আহত হওয়ার পরও হামলাকারীর খোঁজ-খবর নিয়েছেন ড. জাফর ইকবাল। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময় তিনি হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। সে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী নাকি বহিরাগত তা জানতে চাওয়ার পর বলেছিলেন, হামলাকারীকে যেন মারধর করা না হয়।
তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমির এবং সংগঠনের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রুহুল আমির বলেন,‘‘স্যারকে যখন ওটিতে নিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বলেন, ‘হামলাকারী কেমন আছে। ওকি আমাদের ছাত্র? ওকে যেন কেউ না মারে।’
ড. জাফর ইকবালের ওপরে হামলার ঘটনার বর্ণনাও দিয়েছেন রুহুল আমির। তিনি বলেন,‘শনিবার মুক্তমঞ্চে ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের অনুষ্ঠান চলছিল। মুক্তমঞ্চ থেকে ২০ গজ দূরে একটা ফুডকোর্টে কয়েকজন দলীয় কর্মী ও ছোটভাইকে নিয়ে চা পান করছিলাম আমি। এমন সময় হঠাৎ দেখি ইইই ডিপার্টমেন্টের ছেলেমেয়েরা দৌড়ে পালাচ্ছে আর চিৎকার করছে। তাদের চিৎকার শুনে দৌড়ে মঞ্চের ওপরে যাই। গিয়ে দেখি একটা ছেলে জাফর ইকবাল স্যারের মাথায় পেছন থেকে ছুরি মেরেছে। স্যার মাথা চেপে ধরেছেন। আমরা পৌঁছার আগেই আরেকটা কোপ মারে ছেলেটা। সঙ্গে সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে ছেলেটার হাত থেকে ছুরিটা কেড়ে নেয়। এসময় এক পুলিশ সদস্যের হাতও কেটে যায়। আমরা ছুটে এসে স্যারকে উদ্ধার করি। তখন আরও কয়েকজন ছেলে আসে তাদের কয়েকজন ছেলেটাকে আটক করে। দু’তিনজন আমাদের সঙ্গে চলে আসে। পাশেই স্যারকে নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশদলের মাইক্রোবাস ছিল একটা। সেটাতে স্যারকে উঠিয়ে আমরা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রওনা দেই।গাড়িতে ওঠার সময়েও স্যার মোটামুটি স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি বারবার আমাকে বলেন, ‘রুহুল আমার ব্লাড গ্রুপ এ পজিটিভ। রক্তের ব্যবস্থা করো।’ আমি বলি,‘স্যার করছি।’
এসময় আমরা উত্তেজিতভাবে কথা বললে তিনি বলেন, ‘তোমরা উত্তেজিত হয়ো না। আই অ্যাম অল রাইট।’
এরপর তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। তখন সেখানে ডিউটি ডাক্তার ছিলেন।তিনি স্যারকে দেখেন। এরপর স্পেশালিস্ট ডক্টররা ঘটনা জেনে ছুটে আসেন। স্যারকে যখন অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে যাওয়া হয় তখনও তার জ্ঞান ছিল। তিনি আমাদের বলেন,‘হামলাকারী কেমন আছে। ওকি আমাদের ছাত্র? ওকে যেন কেউ না মারে।’
উল্লেখ্য, শনিবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান চলাকালে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে পেছন থেকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে ২৪-২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। এরপর তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। তার মাথা, পিঠ ও হাতে ২৬টি সেলাই পড়েছে। তিনি এখন সম্মিলিত সামরিক হাসপতালে (সিএমএইচ) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হামলাকারী যুবকের নাম ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুর হাসান ওরফে ফয়জুল।হামলার সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হয় সে।বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখার পর তাকে প্রথমে পুলিশ ও পরে র্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করে। বর্তমানে সে পুলিশ পাহারায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন:
ফয়জুল জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী: র্যাব
জাফর ইকবালও কি জঙ্গি হামলার শিকার?
জাফর ইকবালের চিকিৎসায় বোর্ড গঠন
শাবিতে ড. জাফর ইকবালের মাথায় ছুরিকাঘাত
জাফর ইকবালকে দেখতে শিক্ষামন্ত্রী হাসপাতালে
জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীকে র্যাবে হস্তান্তর
জাফর ইকবালের পেছনেই দাঁড়িয়েছিল হামলাকারী যুবক
হামলাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সিলেট যাচ্ছে সিটিটিসি
অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বলছে আ. লীগ, বিএনপি’র দাবি চক্রান্ত
জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ
‘হামলার পর জাফর ইকবাল নিজেই আমাকে ফোনে খবর জানান’
জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
জাফর ইকবালকে হত্যার টার্গেটে রাখা হয়েছিল সবসময়: গণজাগরণ মঞ্চ
‘নিরাপত্তার মধ্যে তাৎক্ষণিক সুযোগ পেয়ে জাফর ইকবালের ওপর হামলা করা হয়’
হামলাকারীর বাড়িতে অভিযান শেষ: মামা আটক, বইপত্র-ল্যাপটপ-সিডি জব্দ
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জাফর ইকবালের ওপর হামলা
ফয়জুলের পরিবার দিরাই থেকে সিলেটে আসে ১৫ বছর আগে
‘জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তাকে মেরেছি’
মুক্তমনা মানুষদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার দাবি ঢাবির বর্তমান ও সাবেক ভিসির








