বাংলাদেশ ব্যাংকে ডিজিটাল ডাকাতি

আনিস আলমগীর
১৫ মার্চ ২০১৬, ১১:৪৭আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৬, ১২:২৬

আনিস আলমগীর গত শতাব্দীতে আমরা বিখ্যাত দু’টি ব্যাংক ডাকাতির ঘটনা জানি। একটা প্যারিসে আর একটা লন্ডনে। মাটির নিচ দিয়ে ব্যাংকে প্রবেশ করার জন্য ডাকাতেরা সুড়ঙ্গ করে ডাকাতি করেছিলো। সে অ্যানালগ ডাকাতি এখন নেই। এখন যুগ পাল্টেছে। এখন সভ্যতা পৌঁছেছে চূড়ান্ত শিখরে, তাই এখন হচ্ছে ডিজিটাল ডাকাতি। রবীন্দ্রনাথ তার সভ্যতার সংকট নামক লেখায় এমন কিছু সংকটের কথাই বলতে চেয়েছিলেন।
বাংলাদেশে ব্যাংক-এর রিজার্ভ ছিলো যুক্তরাষ্টের রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে। সে রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার গিয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একাউন্টে আর দুই কোটি ডলার গিয়েছে শ্রীলঙ্কার এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে। কিন্তু নামের বানান ভুল হওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কার প্রাপকের নামে টাকা জমা হয়নি যে কারণে রক্ষা পাওয়া যাবে শোনা যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার টাকাটা নিশ্চয়ই এখন রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে ফেরত যাওয়ার কথা। রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন একটা প্রাইভেট ব্যাংক। ফিলিপাইনের সিনেট কমিটি ব্যাংক-এর সম্পূর্ণ পরিচালনা পরিষদকে ডেকে পাঠিয়েছে। ম্যানিলা সরকার এ বিষয়টা নিয়ে খুবই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছে এবং তদন্ত করছে।
ম্যানিলার ডেইলি ইনকোয়ারার পত্রিকা বলেছে- ফিলিপাইনে এমন ঘটনা নাকি এটাই  প্রথম। পত্রিকাটি বলেছে বাংলাদেশ একাউন্ট থেকে আরও ৮৭ কোটি ডলার টান্সফারের  উদ্যোগটাও নাকি একই চক্রের হাতছিলো। রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন এর জুপিটার স্ট্রিট শাখার ম্যানেজার মাইয়া সান্তোস দিগুইতো বলেছেন- ৮১ মিলিয়ন ডলারের সঙ্গে নাকি আরও পেমেন্ট এসেছিলো যা জমা না দিয়ে ফেরত নিয়ে যায়। এ বিষয়টি নাকি ম্যানেজারকে ব্যাংক-এর সেটেলমেন্ট বিভাগ টেলিফোনে বলেছিলো। ম্যানেজার বলেছে, তিনি পেমেন্টটা ক্যাশ করার আগে পরিচালনা পরিষদকে অবহিত করেছিলেন এবং পেমেন্টের  ব্যাপারে তাদের অনুমতি নিয়েছিলেন।

২০১৫ সালের মে মাসে ভুয়া আইডি কার্ড দিয়ে পাঁচটি একাউন্ট খোলা হয়েছিলো। ম্যানেজারের যে সহকারি অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে তার তথ্য মতে ম্যানেজারের নির্দেশেই সে একাউন্ট খুলেছিলো, একাউন্ট হোল্ডার নাকি চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপাইনেরই নাগরিক। ডেইলি ইনকোয়ারার পত্রিকা সক্রিয় ভূমিকার কারণে সব তথ্যই ভেসে উঠেছে। সমগ্র চক্রটাকে আইনের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার সক্রিয় হয়ে ম্যানিলা সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করলেই ফিলিপাইনের চক্রটাকে কব্জা করা কোনও কঠিন বিষয় নয়। অনুরূপ জালিয়ত চক্রকে কোনও সরকারই প্রশ্রয় দেবেন না। ম্যানিলা সরকার থেকে সহযোগিতা পাওয়া কঠিন কোনও বিষয় নয়। রেজাল ব্যাংকিং করপোরেশনের ডলারগুলো স্থায়ী মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়ে জুয়ার আসরে চলে গেছে। ম্যানিলার ক্যাসিনো থেকে টাকাগুলো এখন হংকং এসে পৌঁছেছে। হাত বেহাত টাকাগুলোর গন্তব্য এখন হংকং। টাকা উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কঠিন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বশেষসর্বাধিক