চিত্রনায়িকা পরীমণিকে মাদকের মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডলের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে শুনানিতে পরীমণির আইনজীবী মুজিবুর রহমান জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আসামিকে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর ফলাফল কী? তদন্ত কর্মকর্তা ৬ দিন পরে বলছেন, ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যাচ্ছে শব্দটা না বর্তমান, না অতীত।’ পরীমণির জামিন আবেদন করে আইনজীবী বলেন, ‘তার পাসপোর্ট জব্দ করতে পারেন। এই মহামারিতে তিনি যাবেন কোথায়? আসামি কখনোই পলাতক হবেন না।’
এ মামলায় আসামিকে ছাড়াই শুনানি শুরু হয় দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। পরীমণির আইনজীবীরা আদালতের কাছে আবেদন করেন আসামিকে আদালতে হাজির করে যেন জামিন শুনানি করতে পারেন তারা। সেই আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিদের ছাড়াই জামিন শুনানি করার আদেশ দেন আদালত।
৪ আগস্টের অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তার আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তা কী কী করতে পারবেন, কার অনুমতি নিয়েছেন, এসব স্পষ্ট না।’
জামিন আবেদনে পরীমণির আইনজীবী মজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘পরীমণি একজন প্রথম সারির চিত্রনায়িকা। “ফোর্বস ম্যাগাজিন”-এ ডিজিটাল তারকা হিসেবে বিশ্বের ১০০ জনের মধ্যে পরীমণির নাম রয়েছে; যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের জন্য গৌরবজনক। আসামি পরীমণি জেলহাজতে আটক থাকলে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে পরীমণির যে চুক্তি হয়েছে তা ভঙ্গেরও সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি “প্রীতিলতা” নামক একটি সরকারি সিনেমার জন্য ফটোশুট অলরেডি করা হয়েছে।’
আবেদনে আরও বলা হয়, পরীমণির বিরুদ্ধে ১৮ লিটার মদ ও অন্যান্য মাদক রাখার অভিযোগ করা হয়েছে, যা আসামির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। পরীমণি একজন “প্যানিক অ্যাটাক”র রোগী। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ হেফাজতে থেকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসার স্বার্থে আসামিকে জামিন দেওয়া হোক। তাছাড়া পরীমণিকে দুই দফায় ৬ দিন রিমান্ডে রাখার পর তার কাছ থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি। পরীমণি একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামি জামিন পেতে পারেন।
এর আগে শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে পরীমণি ও তার সহযোগীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত তাদের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং গত ৫ আগস্ট একই মামলায় পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।
৪ আগস্ট রাতে প্রায় ৪ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগীকে আটক করে র্যাব। তার বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় বলে জানানো হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাব সদর দফতরে। পরে র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণির বিরুদ্ধে মামলা করে।









