প্রকাশ্যেই বলছে, দুর্নীতি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় সরকার যেমন বলেছেন আদালত তেমন দিয়েছেন। বিএনপি ও তার মিত্ররা মুখিয়ে আছে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য। কেউ কেউ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলে আফগানিস্তানে যেমন বিমানের চাকায়, পাখায় চড়ে বসেছিল পলায়নরত মানুষ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে কাবুল বিমানবন্দরের চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে বাংলাদেশে। আদালতকে বলির পাঁঠা বানিয়ে বিএনপি ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে গ্রেনেড হামলাসহ যত মামলা আছে রাতারাতি প্রত্যাহার হয়ে যাবে। নতুন করে হাজার হাজার মামলা দায়ের হবে বঙ্গবন্ধু কন্যাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। দলের কেউ অপরাধ করলে অস্বীকার করার এই রাজনীতি কি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি?

প্রশ্ন হলো, একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য তথা রাজনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য এমন হাহাকার কেন? পৃথিবীর কতটি দেশে অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের এমন কসরত আছে? পৃথিবীর অল্প কয়েকটি দেশে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এসব দেশের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিকভাবে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এমন দেশের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি। আর সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে এমন দেশ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজে বের করতে হবে। স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন রয়েছে এমন দেশের মধ্যে অন্যতম হলো, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, ভারত, জর্ডান, নাইজেরিয়া,পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ। এদের মধ্যে আবার যেসব দেশের নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নেই। এসব দেশে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বা কমিশন নির্বাহী বিভাগের অধীনে একটি শাখা, অধিদফতর কিংবা পরিদফতর হিসেবে কিংবা বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে কাজ করে। নির্বাহী বিভাগের শাখা হিসেবে নির্বাচন কমিশন রয়েছে ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তিউনিসিয়া, বলিভিয়া, কোস্টারিকা, পানামা, নিকারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলায়। মিশ্র পদ্ধতির নির্বাচন সংস্থা রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, স্পেন, ক্যামেরুন ও সেনেগালে। এসব দেশে নির্বাচনি সংস্থা স্বাধীনভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করে আর নির্বাহী বিভাগ নির্বাচনি সংস্থার তত্ত্বাবধানে সেসব নীতিমালা বাস্তবায়ন করে থাকে। বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনি সংস্থা কাজ করে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলে। সাংবিধানিক স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবারই নির্বাচন কমিশন গঠন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কেন এত বিতর্ক? এর কারণ কি কেবলই নির্বাচন কমিশন কিংবা সার্চ কমিটি না, অন্য কোনও কারণ রয়েছে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগের অধীন নির্বাচন কমিশন নিয়ে যখন এমন বিতর্ক নেই তখন বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে বিতর্ক তার মূল কারণ কমিশন নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা মতবিরোধ রয়েছে, কিন্তু তাদের মধ্যে বিভেদ ও শত্রুতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেনি, যেখানে একে অপরকে হনন করতে চায়, নির্মূল করতে চায়।

বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের মধ্যে বিভেদ-শত্রুতা, আস্থাহীনতা এতটা চরম পর্যায়ে যে বিদেশ থেকে আমদানি করা নির্বাচন কমিশন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলেও এই বিরোধ নিষ্পত্তি হবার নয়। অফিসের বড় কর্তা থেকে পিয়ন, রাজনীতি না বোঝা অবোধ শিশু আর দুনিয়া থেকে চূড়ান্ত অবসর গ্রহণের জন্য অপেক্ষমাণ বয়োবৃদ্ধ সবাই বিভক্তির শিকার। পরস্পরবিরোধী দুটি চিন্তাভাবনা দ্বারা প্রভাবিত মানুষদের একটি অংশ মনে করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে। তাদের যুক্তি হলো, শুধু আওয়ামী লীগের জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ও তার অস্তিত্বের জন্যে দরকার আওয়ামী লীগকে তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ টিকে থাকতে হলে, দানবীয় রূপ নিয়ে প্রকাশমান জঙ্গিবাদ রুখতে হলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বিকল্প নেই। অবকাঠামো উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জয়রথ অব্যাহত রাখতে হলে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্ব অপরিহার্য। অন্যথায়, মুখ থুবড়ে পড়তে পারে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ।

অন্যদিকে, এ চিন্তাধারার যারা বিরোধী তারা মনে করেন, এই সরকার তাদের আচরণে ক্রমশই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিএনপি ও তাদের মিত্রদের হামলা-মামলা-গুমের শিকারে পরিণত করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যেকোনও মূল্যে এই সরকারের পতন ঘটাতেই হবে। প্রয়োজনে আমেরিকা ও অন্যান্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে হলেও এই সরকারের পতন চায় বিএনপি। এভাবেই  প্রধান দুই দল ও তাদের সমর্থক-অনুসারীর মধ্যে বেড়ে উঠেছে ভয়ংকর বিভেদ, শত্রুতা ও জিঘাংসা। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম নিয়েই দুই দলের মধ্যে রয়েছে ভয়ংকর মতবিরোধ। তাহলে কোন বাংলাদেশের জন্য সু্ষ্ঠু নির্বাচন? বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছে, বিএনপি তো এই কথা মানে না। বিএনপি ও তার মিত্ররা মুক্তিযুদ্ধে ভাসানীর অবদান ও সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে আলোচনা করে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার করে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রায় চার ভাগের একভাগ যে জেলে কাটালেন তা কি চুরি-ডাকাতি-খুন-রাহাজানির জন্য, নাকি বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাকিস্তানি শাসকদের জুলুমের শিকার হয়েছেন? পৃথিবীর ৯০টির অধিক দেশে জাতির পিতা কিংবা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা রয়েছে। জাতির পিতা কিংবা রাষ্ট্রের স্থপতিকে নিয়ে তেমন কোনও বিতর্ক নেই। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি কিংবা জাতির পিতাকে স্বীকার করে না বিএনপি।

অন্যদিকে, জিয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও সংবিধান পরিবর্তন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার বন্ধ করা, স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা, শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসি দেওয়াসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নানা বিতর্কিত কাজ করেছেন। অস্বীকার করার এই রাজনীতি যতদিন থাকবে সার্চ কমিটি কিংবা নির্বাচন কমিশন অবাধ নির্বাচনের জন্য যতই কসরত করুক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা দুরূহ হবে। সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশন যত আন্তরিকতা নিয়েই কাজ করুন না কেন বিতর্ক পিছু ছাড়বে না। সার্চ কমিটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও তৎপরতার সঙ্গে সাথে কাজ করছে, তবু কিছু বিষয় অবোধ্য রয়ে গেলো। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যারা বিরোধিতা করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন জুগিয়েছেন, বিচার বিভাগ নিয়ে যারা বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, তারাও বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে সার্চ কমিটির আমন্ত্রণে আলোচনায় বসেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য কমিশনারদের নামের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। যাদের নাম এসেছে, অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই তাদের নাম প্রকাশ করা অনুচিত হবে। আমাদের দেশে মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনির ফ্যাক্টরি রয়েছে। চাকরি জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে যিনি নির্ঝঞ্ঝাট, নিরিবিলি ও শান্তিতে জীবনযাপন করছেন, নির্বাচন কমিশনে এমন কারও নিয়োগ বন্ধ করতে বিদ্বেষবশত তার বিরুদ্ধে হঠাৎ করে এমন আজগুবি ও বানোয়াট কাহিনি প্রচার করা হবে যে ভয়ংকর মনোকষ্ট নিয়ে তাকে এই পৃথিবীতে থেকে চূড়ান্ত অবসরগ্রহণ করতে হবে। তদুপরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আবিষ্কার এই ঝুঁকিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।  রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব যাবে ১০ জনের। সেখান থেকে নিয়োগ পাবে ৫ জন। তাহলে শত শত নাম কেন প্রকাশ করা হবে? অন্যের মর্যাদাহানির অধিকার আমাদের নেই।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব দ্য ফিউচার অব ডেমোক্র্যাসির গবেষকরা সম্প্রতি বিশ্বের ১৫৪টি দেশের ওপর এক জরিপ করে জানিয়েছেন যে গণতন্ত্রের প্রতি অসন্তুষ্টি চরম পর্যায়ে। জরিপের ফলাফলে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা এখন ‘উদ্বেগের’ পর্যায়ে রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি বা উচ্চমাত্রায় অসন্তুষ্টি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে। অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামাজিক ভেদাভেদে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের অসন্তুষ্টি বেড়েছে। গবেষণা বলছে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন তথা রাজনৈতিক গণতন্ত্র সামগ্রিকভাবে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষকে আস্থাশীল করতে পারে না।

তবু আশা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। রাজনৈতিক গণতন্ত্রের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকুক।

লেখক:  অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-মেইল: [email protected]

 

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ছাত্রীর কাছে হিরো সাজতে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করে জিতু
ছাত্রীর কাছে হিরো সাজতে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করে জিতু
ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস শনাক্তে অভিযান শনিবার থেকে
ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস শনাক্তে অভিযান শনিবার থেকে
টি-টোয়েন্টি দলে যুক্ত হলেন তাসকিন-মিরাজ
টি-টোয়েন্টি দলে যুক্ত হলেন তাসকিন-মিরাজ
শিক্ষককে হত্যার পর বন্ধুর বাসায় লুকিয়ে ছিল জিতু
শিক্ষককে হত্যার পর বন্ধুর বাসায় লুকিয়ে ছিল জিতু
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ