দ্রুত ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি চান ট্রাম্প, লক্ষ্য এখন ‘অন্য কিছু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:০০আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৭:০০

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললো। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহল ও উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি এই যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত করতে চান না। বরং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সংঘাতের ইতি টানতে চান তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজে মনে করছেন যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। জনসমক্ষে তিনি যে চার থেকে ছয় সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, উপদেষ্টাদের সেই লক্ষ্যেই অটল থাকতে বলেছেন তিনি। এমনকি মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে একটি সম্মেলনের পরিকল্পনা করছে হোয়াইট হাউস। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।

যুদ্ধের ময়দান থেকে ট্রাম্পের মনোযোগ এখন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে সরছে বলে মনে করছেন তার রাজনৈতিক মিত্ররা। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর পাশাপাশি বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের পাঠানো এবং কংগ্রেসে ভোটারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত কঠোর আইন পাস করার কৌশল নিয়ে তিনি বেশি সময় ব্যয় করছেন। ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ তার অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ কী হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তার কিছু মিত্র চাইছেন ট্রাম্প এবার কিউবার কমিউনিস্ট শাসন উৎখাতে মনোযোগী হোন। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা চাইছেন তিনি জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দিন, যা যুদ্ধের কারণে আরও প্রকট হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অসাধারণ দক্ষ। তবে সন্ত্রাসী ইরানি শাসনের বিরুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনে তিনি বর্তমানে লেজারের মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন। প্রেসিডেন্টের একমাত্র লক্ষ্য সবসময়ই বিজয়।’

চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রতি নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তা থেকেও কিছুটা সরে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো আদান-প্রদান করছেন। তবে একই সঙ্গে ইরানকে চাপে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। যুদ্ধ শেষের চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের তেলের কিছু অংশে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার নিশ্চিত করতে চান তিনি। যদিও এই বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা শুরু হয়নি।

বুধবার সাংবাদিকদের ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইরান যদি যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে না আসে, তবে তাদের ওপর এমন কঠোর আঘাত করা হবে যা তারা আগে কখনও দেখেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফাঁকা বুলি দেন না এবং তিনি নরক উন্মোচনের জন্য প্রস্তুত।

ইরানের মাটিতে মার্কিন সেনা পাঠানোর ক্ষমতা ট্রাম্পের থাকলেও তিনি তা করতে কিছুটা দ্বিধান্বিত। কারণ এতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বাড়া নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এ পর্যন্ত যুদ্ধে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, ইরান বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তিনি পর্দার আড়ালে কখনও কূটনীতি, আবার কখনও হামলা বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ কেউ তাকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে সেটি ইতিহাসে তার বড় অর্জন হিসেবে গণ্য হবে।

যুদ্ধ শেষ করা শুধু ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তেহরান এখনও অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। কোনও সামরিক বিজয় বা চুক্তি ছাড়া যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধই থেকে যাবে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। ইসরায়েলও ইরানের হুমকিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াও তারা অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।

এদিকে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার পদাতিক সেনা পাঠাচ্ছে যাতে প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরণের বিকল্প খোলা থাকে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রাম্প ইরানের ভেতরে বা দেশটির দক্ষিণ উপকূলের দ্বীপগুলোতে ঝটিকা অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন। প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ মঙ্গলবার ট্রাম্পের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরাও এই আলোচনার অংশ। আমরা বোমা দিয়ে আলোচনা করি।’

ট্রাম্পের মতে, হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় কিছুটা ‘হতাশ’। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা সমঝোতায় আগ্রহী ছিল না, তারা কেবল জয় চেয়েছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি অঙ্গরাজ্যের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, ওই এলাকায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্ট অবস্থিত। উচ্চমূল্যস্ফীতি এবং ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা উদ্বিগ্ন যে যুদ্ধ তাদের রাজনৈতিক সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এত কিছুর মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সময় দিচ্ছেন। শুক্রবার মার-এ-লাগোতে এক চ্যারিটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমার আজ এখানে থাকার কথা ছিল না। আমার যুদ্ধ পরিচালনা করার কথা, কিন্তু যুদ্ধ খুব ভালোভাবেই চলছে।’

 

/এএ/
টাইমলাইন: ইরানে ইসরায়েলের হামলা
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
নিউ জিল্যান্ডের চার এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
সর্বশেষ খবর
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: যা আছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের