শারীরিক অসুস্থতাসহ চিত্রনায়িকা পরীমণি কয়েকবার রিমান্ডে ও ২৬ দিন ধরে কারাগারে থাকায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে আদালতকে জানান পরীমণির আইনজীবী মুজিবুর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইমরুল কায়েশের আদালতে আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা শুনানির পর পরীমণির জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, এতে পরীমণির মুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই। আমরা চেষ্টা করব পরীমণিকে যেন আজকের মধ্যে জেলহাজত থেকে বের করে নিয়ে আসা যায়।
মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় পরীমণি প্রিভিলেজ পাবে। আসামি চিত্রনায়িকা পরীমণি একজন নারী। তার মান-সম্মান রয়েছে, এছাড়া তার বেশ কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ-প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিচালকদের সাথে কনট্রাক্ট রয়েছে। সিডিউল ফেঁসে যাচ্ছে। এ মামলার তথ্যগত কোনও প্রমাণ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আসেনি।
দেশে আইনের শাসন রয়েছে। আদালতের ওপর আস্থা রাখতে হবে। তার বিরুদ্ধে আইস এলএসডি উদ্ধারের মামলাও রয়েছে। জামিন শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রুল পাওয়ায় নিম্ন আদালত পদক্ষেপ নিয়েছে। সে কারণেই আজ জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
এদিকে, জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু। তিনি বলেন, জামিন পাওয়া একটা অধিকার। তবে আমরা জামিনের বিরোধিতা করেছি। আদালত যেটা ভাল মনে করেছেন সেই আদেশ দিয়েছেন। এতে আমাদের কিছু করার নাই।
আবদুল্লাহ আবু বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি পরীমণির বাসায় মাদকসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে। বর্তমানে মাদক খুবই ভয়াবহভাবে বাংলাদেশে বিস্তার করেছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় তাকে জামিন দেওয়া ঠিক হবে না।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু পরীমণি একজন চিত্রনায়িকা, তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। তিনি অভিনয় করতে না পারলে, সেক্ষেত্রে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই দিকগুলো বিবেচনা করে বিজ্ঞ আদালত জামিন দিয়েছেন।









