‘সাহেদ চতুর, ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু’ (ভিডিও)

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৫২, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৬, জুলাই ১৫, ২০২০

গ্রেফতারের পর সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের কর্ণধার সাহেদ করিম নিজেকে যতই ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করুক না কেন, সে মূলত চতুর ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু। সকালে এই পলাতক আসামিকে আটকের পরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি এসময় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন এবং কীভাবে তাকে ধরা সম্ভব হলো সেসব নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা থেকে আটক করে ঢাকায় আনার পর সাহেদ ও তার সঙ্গী গ্রেফতারকৃত মাসুদকে নিয়ে অভিযানে যায় র‍্যাব। সেখানে রিজেন্ট গ্রুপের এক কার্যালয় থেকে এক লাখ ৪৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

সে নিজেকে কখনও অবসরপ্রাপ্ত কখনও চাকরিরত সেনা কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতো। কখনও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব পরিচয় দিতো এবং সুকৌশলে ছবি তুলে সেটা ব্যবহার করতো। এমনকি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সাহেদ বালু, পাথর ব্যবসায়ীদের ভুয়া লাইসেন্স দিয়ে প্রতারিত করেছে।

১০ হাজার পরীক্ষায় ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট

তার বিরুদ্ধে অনেক মামলার বিষয়ে জানা গেছে। সেসবের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের নামে প্রতারণা করছিল উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিনামূল্যে পরীক্ষা করার কথা থাকলেও ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে নেওয়া হতো এবং পুনরায় পরীক্ষার জন্য ১০০০ গ্রহণ করতো। আইসিইউতে ভর্তি করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতো। এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের অধিক পরীক্ষা করে ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে সাহেদের প্রতিষ্ঠান। একদিকে রোগীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, আরেক দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিলেরও জন্য জমা দিয়েছে সাহেদের হাসপাতাল রিজেন্ট।

কোথায় আত্মগোপনে ছিল

গত কয়দিন সে কোথায় ছিল জানাতে গিয়ে ডিজি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একেকদিন একেক জায়গায় আত্মগোপনে ছিল। ঢাকা কক্সবাজার সাতক্ষীরা অঞ্চলে সুকৌশলে আত্মগোপনে ছিল সে। দেড়হাজার কোমড়পুর সীমান্তে লবঙ্গবাতি খাল দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করলে সে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কীভাবে ধরা হলো

কীভাবে এই প্রতারককে ধরা হলো সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে র‌্যাবের ডিজি বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা জেনেছেন সাহেদ কী মানের প্রতারণার কাজ করতে পারে। গত কয়েকদিন ধরেই সে এক জায়গা থেকে এক জায়গা পরিবর্তন করছিল। আমরা তাকে ফলো করেছি। এবং সবশেষে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছি। ঢাকা কবে ছেড়েছে প্রশ্নে র‍্যাব মহাপরিচালক জানান, সে ঢাকা ছেড়েছে আবার ঢাকায় ফিরেছে, আবার বেরিয়েছে। এসবের মধ্যেই ছিল। এই পুরো সময়টাতে সে কখনও ব্যক্তিগত গাড়ি, কখনও হেঁটে, কখনও ট্রাকে চলাচল করছিল। অবশেষে নৌকা দিয়ে পার হওয়ার সময় আমরা তাকে ধরতে সক্ষম হয়েছি।

বুধবার (১৫ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার কামালপুর গ্রামে লবঙ্গবতী খালের পাশ থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এসময় তিনি নদী পার হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সাহেদ নৌকায় ওঠার পরপরই তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেন র‍্যাবের সদস্যরা। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়।

গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এরপর থেকেই পলাতক ছিলেন হাসপাতালটির মালিক মোহাম্মদ সাহেদ। ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করা হয়। ৯ জুলাই সাহেদের মুখপাত্র তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে এবং ১৪ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বুধবার ভোরে সাহেদকেও গ্রেফতার করা হলো।

আরও পড়ুন:

আজই ডিএমপিতে হস্তান্তর করা হবে সাহেদকে

‘সাহেদ চতুর, ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু’

ঘন ঘন জায়গা পরিবর্তন করছিলেন সাহেদ

বোরকা পরে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সাহেদ: র‍্যাব 

সাহেদ গ্রেফতার 

সাহেদের খোঁজে সাতক্ষীরাজুড়ে দিনরাত চলে চিরুনি অভিযান
প্রতারণার জগতে সাহেদ আইডল: র‌্যাব

সাহেদ ও সাবরিনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

মৌলভীবাজারে খোঁজ মেলেনি সাহেদের 

রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা মামলা ডিবিতে

রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ গ্রেফতার

রিজেন্টের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর চুক্তি করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে

সাহেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

যেভাবে উত্থান সাহেদের

সাহেদের অপরাধের বিচার চান স্ত্রীও

রিজেন্ট হাসপাতালের ভবনগুলো দখল করেছিলেন সাহেদ

রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ গ্রেফতার

 

/এআরআর/ইউআই/এফএএন/এপিএইচ/এমএমজে/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ