বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। ওমানের সরকারি বার্তা সংস্থা রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
ওমানি বার্তা সংস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, প্রণালিটি সচল করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য বিভিন্ন ‘বিকল্প’ নিয়ে এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ওমান ও ইরান উভয় দেশের সীমান্তই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির সঙ্গে যুক্ত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যত এই পথটি বন্ধ করে রেখেছে।
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর আকাশপথে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কোহগিলুয়েহ এবং বোয়ার-আহমদ প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা গত একদিনে ইরানের ১২০টিরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কেন্দ্রে হামলায় পাঁচ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আরদাবিল প্রদেশের মোগান সমভূমিতে হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পাঁচ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
ইরানের পাল্টা ড্রোন হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের বাপকো তেল স্থাপনায় লাগা আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। আবুধাবির বোরুগ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগায় সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের একটি রকেট দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি কারখানায় আঘাত হেনেছে। এতে ওই এলাকায় রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বীরশেবার নিওট হোভাভ শিল্পাঞ্চলে এই রকেট আঘাত হানে। যুদ্ধ শুরুর পর এই নিয়ে তৃতীয়বার সেখানে হামলা হলো।
এর আগে বীরশেবা এবং ডিমোনা লক্ষ্য করে ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সংকেত পেয়ে ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড সতর্কবার্তা জারি করেছিল। একই সঙ্গে লেবানন থেকে রকেট ছোড়ার পর আপার গ্যালিলিতেও সাইরেন বাজানো হয়।








