বৈরী হাওয়ায় গোত্তা খাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক

Send
আনিস আলমগীর
প্রকাশিত : ১৪:১৬, আগস্ট ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩০, আগস্ট ২৫, ২০২০

আনিস আলমগীরগত বছরের ১৯ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন। জয়শঙ্করের সফরের দুই সপ্তাহ আগে ভারত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়েছিল আর সফরকালেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ কাশ্মিরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে অভিমত দিয়েছিল। ঠিক এক বছরের মাথায় ১৮ আগস্ট ২০২০ ঢাকা সফর করলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। জয়শঙ্করের সফর সফল হলেও শ্রিংলার সফর কতটা সফল এই নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ভারতের লোকসভার সদস্য এবং কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী শশী থারুর এই নিয়ে বলেছেন−‘চীনকে ঠেকানোর জন্য ক্ষেপ মারতে যাওয়া ঠিক হয়নি।’ শশী থারুর অভিজ্ঞ মানুষ। তার আন্দাজ ঠিক না বেঠিক, মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
চীনকে ঠেকানোর বিষয়টি কী? বাংলাদেশ গত সংসদ নির্বাচনের পর ভারত থেকে বেশি মাত্রায় চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে–ভারত সরকার আর ভারতীয় মিডিয়ার এই প্রচারণা তো ইতিমধ্যে সবাই জেনেছেন। নতুন করে যেটা আলোচনায় এসেছে সেটা হচ্ছে–২০১১ সাল থেকে দুই দেশের যৌথ নদী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন নিয়ে বাংলাদেশকে ভারত যে মুলা দেখিয়ে যাচ্ছে, সেই তিস্তার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষকে উদ্ধৃত করে খবর বের হয়, তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেসটোরেশন প্রকল্পের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের এই নদীর প্রস্থ কমানো হবে এবং গভীরতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি জানান, 'চীনারা এই প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়েছে। আশা করা যায় ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবো।’ বলা হচ্ছে  চীন এই প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে আগ্রহী। বাস্তবে চীনারা প্রকল্পটির অর্থ কবে ছাড় করবে এবং প্রকল্পের সার্বিক বিষয় কী, এ নিয়ে অফিসিয়ালি এখনও কিছুই ঠিক হয়নি। তারপরও অতি উৎসাহী এই কর্মকর্তা এটিকে কেন খবর করেছেন জানি না।

এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর পরই ভারতীয় পত্রিকায় শোরগোল শুরু হয়। তাদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে যায়। ফলে দুই দেশের বিভিন্ন মিডিয়া অনুমান করছে যে শ্রিংলা ঢাকায় এসেছেন এটা বন্ধ করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বার্তা দিতে। কী বার্তা সেটি কেউ জানেন না, বলছেনও না। এমনকি শ্রিংলার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের তরফ থেকে সেটাও কেউ স্বীকার করছেন না। কোনও ছবিও রিলিজ করা হয়নি। শুধু ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি বিশেষ ক’জন পত্রিকার রিপোর্টারকে সোনারগাঁও হোটেলে ডেকে বৈঠকের খবর বলেছেন। তাও সবই অফ দি রেকর্ড, যেখানে সম্পর্ক জোরদারের কথা ছাড়া বিশেষ কিছু নেই। অবশ্য পরদিন ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে শ্রিংলা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র সচিব নিজেই তা নিয়ে প্রেসের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

একটি কূটনৈতিক সূত্র শ্রিংলার ঢাকা আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভার্সন দিয়েছে। চীনের করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ নিয়ে বাংলাদেশ শুরুতে উৎসাহ দেখালেও হঠাৎ সেটা বন্ধ, স্থগিত বা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। এর পেছনে যে ভারত বা রাষ্ট্রযন্ত্রে বসে থাকা ভারতপন্থী লোকদের হাত নেই, সেটা চীনারা নিশ্চিত হতে পারছে না। বাংলাদেশও চীনা টিকার ট্রায়াল নাকচ করে দেয়নি। আবার বলছে ভারতীয় টিকারও ট্রায়াল হবে। এরমধ্যে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথিত জন্মদিনে তাকে উপহার পাঠিয়ে সরকারকে নতুন বার্তা দিয়েছে। কারণ চীনা দূতাবাস কখনও খালেদা জিয়ার জন্মদিনের উপহার পাঠায়নি, এ বছরই প্রথম। তাছাড়া চীন এটা ভালো করেই জানে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সরকার এটাকে ভালো চোখে দেখে না।

চীনারা আগে বাংলাদেশে 'ঠিকাদারিতে' বেশি মনোনিবেশ করতো। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়ে পরক্ষণেই তা প্রত্যাহার করে তারা তাদের বাংলাদেশ নীতির পরিবর্তনটা প্রকাশ্যে জানান দিয়েছিল। বেইজিংয়ের রাতারাতি এই পরিবর্তন দেখে দিল্লিও তখন রীতিমতো ভিরমি খেয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য হচ্ছে, টিকা নিয়ে গড়িমসির কারণে চীন পদ্মা সেতু বা তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের শর্ত তুলে বাংলাদেশকে চাপ দিতে পারে, এমন কথা কানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ঝালাই করতে ভারতের পরররাষ্ট্র সচিব কোভিডের মধ্যে উড়ে চলে এসেছেন।

অনেকে হয়তো জানেন, মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে জয়শঙ্কর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। সচিব হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছেন। আর শ্রিংলা তো দুই বছরও পূর্ণ হয়নি ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নে তারা ভূমিকা রেখেছেন এবং এখনও রাখার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, এই দুই চৌকশ কূটনীতিক যেই বিজেপি সরকারের অধীনে কাজ করছেন সেই সরকার মুখে বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে ভারতের অন্যতম বন্ধু বললেও সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ থেকে শুরু করে হিন্দুত্ববাদী দলটির নেতারা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে যাচ্ছেন। আগামী এপ্রিল-মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে অনেক আগে থেকেই সেখানকার ‍হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তিরেখা টানার চেষ্টা করছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের মুসলমানদের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য কিছু না করলেও রাজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলমান ভোটারদের কব্জা করতে, তাদের ত্রাণকর্তা সেজে তাদের জন্য তিনি আলগা দরদ দেখান। সেটাতে বরং উল্টো সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা অনেকে এখন মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি মুসলমানদের কোনও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় হিন্দুদেরকে একরোখা করার চেষ্টায় লিপ্ত। ২০১৯ সালে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি পেয়ে বিজেপির মনোবল আরও চাঙ্গা হয়েছে। যে কোনও মূল্যে ‘বাংলাদেশ কার্ড’ খেলে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটিয়ে রাজ্যটি দখলে নিতে চায় তারা। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি দিলীপ ঘোষ এখনও বলে চলেছেন, 'এক কোটি অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে।’ তাদের দীর্ঘদিনের প্রচারণা হচ্ছে, বাংলাদেশি মুসলমানরা অবৈধভাবে বসবাসের জন্য আর হিন্দুরা নির্যাতিত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছে। এখানে বিজেপির ‘পাকিস্তান কার্ড’ অচল, কারণ ভোটাররা নৈকট্য অনুভব করবে না। সে কারণে ‘বাংলাদেশ কার্ড’ খেলছে বিজেপি।

এসব বিবেচনায়, চীনকে কেন্দ্র করে, বিশেষ করে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সংঘর্ষে ঢাকার নীরবতাসহ কিছু বিষয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বর্তমানে যে অবিশ্বাসের ছাপ তৈরি হয়েছে তা আগামী দিনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদের উত্থানের বৈরী হাওয়ায় আরও গোত্তা খাবে। শুধু চীনের কারণে নয়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন, সেখানে হিন্দুত্ববাদী উত্থান এবং বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতনের কথা বলে বঙ্গভূমি তৈরির প্রচারণা, দুই দেশের সম্পর্কের আকাশে কালো মেঘ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় সাউথ ব্লকের এই দুই শক্তিধর ব্যক্তি ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ককে কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন আগামী বছরগুলোতে, আমি সন্দিহান।

এরমধ্যে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ঢাকা থেকে তাদের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলীকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তার স্থলে গত ১২ আগস্ট ২০২০ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিক্রম দোরাইস্বামীকে। খবরে দেখলাম সাউথ ব্লকে তার পরিচয় Wolf Diplomate হিসেবে। নেকড়ের সঙ্গে এই তুলনাকে কূটনীতির ভাষায় বলা হয় একজন আগ্রাসী কূটনীতিক। এই টার্মটা এসেছে বিশ্বব্যাপী চাইনিজদের আগ্রাসী কূটনীতির প্রতিশব্দ থেকে।

রীভা গাঙ্গুলীকে দেড় বছরের মাথায় চলে যেতে হচ্ছে কারণ তিনি নাকি এখানে ভারতের স্বার্থাবলি যথাযথ আদায় করতে পারছেন না। এখন দোরাইস্বামী ঢাকায় এসে ‘নেকড়ে’ থাকেন না আরেকজন ‘রীভা গাঙ্গুলী’ হয়ে যান সেটা সময় বলে দেবে। তবে তার সফলতা যে ঢাকার প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করছে, তা বলার জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। ভারত রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চায়, কিন্তু বিজেপি সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা একের পর এক বাংলাদেশ বিরোধী বক্তৃতা দিলে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সব ইস্যুতে নাক গলালে কূটনীতি তো এখানে ব্যর্থ হতে বাধ্য।

নরেন্দ্র মোদি এবং তার দলের নেতা-পাতিনেতাদের বাংলাদেশ বিরোধী বক্তৃতাকে রেটোরিক বা রাজনৈতিক বাকোয়াজ হিসেবে বাংলাদেশ আর কতক্ষণ বিবেচনা করবে যখন দিনের পর দিন তারা ভারতের বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করার হুমকি দেন! নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বানিয়ে বাংলাদেশকে হিন্দু নির্যাতনকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং বাংলাদেশের অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দানের মুলা দেখান। সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান মনিটরের এক খবরে বলা হয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশে অফিস খুলে হিন্দুদের দেশত্যাগে সাহায্য করছে। উদ্দেশ্য একটাই, বিজেপির নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রণয়নের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা।

ভারত বরাবরই বাংলাদেশের বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার উদার বন্ধুত্বের মানসিকতাকে তারা ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ হিসেবে দেখতে চাওয়ায় তারা দু’জন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বদনামের ভাগীদার হয়েছেন। বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর উৎপত্তিস্থল ভারত, কিন্তু ভারত পানি বণ্টনের বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক আইন মানছে না। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে শুধু গঙ্গার পানি চুক্তি হয়েছে, আর কোনও নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হয়নি। তিস্তা নিয়ে ৫০ বছর ব্যাপী শুধু আলোচনাই হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু এখন দোষী করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ নিয়ে গেছে। চুক্তি হলেও বাংলাদেশকে পানি দেবে কীভাবে! মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি হয়েছিল ১৬ মে, ১৯৭৪ সালে। বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষণিক বেরুবাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। আর বাংলাদেশ তিনবিঘা নামের সামান্য এক কোরিডোর বুঝে পেলো ৩৭ বছর পর, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে তার বৈরী সীমান্ত পাহারা দিতে ভারত কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। আর বাংলাদেশ সীমান্তে নিরীহ মানুষ মারছে। ১ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে ৫ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত মোট ৬৭ বাংলাদেশিকে হত্যা ও ১০৯ জনকে আহত করেছে বিএসএফ।

বাংলাদেশকে ভারত ৮ বিলিয়ন ঋণ সাহায্য দেওয়ার কথা বড় গলায় প্রচার করে বলছে, কোনও দেশকে দেওয়া এটি তাদের সর্বোচ্চ ঋণ। বাস্তবতা হচ্ছে সে ঋণ ব্যয় হচ্ছে দুই দেশের যৌথ ইচ্ছায় কিছু প্রকল্পে। বলার অপেক্ষা রাখে না এর সবই ভারতের স্বার্থে এবং তার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে মেইনল্যান্ডের রেল, রোড, নদীপথে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর প্রয়োজনে। বিনিময়ে ভারত আশা করছে, বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে আর কাকে তার উন্নয়ন সহযোগী বানাবে সেটাও ভারত থেকে অনুমতি নিয়ে করবে! এসব তো কখনও বন্ধুত্বের লক্ষণ হতে পারে না।

ভারতের মনে রাখা উচিত ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ভারত-বান্ধব। কিন্তু ভারত-নির্ভর ও ভারতপন্থী না। বঙ্গবন্ধুর মতো তার কন্যা শেখ হাসিনাও আত্মনির্ভর, স্বাধীনচেতা এবং বাংলাদেশকেও তারা স্বাধীন, আত্মনির্ভর, মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে দেখতে চান।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।

[email protected]

/এসএএস/এমএমজে/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ