ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা উৎখাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে যোগ দিতে যাচ্ছে সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। ইরাকি কুর্দিস্তানে অবস্থানরত এই যোদ্ধারা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে প্রবেশ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকি কুর্দিস্তানের শীর্ষ দুই নেতা মাসুদ বারজানি ও বাফেল তালাবানির সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর থেকেই এই পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ইরাকি কুর্দিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা বারজানি এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেননি বলে জানা গেছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর হাতে তুলে দেওয়া।
আরও পড়ুন: ইরানে অভ্যুত্থান ঘটাতে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ
এই অভিযানের কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো ইরানি বাহিনীকে বিভিন্ন ফ্রন্টে ব্যস্ত রেখে তাদের কোণঠাসা করা এবং দেশটির অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যেমন-বেলুচ ও আজেরি সম্প্রদায়ের মানুষকেও বিদ্রোহে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে তেহরানের বর্তমান সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে চায় ওয়াশিংটন।
যোদ্ধাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথ হিসেবে বারজানির নিয়ন্ত্রণাধীন হজ ওমরান এলাকা এবং তালাবানির নিয়ন্ত্রণাধীন সুলাইমানিয়ার বাশমাক সীমান্ত এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুর্দি যোদ্ধাদের পথ প্রশস্ত করতে রবিবার থেকে ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবারও সীমান্তের ওপারে ইরানের পিরানশাহর ও বানেহ শহরে যৌথ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানে ট্রাম্পের ‘ট্রাম্পকার্ড’ কি তাহলে কুর্দিরাই?
তবে কুর্দি যোদ্ধাদের ভূমিকার বিষয়টি কিছুটা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনও লক্ষ্যই কোনও নির্দিষ্ট বাহিনীকে সশস্ত্র করার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত নয়। অন্যান্য পক্ষ কী করছে সে সম্পর্কে আমরা অবগত, কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য তাদের ওপর ভিত্তি করে নয়।’
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত বছর থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানে অনুপ্রবেশ অভিযানের বিষয়ে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল তেহরানের বিরুদ্ধে কুর্দিদের ব্যবহারের জন্য জোরালো তদবির চালিয়ে আসছিল। আঞ্চলিক পরাশক্তি তুরস্কের বিরোধিতা এবং ইরানের সরাসরি হুমকি সত্ত্বেও এই কুর্দি জোট এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।








